এক গালিনহোর ইতিহাস : জিকো

এক গালিনহোর ইতিহাস : জিকো

ZICO, হিস্টোরি অফ GALINHO

তার আসল নাম Arthur Antunes Coimbra , কিন্তু সকলের কাছে পরিচিত ZICO নামে; পেলের পর গত শতাব্দীর সব থেকে জনপ্রিয় ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় জিকোর জন্ম হয় ব্রাজিলের রিও দে জানেইরো তে ১৯৫৩ সালের ৩ মার্চে। ১ বোন ও ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার ছোট। বাবার কোচিং নিয়ন্ত্রণে তারা ৫ ভাই মিলে তৈরী করেছিলেন এলাকার সবথেকে শক্তিশালী ৫ জনের টিম , যারা রিওর কুইন্টিনো মহল্লার ধুলোবালি মাখা রাস্তায় বিভিন্ন ছোট ছোট টুর্নামেন্ট খেলে বেড়াতো। বয়স এবং শারীরিক গঠন, দুই দিক থেকেই জিকো ছিলেন দলের সবথেকে ছোট খেলোয়াড়, কিন্তু বল পায়ে তার অতিমানবীয় প্রতিভা কুইন্টিনো মহল্লার রাস্তা পেরিয়ে সমস্ত রিও ছড়িয়ে যেতে মোটেও সময় লাগেনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই খেলা শুরু করেন রিও ও ব্রাজিলের অন্যতম নাম করা ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে এবং ১৯৭৩ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে গায়ে তোলেন ক্লাবের কাঙ্খিত ১০ নম্বর জার্সি যেটিকে জিকো নিয়ে যান ইতিহাসের চূড়ান্ত পর্যায়ে।

দলের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে প্রথম ঐতিহাসিক ম্যাচটি খেলেন যুগোস্লাভিয়ান ক্লাব ZELECINAR এর বিপক্ষে ; ফ্ল্যামেঙ্গো ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে ও জিকো একাই করেন ২ টি গোল। ম্যাচ শেষে ক্রীড়া প্রতিবেদক ও লেখক নেলসন রড্রিগেজ লিখেছিলেন :”জিকো এখন সেই পর্যায়ে চলে গিয়েছে যেই পর্যায়ের খেলোয়াড়রা বল পায়ে নিয়ে যা মন চায় তাই করতে সক্ষম।” সেই থেকেই শুরু হয় জিকোর কিংবদন্তীসম ইতিহাস, জন্ম হয় গ্যালিনহো (তার ডাকনাম) এর। ইতিমধ্যে ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দল হয়েও জিকো নিজের প্রতিভা তুলে ধরেন এবং তার ক্যারিয়ারের প্রথম প্রতিপক্ষ হচ্ছে ইতালি ; আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে ব্রাজিল ৪-১ গোলের ব্যবধানে ইতালির বিপক্ষে জয়লাভ করে যার মাঝে জিকোর ছিল একটি গোল।

নতুন দশকের শুরুতে জিকো তার ফ্ল্যামেঙ্গোকে নিয়ে সমস্ত বিশ্বের চূড়োয় উঠে যান ; ১৯৮০ সালে জিকো ফ্ল্যামেঙ্গোর হয়ে তার প্রথম লীগ জয়লাভ করেন। তার পরের বছর ১৯৮১ সালের ১২ মে একটি ঐতিহাসিক দিন ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ও জিকোর জন্য : সেলেসাও একটি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলতে আসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। ফুটবলের এই মন্দিরে ব্রাজিল দীর্ঘ ৬০ বছর পর প্রথমবারের মত জয় পায় এবং সেই জয়ের একমাত্র গোলটি করেন জিকো। সেই ম্যাচের পর থেকে জিকোকে ডাকা হয় সাদা-পেলে নামে এবং হয়ে যান পেলের পর সবথেকে পরিচিত ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়।

