জয় হল প্রতিবন্ধকতা

ইংল্যান্ডের শারীরিক প্রতিবন্ধী দলটিকে কাছ থেকে দেখার পর বাংলাদেশের ছেলেরা একটু ভড়কে গিয়েছিল। ইংল্যান্ডের দলটি খুবই স্মার্ট এবং অনেক আধুনিক। অত্যাধুনিক কৃত্রিম পা বা অঙ্গ আছে অনেকের, না জানা থাকলে বা খুব গভীর ভাবে না দেখলে তাদের শারীরিক ঘাটতি বোঝাই যায় না। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের দলের ছেলেরা ওই মানের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তির ছোঁয়া পাওয়ার ধারে কাছে যেতে পারেনি।

ইংল্যান্ডের দলটির প্রস্তুতিও ভালো্। অনেক দিন ধরে এক সঙ্গে খেলছে দলটি, দুই দফা সিরিজ খেলেছে পাকিস্তানের দলটির বিপক্ষে। ইসিবির নিয়মিত তদারকিতেও আছে তারা। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের যে স্পন্সর, সেই waitrose এই শারীরিক প্রতিবন্ধী দলেরও স্পন্সর। দলটির কথাবার্তা, চালচলন, অনুশীলন, সবকিছুই অনেক গোছানো, সবকিছু থেকেই পেশাদারীত্বের একটা আবহ ঠিকরে বেরোয়।

আমাদের দলটি অনেকটাই সাদামাটা। ইংলিশরা এমন সব ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে, আমরা যেগুলো আগে দেখিওনি অনেকে। আমাদের দলটির প্রস্তুতি মাত্র ৩-৪ মাসের। শারীরিক ভাবেও ওরা বেশ বড়সড়, অনেক বেশি ফিট আমাদের তুলনায়। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের ছেলেরা বেশ ভড়কে গিয়েছিল শুরুতে। আমাদের কোচরা বলছিলেন, ছেলেরা একটু কমপ্লেক্সেও ভুগছিলেন। সেটাই স্বাভাবিক।

মাঠে নামার পর সবকিছু উধাও! নিজেদের কমপ্লেক্স জয় করেছে আমাদের ছেলেরা। জয় করেছে শারীরিক আর প্রযুক্তির ব্যবধান। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আইসিআরসি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা।

এমনিতে এই টুর্নামেন্টে জয়-পরাজয় মূখ্য নয় মোটেও। চারপাশের মানুষের, সমাজের, এমনকি পরিবারের অবহেলা, ভ্রুকুটি সয়েও তারা ক্রিকেট আনন্দের আলো খুঁজে নিয়েছে, তাদের জয় হয়ে গেছে তাতেই। তার পরও মাঠের ক্রিকেটে, প্রতিযোগিতায় জয়ের উ্চ্ছ্বাস, তৃপ্তি, এসব আলাদা ব্যাপার। এই ছেলেদের নিজের প্রতি বিশ্বাস, জীবনের প্রতি বিশ্বাস নতুন উচ্চতা ছুঁয়ে ফেলবে নিশ্চিত। আমরাও পারি!

অভিনন্দন আলম খানের দলকে, অভিনন্দন বাংলাদেশ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + 3 =