চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল মানেই ক্রোয়েশিয়ানদের দাপট!

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল মানেই ক্রোয়েশিয়ানদের দাপট!

হেডলাইন পড়ে চমকে উঠলেও কিছু করার নেই। রেকর্ডটা এরকমই চমকপ্রদ। হিসাব করে দেখুন, ২০১৩ এর পর থেকে প্রত্যেক চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেই কোন না কোন ক্রোয়েশিয়ানের সরব উপস্থিতি আছেই! ক্রোয়েশিয়ানদের কাছে এই রেকর্ডটা অবশ্যই অনেক গর্বের। কিন্তু কিভাবে? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ আর বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ইউর্গেন ক্লপের উদ্যমী ডর্টমুন্ডের সামনে ইয়ুপ হেইঙ্কেসের মহাশক্তিধর বায়ার্ন। আরিয়ান রোবেনের শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ গোলে ম্যাচ জেতা বায়ার্নের প্রথম গোলটা কিন্তু করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার মারিও মান্দজুকিচ!

এর পরের বছরের ফাইনালে মুখোমুখি হল রিয়াল মাদ্রিদ আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। সেবার রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ। ট্রফিও জিতলেন তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে, অ্যাটলেটিকোকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ।

২০১৫ সালের ফাইনালে মুখোমুখি এবার বার্সেলোনা আর জুভেন্টাস। ৩-১ গোলে জুভেন্টাসকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল বার্সেলোনা। বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলটা করলেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচ!

২০১৬ সালের ফাইনালে আবারও রিয়াল মাদ্রিদ, আর রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবারো লুকা মডরিচ, সাবস্টিটিউট বেঞ্চেও ছিলেন সেবার আরেক ক্রোয়েশিয়ান – মাতেও কোভাচিচ। আবারও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১-১ স্কোরে শেষ হওয়া ম্যাচে পরে পেনাল্টিতে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে জিতে নেয় রিয়াল। ট্রফিকেসে সাজানোর জন্য আরেকটা ট্রফি পান মডরিচ ও কোভাচিচ।

২০১৭ সালে ফাইনালে মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাস। রিয়াল স্কোয়াডে যথারীতি ছিলেন মডরিচ আর কোভাচিচ, ওদিকে জুভেন্টাসে ছিলেন সেই মারিও মানজুকিচ। মানজুকিচের অসাধারণ এক গোলের পরেও সেবার রিয়ালকে হারাতে পারেনি তারা, অতিমানব ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আরেকটা শিরোপা এনে দেন রিয়াল মাদ্রিদকে।

আজকেও আরেকটা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, এবং যথারীতি আজকের ফাইনালেও আছে ক্রোয়েশিয়ানদের উপস্থিতি। রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডে আছেন যথারীতি লুকা মডরিচ ও মাতেও কোভাচিচ, ওদিকে লিভারপুলের ডিফেন্স সামলাবেন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার দেয়ান লভরেন। লিভারপুল বা রিয়াল মাদ্রিদ, যে-ই জিতুক না কেন, জয়মাল্য কোন না কোন ক্রোয়েশিয়ানের গলায় উঠছেই, এটা নিশ্চিত!

তাই বলে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে শুধুমাত্র গত কয়েক বছরেই যে ক্রোয়েশিয়ানদের আধিপত্য, বিষয়টা কিন্তু সেটা না। ১৯৭১ সালের ফাইনালে আয়াক্সের হয়ে শিরোপা জিইতেছিলেন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার ভেলিবোর ভাসোভিচ। তখন যদিও ক্রোয়েশিয়া নয়, আরও কটা দেশ মিলিয়ে যুগোশ্লাভিয়া বলেই পরিচিত ছিল তারা। ১৯৯১ সালের ফাইনালটা তো এক যুগোশ্লাভ ক্লাবই জিতে নেয় – রেড স্টার বেলগ্রেড। ফরাসী ক্লাব মার্শেইকেপেনাল্টিতে ৫-৩ গোলে হারানো সেই ক্লাবে একজন বাদে সবাই ছিলেন যুগোশ্লাভ। এমনকি মার্শেইয়ের হয়েও সেবার স্কোয়াডে ছিলেন আরেক যুগোশ্লাভ – দ্রাগান স্টইকোভিচ। আবার এই মার্শেইয়ের হয়েই ১৯৯৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল জিতে নেন অ্যালেন বকসিচ। রেড স্টার বেলগ্রেডের হয়ে ১৯৯১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা দেয়ান সাভিসেভিচ এসি মিলানের হয়ে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন ১৯৯৪ সালে এসে। সেবার ঐ এসি মিলান দলে ছিলেন আরও এক যুগোশ্লাভ – জভোনিমির বোবান। একই কীর্তি গড়েন ভ্লাদিমির ইউকোভিচ, ১৯৯১ সালে রেড স্টার বেলগ্রেডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর ১৯৯৬ সালে এসে আবারও জেতেন জুভেন্টাসের হয়ে। ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার ডেভর সুকার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতে নেন ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেই চ্যাম্পিয়ন লিগ ফাইনালে আবার গোল করে মাদ্রিদকে শিরোপা জেতান আরেক ক্রোয়েশিয়ান – প্রেদ্রাগ মিয়াতোভিচ! লিভারপুলের হয়ে ২০০৫ সালে শিরোপা জিতে নেন মিডফিল্ডার আইগর বিসকান!

সুতরাং বলা যেতে পারে, চ্যাম্পিয়ন লিগ ফাইনালের সাথে ক্রোয়েশিয়ানদের মিষ্টিমধুর সম্পর্ক সবসময়েই ছিল!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 2 =