একই বছর চিলির ক্লাব COBRELOA এর বিপক্ষে ফাইনাল খেলে কোপা লিবের্তাদোরেসও (ল্যাটিন মার্কিন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ) জয়লাভ করেন জিকো। সেই বছর কাপ জয়ী নির্ধারণ করার জন্য খেলতে হয়েছিল ৩ টি ফাইনাল। প্রথম লেগে ফ্ল্যামেঙ্গো ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয় ও ২ টি গোলই করেন জিকো , দ্বিতীয় লেগে চিলিয়ান ক্লাব জয়লাভ করে এবং শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় একটি নিউট্রাল মাঠে ও সেখানে আবারও জয় পায় জিকোর ফ্ল্যামেঙ্গো এবং সেই ম্যাচের একমাত্র নায়ক হচ্ছেন জিকো। জিকো সেই ম্যাচে ২ টি গোল করেন যার একটি ছিল ফ্রি কিক থেকে। কাপ জয়ের কিছুদিন পর ০৬ ডিসেম্বর ফ্ল্যামেঙ্গো ২-১ গোলের ব্যাবধানে জয়লাভ করে ভাস্কো ডা গামার বিপক্ষে এবং দ্বিতীয়বারের মত ব্রাজিলিয়ান লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়। তার ৭ দিন পর জিকো তার ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর সাথে উড়ে যান দূর জাপানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনাল খেলার জন্য ; খেলা হবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী লিভারপুলের বিপক্ষে। ব্রাজিলিয়ান দের টেকনিক, পাসিং ও ফ্যান্টাসি এর সামনে রেডস রা সম্পূর্ণ অসহায় ছিল। প্রথমার্ধ শেষেই ফলাফল ছিল ফ্ল্যামেঙ্গো ৩ – ০ লিভারপুল এবং সবগুলো গোল আসে জিকোর পাস্ থেকে ; ম্যাচ শেষে জিকো ম্যান অফ দি ম্যাচ। সেটি ছিল ২০ দিনের মধ্যে তিন নম্বর ট্রফি – ক্লাবের জন্য এক সোনালী অধ্যায়, যেই অধ্যায়কে এখনও জিকো অধ্যায় হিসেবে মনে করা হয়।

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল আসে সুপার ফেভারিট হিসেবে , ব্রাজিলকে হারানোর মত কোনো দলই তখন ছিলোনা এবং জিকো ছিল সেই দলের হীরা। গ্রূপ স্টেজের খেলা দেখে মনে হচ্ছিলো ব্রাজিলের কাপ জিতা শুধুমাত্র একটা ফর্মালিটির বিষয়। গ্রুপ স্টেজে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-১, স্কটল্যান্ডকে ৪-১ ও নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ গোলের ব্যাবধানে হারিয়ে ব্রাজিল দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যায় ও জিকো করেন ৩ টি গোল। দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল একই গ্রুপে পড়ে ইতালি ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয়লাভ করে ও ম্যান অফ দি ম্যাচ ছিলেন জিকো। সেমিফাইনালে খেলার জন্য দ্বিতীয় ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে ব্রাজিলের জন্য একটি ড্র-ই যথেষ্ট ছিল ; খেলার মাঠে জিকোকে ছায়ার মত করে মার্ক করেন ইতালিয়ান CLAUDIO GENTILE যিনি কিনা সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে যা ঘটে সেটা পৃথিবী নামক গ্রহের কেউ কখনো চিন্তাও করতে পারেনি ; ইতালি ৩-২ গোলের ব্যাবধানে তৎকালীন বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে চলে যায়। সামান্য ড্র যথেষ্ট হলেও ব্রাজিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ও ম্যাচ শেষে পরাজিত হয়ে যায়। এটিই ছিল জিকোর ক্যারিয়ারের সবথেকে বাজে মুহূর্ত। বিশ্বকাপের হতাশা কিছুটা হলেও দূর হয় ১৯৮৩ সালে যখন ফ্ল্যামেঙ্গো আবারও লীগ জয় করে এবং এবারও সেই লীগের একক নায়ক ছিলেন গালিনহো, জিকো।

৩০ বছর বয়সে এসে মারাকানার আইডল জিকো চাচ্ছিলেন নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন চ্যালেঞ্জ আর এর জন্য ইতালি থেকে ভালো কোনো জায়গাও তখন ছিলনা কারণ এখানেই খেলতেন তৎকালীন বিশ্বের প্রায় সমস্ত তারকারা। মিলান, জুভেন্টাস, রোমা জিকোকে দলভুক্ত করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা নিয়ে প্রস্তুত ; কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি যে এতো ধনী ক্লাবের মাঝে থেকে উদিনেসের মত একটি মাঝারি ক্লাব জিকোকে দলে আনতে সক্ষম হবে। তৎকালীন রেকর্ড তিন মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে উদিনেসে জিকোকে দলভুক্ত করে। জিকো ইতালিতে হাজির হন একজন সুপারস্টার হিসেবে। এয়ারপোর্টে জিকোকে যেভাবে বরণ করে নেওয়া করা হয় কোনো রাষ্ট্র নায়কদেরও সেইভাবে করা হয়না। ৭ দিন পর উদিনেসের মাঠে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয় যেখানে জিকোর নতুন ক্লাব উদিনেসে মুখোমুখি হয় জিকোর সাবেক ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর। উদিনেসে বাসীদের জন্য সে ছিল একটি স্বপ্নের মত। পরবর্তী প্রীতি ম্যাচগুলোতে যেখানেই জিকো খেলতে যেত সেখানেই জনসমুদ্রের সৃষ্টি হতো। জিকোর খেলা এক নজর দেখার জন্য স্টেডিয়ামে হাজির হতো ছোট-বড়-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সকলেই। উদিনেসের মানুষ প্রতি ম্যাচে দেখতে পেতো ফুটবলের ঝলক ও একজন মানুষ বল পায়ে কি করতে সক্ষম তা দেখে সকলেই অবাক হয়ে যেত। রিয়েল মাদ্রিদের মত ক্লাব পর্যন্ত উদিনেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়।

