চির উন্নত মম শির

বল বীর,
চির উন্নত মম শির
শির নেহারি আমারি, নত শির ঐ শিখর হিমাদ্রির!
বাধ্য হলাম জাতীয় কবির ভাণ্ডার থেকে ধার করতে। বঙ্গসন্তানেরা আজ যে খেল দেখালেন, তাতে এর থেকে উত্তম ব্যাখ্যা আর কোন কবিতায় সম্ভব নয়। স্বয়ং ক্রিকেটই অনেক সময় কবিতার থেকেও উত্তম কবিতার জন্ম দেয়, আজ হয়েছে সেরকম। এবারের বিশ্বকাপের অপরাজেয় দল নিউজিল্যান্ডের সাথে সেয়ানে সেয়ানে লড়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলেও মাথা উঁচু করেই কোয়ার্টারের সিঁড়িতে পা দিলো বাংলাদেশ।
সকালের সূর্য সব সময় সঠিক আভাস দেয় না দিনের, যদি তা দিত, তাহলে আজকে আমাদের কপালে লজ্জাতিলক আঁকা হতো, সম্মান-চন্দন নয়। কারন হ্যামিল্টনে প্রথমে ব্যাটিঙের আমন্ত্রন গ্রহণ করে বোল্ট-সাউদির গতি আর সুইঙ্গের তোপে দিশেহারা হয়েছিলো দল, দুই ওপেনার বিদায় নিয়েছিলেন।

আবারও ব্যর্থ ওপেনাররা
আবারও ব্যর্থ ওপেনাররা

সেখান থেকে একটু বুঝেশুনে নিয়ে পাল্টা আঘাত হানলেন সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ। এই সময়ে ম্যাককালাম এমন ফিল্ড সাজিয়েছিলেন, দেখে মনে হচ্ছিলো পারলে গিলে খেয়ে ফেলবেন! পাঁচ স্লিপের ফিল্ড এ যুগে একদিনের ম্যাচে বিরলতম দৃশ্য, আর সেটা আবার দেখালেন কিউই সেনাপতি। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে আরও খুলেছে সৌম্যর হাত। এই বিশ্বকাপের সৌম্যকে দেখে ২০০৭ এর তামিমকে মনে পড়ে যায়, সেই ভয়ডরহীন ব্যাটিং, সব সময় ইতিবাচক খেলা আর একইভাবে ৪০-৫০ এর বেশি করতে না পারা।

যথারীতি দুর্দান্ত ছিলেন সৌম্য
যথারীতি দুর্দান্ত ছিলেন সৌম্য

আজ অবশ্য নিজের প্রথম অর্ধশতক করেছেন,৫১ রানে ফিরেছেন ভেট্টরির ঘূর্ণিজাল ছিঁড়তে গিয়ে। এরপর সাকিব, মুশফিক, সাব্বিরের সাথে ব্যাট করেছেন মাহমুদউল্লাহ। সাব্বির শেষের দিকে প্রলয় নাচন নাচিয়েছেন ব্যাট হাতে। অবাক হতে পারেন, এখনও মাহমুদউল্লাহ্‌র কথা বলছিনা কেন? আরে ভাই, তার মাহাত্ম্যর কথা বর্ণনা করতে গেলে এটা এত বড় হবে যে, আপনারাই ‘ধুত্তরি, প্রতিবেদন লিখেছে না মহাকাব্য!?’ বলে নাক সিটকাবেন তো।

টানা দ্বিতীয় শতক মাহমুদুল্লাহর
টানা দ্বিতীয় শতক মাহমুদুল্লাহর

তাই শুধু এটুকু বলে রাখি, টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে রেকর্ড বইয়ের অত্যন্ত অভিজাত কিছু পাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। আর হৃদয়ে হৃদয় এঁকে এবং উড়ন্ত চুমু দিয়ে উদযাপনটাও ছিল দেখার মতো এর জন্য সকালে তার ক্যাচ ফেলা কোরি অ্যান্ডারসনকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন তিনি।

208471
এই প্রথম এবারের বিশ্বকাপে কিউইদের বিপক্ষে কোন দল ৫০ ওভার ব্যাট করলো। ২৮৮ রানটাও নেহায়েত কম নয়। কিউই ফর্মুলা দিয়েই কিউইদের বশে এনেছিলেন সাকিব। কি সেটা? শুরুতেই ঘূর্ণির মায়া তৈরি করা। সাকিব নিজেই সেটা করলেন এবং বি ম্যাক- মানে কিউই সেনাপতি আর কেন উইলিয়ামসন সেটাতেই ধরা!

শুরুতেই জোড়া আঘাত হানেন সাকিব
শুরুতেই জোড়া আঘাত হানেন সাকিব

একটু পর গাপটিলও যেতেন ফিরে, যদি রিভিউ নেওয়া হতো রুবেলের বলে তার এলবির আবেদনের। সেই গাপটিল সংহারমূর্তি ধারন করলেন আর অন্যদিকে টেলর খেলতে লাগলেন টেস্ট!

সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরি দিয়ে দিয়েছেন মার্টিন গাপটিল
সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরি দিয়ে দিয়েছেন মার্টিন গাপটিল

এক সময় মনে হচ্ছিলো গাপটিল শতক হাঁকিয়ে ফিরেছেন তো কি হয়েছে, টেলরকে ফেরানোর দরকার নেই! তিনি এভাবে ঘুমালেই তো আমরা জিতি আরকি! তিনি ফিরলেন নাসিরের বলে এলবি হয়ে আর সেটার রিভিউ নিয়ে সৃষ্টি করলেন হাস্যরসের।
শেষ পর্যন্ত ৪৯ তম ওভারে সাউদি সাকিবকে পর পর দুটি বড় শটে বল বাইরে পাঠিয়ে কিউইদের জয় এনে দিলেন। তবে সাকিবের অধিনায়কত্ব প্রশ্নবিদ্ধ না হয়ে যায়না। কারন, ৪৮ তম ওভারে বা ৪৯ তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করা রুবেল কে বল না দিয়ে সেই ঘূর্ণিতেই আস্থা রাখা। রুবেলের মতো গতি তারকা বল করছেন, অথচ নেই কোন স্লিপ! বিশ্বসেরা সব্যসাচী খেলোয়াড়টি আমাদের নয়নের মণি, তার সমালোচনা আমরা করতে চাইনা কিন্তু বল হাতে আজকে দলের সেরা হলেও তিনি অধিনায়ক হিসাবে আজকে টেনেটুনে পাশ, ঠিক ঐ ব্যাক বেঞ্চার দের মতো।

208547.3
যায় হোক, ভারতের সাথে আমরা লড়াই করবো শেষ পর্যন্ত, এই আশা করি।

ছবি – ক্রিকইনফো

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seven − 3 =