আর্জেন্টিনার হয়ে এবার “ঝটিকা অবসর” নিচ্ছেন লিওনেল মেসি?

আর্জেন্টিনার হয়ে এবার "ঝটিকা অবসর" নিচ্ছেন লিওনেল মেসি?

এর আগে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরে বিধ্বস্ত, আশাহত মেসি একবার জাতীয় দল ছেড়েছুড়ে চলে গিয়েছিলেন, নিয়েছিলেন অবসর। নতুন কোচ এডগার্ডো বাউজা সেবার অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে দলে ফেরত এনেছিলেন মেসি কে। সেবার কোপা হারা মেসির উপর এবারের বিশ্বকাপটা ছিল একরকম “মারো অথবা মরো” ধরণের গুরুত্বপূর্ণ। জিতলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হবার হাতছানি, হারলে ক্রুইফ, পুসকাসদের মত ট্র্যাজিক হিরো হবার ভয়। মেসির দুর্ভাগ্য, শেষটাই হয়েছেন তিনি। যদিও এখন তাঁর বয়স ৩১, সামনের কাতার বিশ্বকাপের সময় তাঁর বয়স হবে ৩৫। তাঁর আগে একটা কোপাও খেলতে পারবেন ৩৩ বছর বয়সে। গুরু ডিয়েগো ম্যারাডোনা যেখানে জাতীয় দলে ৩৫ বছর পর্যন্ত খেলে গেছেন, মেসিরই বা কি সমস্যা? আর শেষ বয়সে এসেই পরম আরাধ্য শিরোপার দেখা মেলে অনেক দিগ্বিজয়ী বীরের, ক্রিকেটের শচিন টেন্ডুলকারই তাঁর সবচেয়ে বড় উদাহরণ! তাই চাইলে সে পর্যন্ত মেসি খেলা চালিয়ে যেতেই পারেন!

কিন্তু প্রশ্ন হল, মেসি নিজেই কি আদৌ চান সে পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে? হয়ত চান, হয়ত চান না! হয়তো সেই ২০০৬ বিশ্বকাপের পর থেকে আর্জেন্টিনাকে একা বইতে বইতে ক্লান্ত মেসি এবার নিজেই চাচ্ছেন আর্জেন্টিনার হয়ে বেছে বেছে ম্যাচ খেলতে। যে কারণে শোনা যাচ্ছে, ভারপ্রাপ্ত কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে এই বছর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রীতি ম্যাচগুলো খেলবেন না লিওনেল মেসি। এই সেপ্টেম্বরেই বেশ কয়েকটা প্রীতি ম্যাচ আছে আর্জেন্টিনার, সে ম্যাচগুলো না খেলতে চাওয়ার কথা এর মধ্যেই বলে কোচকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার হয়ে এবার "ঝটিকা অবসর" নিচ্ছেন লিওনেল মেসি?

মেসি হয়তো বুঝতে পেরেছেন, আস্তে আস্তে পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে এসে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার দিন চলে এসেছে। দলে নিয়মিত ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন পাওলো ডিবালা, মাউরো ইকার্দি, লওতারো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান পাভনের মত তারকারা। তাই মেসি না চাইলেও একদিন না একদিন আর্জেন্টিনাকে মেসিহীন হয়ে খেলতেই হবে। তাই এখন থেকেই আস্তে আস্তে সেসব দিনগুলোর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া ভালো, তাই না? মেসি তো আর আজীবন থাকবেন না!

আর তাছাড়া এমনিতেও, ৩৫ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার জন্য স্প্যানিশ লা লিগার মত কঠিন লিগে বার্সেলোনার হয়ে এই চার বছর নিয়মিত খেলে আবার জাতীয় দলে একই রকম চাপ নিতে পারাটাও বেশ ঝক্কির কাজ। তাই হয়তো মেসি আস্তে আস্তে নিজের স্ট্যামিনা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার করছেন সামনের চার বছর, অর্থহীন প্রীতি ম্যাচে খেলার গুরুত্ব তো আর কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপ খেলার মত নয়! এই সেপ্টেম্বরে এমনিতেই আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচ খেলবে গুয়াতেমালা ও কলম্বিয়ার সাথে। এসব অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ না খেলে কোপা আমেরিকার জন্য নিজেকে উদ্যমী রাখাটাই মেসির উদ্দেশ্য এখন!

আর তাছাড়া রাশিয়া বিশ্বকাপের সময়েই দেখা গেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও তৎকালীন কোচ হোর্হে সাম্পাওলির মধ্যে কি পরিমাণ সার্কাস চলেছিল। অব্যবস্থাপনা, দলীয় কোন্দল, কোচ ও অ্যাসোসিয়েশনের সাথে দলের বনিবনা না হওয়া – এসব কিছুই আর্জেন্টিনাকে মাঠের বাইরেও তটস্থ করে রেখেছিল। এসব বিষয়গুলো ঠিক না হলে, দলের মধ্যে কাঠামোগত উন্নয়ন না হলে মেসি একা আর কত টানবেন এই ধ্বজভঙ্গ দলকে? তাই আপাতত দলের বাইরে থেকে মেসি দেখতে চান কোপার আগে এসব সময়ার কি আদৌ সমাধান হয় কি না। আর এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে ভারপ্রাপ্ত কোচ লিওনেল স্কালোনিকে, যিনি নিজে ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির সতীর্থ ছিলেন। পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে মেসিদের নতুন কোচ হবার ব্যাপারে যারা এগিয়ে আছেন তারা হলেন – রিভারপ্লেটের কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো, সাবেক আর্জেন্টিনা কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়া ও লিওনেল স্কালোনি।

আপাতত “ঝটিক অবসর” এ যাওয়া লিওনেল মেসি কবে জাতীয় দলের জার্সি পরবেন আবার, আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা কেউ জানেন না মেসি ছাড়া। তবে ২০১৯ কোপা আমেরিকার আগে অবশ্যই, সেটা বলেই দেওয়া যায়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − 2 =