গ্রীষ্মকালীন প্রস্তুতিপর্বের পর অবশেষে শুরু হয় লীগ এবং উদিন এর বাসিন্দারা কখনোই এতটা আগ্রহের সাথে লীগের জন্য অপেক্ষা করেনি। প্রথম ম্যাচেই উদিনেসে জেনোয়াকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে ও জিকো ২ টি গোল করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে উদিনেসের মাঠে অভিষেক ম্যাচে জিকো গোল করেন আরও ২ টি ও উদিনেজে ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। লীগের প্রথম বিগ ম্যাচে উদিনেসে খেলে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন রোমার বিপক্ষে ও সেই ম্যাচেও জিকোর গোলে উদিনেসে জয়লাভ করে। জিকোর খেলা ছিল খেলার মাঝে আরেকটি খেলা যা দেখার জন্য প্রতিপক্ষরাও পর্যন্ত অপেক্ষা করতো গভীর আগ্রহ নিয়ে। সেই বছর এমন একটি ঘটনা ঘটে যা ইতালিয়ান সিরি আ তে আগে কেউ কখনো দেখেনি। উদিনেসে লীগের একটি ম্যাচ খেলতে গিয়েছে কাতানিয়ার মাঠে। জিকো ফ্রি কিক থেকে একটি ম্যাজিক্যাল গোল করেন এবং গোলের পর হোম টিমের প্রতিটা দর্শক পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যায় ও সবাই মিলে জিকোর সেই ম্যাজিক কে হাত তালি দিতে থাকে। ইতালিয়ান ফুটবলে এমন দৃশ্য এই প্রথম। উদিনেসে যখন লীগের জন্য লড়াই করছিলো এমন সময় ক্লাবের মাঝে তৈরী হয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও কোচের মাঝে ঝগড়ার পর কোচ পদত্যাগ করেন এবং শুরু হয় ক্লাবের জন্য এক বাজে অধ্যায় শেষ হয় ৯ নম্বর পজিশন দিয়ে। ব্যক্তিগত ভাবে জিকো অবশ্য ১৯ টি গোল করেন যা ছিল প্লাতিনি থেকে মাত্র ১ টি কম।

ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রভাব অব্যাহত থাকে দ্বিতীয় বছরেও ; মৌসুমের শুরুতে ক্লাব ছেড়ে চলে যান CAUSIO ও VIRDIS দের মত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় যদিও জিকো তার জায়গায় থেকে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জানুয়ারিতে জিকো একটি ইনজুরিতে পড়ে মৌসুমের অধিকাংশ সময় মাঠের বাহিরে থাকেন ; ফিরে আসেন মৌসুমের শেষ মুহূর্তে ও ফিরে এসেই গোল করেন ইন্টার ও জুভেন্টাসের বিপক্ষে।

ইনজুরির সমস্যার সাথে সাথে ইতালিয়ান ইনকাম ট্যাক্স অফিসের সাথেও জিকোর কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যদিও পরবর্তীতে জিকো নির্দোষ প্রামাণিত হন। উভয় সমস্যায় জর্জরিত হয়ে জিকো ও উদিনেসে দুই পক্ষই এগ্রিমেন্ট হয়ে চুক্তি শেষ করে দেয় ও জিকো ব্রাজিলে ফিরে যান তার প্রিয় ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। কিন্তু ১৯৮৫ সালে প্রতিপক্ষ একজন ডিফেন্ডারের মারাত্মক ফাউলে জিকো বাম পায়ের হাঁটুতে চোট পান। হাঁটুতে অপেরেশনের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাহিরে থাকেন। ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিকো মাঠে ফিরে আসেন কিন্তু আবারও হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন। এপ্রিল মাসে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে পুনরায় মাঠে ফিরে আসেন যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ও ফিরে এসেই হ্যাটট্রিক করেন ও ব্রাজিল ৪-২ গোলের জয়লাভ করে।

