চায়নাম্যান বোলার – কি এবং কেন

বাঁহাতি স্পিনারের অদ্ভূত অ্যাকশনকে চায়নাম্যান বলে না। অদ্ভুত অ্যাকশন তো শুধু ছিল পল অ্যাডামসের, এখন দেখছি এই শিভিল কৌশিক। ব্র্যাড হগ, ডেভ মোহাম্মদ, মাইকেল বেভানদের অ্যাকশন কি অদ্ভূত? নরম্যালই অ্যাকশন।

সোজা বাংলায় বললে, বাঁহাতি রিস্ট স্পিন বা বাঁহাতি লেগ স্পিনারদেরই চায়নাম্যান বলে। কেন বলে, উৎপত্তি কোথা থেকে, সেটার একটা মজার গল্প আছে।

শিভিল কৌশিক
শিভিল কৌশিক

বাঁহাতি লেগ স্পিন প্রথম করেছিলেন ধরে নেওয়া হয় Charlie Llewellyn কে। ১৮৯৬ থেকে ১৯১২ পর্যন্ত ১৫টি টেস্ট খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার। বোলিং করতেন মূলত বাঁহাতি স্লো মিডিয়াম। তবে মঝেমধ্যে বাঁহাতি লেগ স্পিনও করতেন। বাঁহাতি লেগ স্পিন উদ্ভাবনের কৃতিত্ব মূলত তাকেই দেওয়া হয়।

তবে এটা পরিচিত পেয়েছে আকেজনের সূত্রে, যেখান থেকে চায়নাম্যান নামটি পাওয়া। তার নাম ছিল এলিস আচং, ডাক নামের কারণে পরিচিত ছিলেন পাস আচং নামে। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান, ত্রিনিদাদে জন্ম। চাইনিজ বংশোদ্ভূত প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার। নাম আর চেহারায় ‘চাইনিজ’ ছোঁয়া আছে!

আচং বাঁহতি অর্থোডক্স স্পিনারই ছিলেন। তবে টেস্ট অভিষেকের ৩ বছর পর, ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে ওল্ড ট্রাফোর্ডে একটা ম্যাজিক ডেলিভারি করলেন। হঠাৎ করেই বাঁহাতি রিস্ট স্পিন করলেন, অফ থেকে বল লেগে ঘুরল। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ওয়াল্টার রবিন্স বোকা বনে গেলেন, স্টাম্পড হলেন।

পরে একটা কিংবদন্তী চালু হয়ে যায়। সেদিন আউট হয়ে ফেরার সময় রবিন্স নাকি আম্পায়ার জো হার্ডস্টাফকে গটগট করে বলেছিলেন, “”Fancy being done by a bloody Chinaman.” সেখান থেকেই বাঁহাতি লেগ স্পিনের নাম চালু হয়ে যায় ‘চায়নাম্যান’ বোলিং। রিচি বেনো পরে হার্ডস্টাফকে উদ্ধৃত করেই গল্পটির সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন।

এই হলো গল্প। লেগ স্পিন খুব কঠিন শিল্প। বাঁহাতি লেগ স্পিন আরও, এজন্যই চায়নাম্যানরা বিরল প্রজাতি। প্রথম মোটামুটি একটু বিখ্যাত চায়নাম্যান বোলার ছিলেন সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার চাক ফ্লিটউড-স্মিথ। ১০টি টেস্ট খেলেছিলেন। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ইনিংসে ৮৭ ওভার বোলিং করে দিয়েছিলেন ২৯৮ রান। এক ইনিংসে যা সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড। সেই ইনিংসে ৩৬৪ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন গ্রেট লেন হাটন। ইংল্যান্ড তুলেছিল ৭ উইকেটে ৯০৩।

ব্র্যাড হগ
ব্র্যাড হগ

পরে পল অ্যাডামস বিখ্যাত হলো তাঁর অদ্ভূত অ্যাকশনের কারণে। তবে চায়নাম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কন্ট্রোল দেখেছি ব্র্যাড হগেরই। বেভানও একসময় ওয়ানডেতে নিয়মিতই করত বোলিং। টেস্টে তো ১০ উইকেটও আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। স্যার গ্যারি বাঁহাতি ফাস্ট, মিডিয়াম ফাস্ট, অর্থোডক্স স্পিনের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে চায়নাম্যানও করতেন।

আমাদের একজন চায়নাম্যান বোলার ছিলেন সত্তুরের শেষ দিকে। নজরুল কাদের লিন্টু। অনেকের কাছ থেকেই শুনেছি, দারুণ বোলার ছিলেন। তবে ভালো ছাত্রও ছিলেন। বুয়েটে পড়ছিলেন। তখন তো ক্রিকেটের ক্যারিয়ার ছিল না। পরে আমেরিকায় চলে যান পড়াশোনা করতে। তার চলে যাওয়াটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি মনে করা হয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve − six =