জয়তু ইংল্যান্ড!

 

অনেকে ভেবেছিলেন, তারা উড়ে যাবে খড়কুটোর মতো। তারা উড়ে যায়নি, খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কিউইদের, মনে করিয়ে দিয়েছে ৯২ এর স্মৃতি। সাধারন হিসাবে গণ্ডগোল করে কেন উইলিয়ামসন বুঝিয়ে দিলেন, তার আরও সময় লাগবে তুখোড় অধিনায়ক হতে। আর যাদেরকে শুরুতে হিসাবেই ধরা হয়নি, সেই ইংল্যান্ড পৌঁছে গেল ফাইনালে।

শুরুটা কিউইদের, কিন্তু শেষটা? ইংল্যান্ডের! কি অসাধারন সব ইওরকার করলেন জর্ডান ও অন্যরা, আরে এটা তো সাধারন নিয়ম, কুড়ি বিশের বিষক্ষয় করতে গেলে ইওরকার দিতেই হবে, যত বেশি দেওয়া যাবে ততই হাঁসফাঁস করবেন বিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। শেষ চার ওভারে কিউইরা করল মাত্র ২০!

জেসন রয়!- এ বিশ্বকাপের সবথেকে বড় বিস্ময়ের নাম। ঠিক যেমনটা বলেছিলাম, বল হাতে ইওরকার আর ব্যাট হাতে বিগ হিটার, এই দুটি মিলে এ ফরম্যাটে বিধ্বংসী হওয়া সম্ভব, ইংলিশরা করলো ঠিক তাই! রয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উড়ন্ত শুরু এনে দিয়েছিলেন, ইংলিশরা টপকেছিল ২৩০ রানের পাহাড়। কাল সেই ভয়ঙ্কর সুন্দর রুপে রয় আবার দেখা দিলেন! প্রথম তিন ওভারে ৩৪ রান আর ৫ ওভারে ৬০ এই তো খেলা শেষ!

বলছিলাম- কেন উইলিয়ামসনের সাধারণ হিসাবে গোলমাল করে ফেলার কথা। রয় পেসারদের বিপক্ষে দারুন সচ্ছন্দ, তার সামনে ১৫১.২ কিমি গতির বল করা আত্মহত্যার শামিল না? সান্তনার অথবা সধি এবং গ্রান্ট এলিওটকে দিয়ে বোলিং ওপেন করালে হয়ত কিছু হতেও পারত তাদের পক্ষে!

দিন শেষে জয়টা সাহসী ইংলিশ সিংহদের প্রাপ্য। ইংলিশ সিংহ জেসন রয় এ বিশ্বকাপের সবথেকে বড় চমক। ভারত আসুক বা ক্যারিবিয়রা, দারুন একটা ফাইনাল হবে!

এসব দেখে নিজের দলের জন্য দুঃখও হয়। আমরা নতুন কিছু কেন ভাবতে পারিনা? কেন মিথুন আর হোমকে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলানো হয়? জিয়াউর রহমানের ধুন্ধুমার ব্যাটিং আর মিডিয়াম পেস এই উইকেটে আর এই ফরম্যাটে দারুন কাজে লাগতো। তিনি মিথুন বা হোমের জায়গায় খেললে ফলাফল আমাদের পক্ষেও আসতে পারতো। দীর্ঘশ্বাস!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × five =