কিন্তু হাঁটুর ব্যথা তখনও দূর হয়নি ; বিশ্বকাপের আগে আবারও অপেরেশনের প্রয়োজন দেখা দেয় যার অর্থ হচ্ছে বিশ্বকাপ মিস করা। কিন্তু এ কি সম্ভব ? জিকো শত কষ্ট সত্ত্বেও বিশ্বকাপ খেলার জন্য অপারেশন থেকে বিরত থাকেন ও ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকোতে হাজির হন বিশ্বকাপ খেলার জন্য। হাঁটুর ব্যাথার কারণে কোচ তাকে কোনো ম্যাচেই শুরু থেকে খেলাননি এবং শুধু মাত্র ম্যাচের শেষ দিকেই মাঠে নামাতেন। কোয়ার্টার ফাইনালে প্লাতিনির ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলা চলাকালীন ফলাফল যখন ১-১ অবস্থায় ছিল তখন কোচ মাঠে নামান জিকো কে। মাঠে নামার ১ মিনিট পরেই প্রথম টাচেই এসিস্ট করে গোলের সুবর্ণ এক সুযোগ করে দেন ; স্ট্রাইকার BRANCO গোলকিপারকে কাটাতে গেলে গোলকিপার তাকে ফাউল করে বসে ও ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। কিন্তু সেলেসাও এর জন্য দুর্ভাগ্য যে জিকোই সেই পেনাল্টিটি মিস করে বসেন। খেলা পেনাল্টি শুট আউট পর্যন্ত গড়ায় , জিকো এবার গোল করলেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সই জয়লাভ করে। সেই ম্যাচে জিকো ছাড়াও পেনাল্টি মিস করেছিল প্লাতিনি, সক্রেটিস ও জুলিও চেসার দের মত লিজেন্ডারি খেলোয়াড়রাও। জিকোর সবথেকে বড় এক দুঃখ, তিনি বিশ্বকাপের একটি ফাইনালও খেলতে পারেননি, যদিও সেই সময় ব্রাজিল ছিল কাপ জয়ের মত একটি দল।

বিশ্বকাপ শেষে জিকো ২ বার হাঁটুতে অপারেশন করান এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচের ঠিক এক বছর পর পুনরায় মাঠে ফিরে আসেন। ১৯৮৯ সালের ২৭ মার্চ জিকো পুনরায় ফিরে আসেন ইতালির উদিনে শহরে ব্রাজিল ও রেস্ট অফ দি ওয়ার্ল্ড এর মাঝে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য। সেটিই ছিল জাতীয় দল হয়ে জিকোর বিদায়ী ম্যাচ। উদিনের মানুষ তাকে এতটাই ভালোবেসেছিলো যে এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত বিশাল জনতার ঢল জিকোকে অনুসরণ করতে থাকে ।

জাতীয় দলের পর ভালোবাসার ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো থেকেও অবসর নেন ১৯৯০ সালের ০৬ ফেব্রুয়ারি। ফ্ল্যামেঙ্গোর হয়ে জিকো খেলেছেন ৭৩০ টি ম্যাচ ও গোল করেছেন ৫০৮ টি। কিন্তু এটিই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ নয়। ৯০ দশকের প্রথম দিকে তিনি শুরু করেন নতুন এক অ্যাডভেঞ্চার। যোগ দেন জাপানিজ ক্লাব KASHIMA ANTLERS এ এবং সেখানে আরও ৮৮ টি ম্যাচ খেলেন ও সেই জার্সি গায়েই তিনি করেছেন তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের সবথেকে সুন্দর গোল : একটি স্করপিয়ন গোল। জাপানে ৪ বছর কাটিয়ে ১৯৯৪ সালে অফিসিয়ালি তিনি সব ধরণের ফুটবল থেকে অবসর নেন।

আজ জিকো অবসরে রয়েছে কিন্তু রয়ে গিয়েছে তার অজস্র ম্যাজিক ও তার প্রতি কোটি কোটি ফুটবল ভক্তদের ভালোবাসা যা কখনো অবসরে যাওয়ার মত না।

লেখা – আরাফাত ইয়াসের

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × three =