ঘরের মাঠে অসিদের শিরোপা পঞ্চক?

getty

‘যেতে নাহি দিব হায়,
তবু যেতে দিতে হয়’

1987+Cricket+World+Cup+India+Pakistan+C_c4fKq-7xbl

2423335262

এই হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ানদের অবস্থা, যখন ট্রফিটা নিজের দেশেই আসে প্রতিযোগিতার জন্য। ১৯৮৭ সালে বোর্ডার প্রথম জয় করেন বিশ্বকাপ, চির শত্রু ইংলিশদের হারিয়ে, উপমহাদেশের বৈরি কন্ডিশনে। কিন্তু ১৯৯২ সালে তাদের ঘরেই যখন আসর বসলো, তাদেরকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হল ইমরান খানের পাকিস্তানের ক্রিকেট রুপকথা রচনা করে শিরোপা জয়ের কাহিনী। শতাব্দীর শেষ বিশ্বকাপে স্টিভ ওয়াহ তার ক্ষুরধার অধিনায়কত্ব দিয়ে বাজিমাত করলেন, আয়োজক তাদের চিরশত্রু ইংল্যান্ড। অবশ্য সে আসরের সেরা কমিক দৃশ্য গুলোর একটি সাদা বিদ্যুৎ ডোনাল্ডের সেই ব্যাট ফেলে বিদ্যুৎগতির পাগলা দৌড় আর গিবসের ক্যাচ ধরে অতি আনন্দে ফেলে দেওয়ার ঘটনার  অবদান অনস্বীকার্য। এর পর ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়ে ২০০৩ সালে ভারতের স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়ে এবং ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার সিংহদের নখদন্তহীন প্রমাণ করে ট্রফি নিজেদের ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন যে অধিনায়ক, সেই রিকি পন্টিং ২০১১ তে আর পারেননি। একমাত্র দল হিসেবে চার চার বার সেরার মুকুট মাথায় উঠেছে অসিদের। এখন নতুন সেনাপতি ক্লার্ক। পারবে অসিরা, নিজেদের ঘরেই ট্রফি রেখে দিতে?

পারবেন ক্লার্ক?
পারবেন ক্লার্ক?

খেলা শুরু হবার আগেই বিতর্ক শুরু হয়েছে, যার উৎস হাফ ফিট ক্লার্ক কে দলে রাখা আবার সেনাপতিও করে দেওয়া। যে অস্ট্রেলিয়া ওয়াহ ভাইদের দল থেকে ছুড়ে ফেলতে দুবার ভাবেনি, আবেগ যাদের কাছে ছেলেমানুষি, তারা আবেগের বশে এমন সিদ্ধান্ত নিল!- এটা অনেকে বলছেন। আবার ক্লার্ক তো সেরে উঠার লক্ষণ দেখাচ্ছেন ভালোই, হয়তো তিনি বাজিমাত করবেন আসল জায়গায়- এই আশায় অনেকে বুক বেধেছেন।

ব্যাটিং, বোলিং দুই ক্ষেত্রেই শুরুতে ঝড় তোলার ক্ষমতা আর সব্যসাচী খেলোয়াড়ের আধিক্য- এই হচ্ছে এবার অসিদের মূল অস্ত্র। বিপক্ষের বোলাররা মনে মনে এখনও কাঁপতে থাকেন ওয়াটসন ওয়ার্নার- টু ডব্লু এর বিপক্ষে বোলিং এর কথা ভাবলে, যেমন ৯০ এর দশকে ব্যাটসম্যান দের দুঃস্বপ্নে হানা দিতেন ওয়াসিম, ওয়াকার, তেমনি এরাও বোলারদের আনন্দ মাটি করে দেবার জন্য তৈরি। বল হাতে শুরুতেই বিপক্ষকে তছনছ করতে প্রস্তুত গতি তারকা মিচেল জনসন, যার ঝাল টের পেয়েছিলো ইংল্যান্ড, গত অ্যাশেজ সিরিজে ‘ধোলাই’ হয়ে। গতির সাথে সুইং ও তার অস্ত্র। তার সঙ্গী হতে পারেন আরেক মিচেল- স্টার্ক। আছেন প্যাট কামিন্স, অবশ্য ইনজুরির সাথে তার সখ্য একটা দুশ্চিন্তার কারন অসিদের। জশ হ্যাজলউড পুরষ্কার পেয়েছেন ভারতের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর, তিনি উইকেট এর সাহায্য কাজে লাগাতে ওস্তাদ। জেমস ফকনার- অসিদের ব্রহ্মাস্ত্র, কারন তিনি পেস বোলিং এর সাথে শেষের দিকে বলকে সীমানাছাড়া করার ব্যাপারে দক্ষ, এই রান গুলো বড় ম্যাচে নির্ধারক হয়ে যেতে পারে। ওয়াটসন তো আছেন ই, ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি বল হাতে বিপক্ষকে বেধে রাখতে। সব মিলিয়ে বাড়ির মাঠের সুবিধা ষোল আনা তুলে নেবার ক্ষমতা এই বোলারদের আছে।

দুই ওপেনার ছাড়াও আরও অনেকে আছে- যাদের দুঃস্বপ্নে দেখতে পারেন বিপক্ষের বোলাররা। ম্যাক্সওয়েল তেমন একজন, ঝড় তোলার কাজটা যার কাছে অতি সহজ, সিবি সিরিজের ফাইনালে দেখিয়ে দিয়েছেন নিজে কি করতে পারেন, ৯৫ রান আর কার্যকরী ঘূর্ণিজাদু, যা রান আটকানো এবং উইকেট নেয়া, দুই ক্ষেত্রেই কাজের, তাকে অসিদের অন্যতম তুরুপের তাসে পরিণত করেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতও শিকার হয়েছে টর্নেডোর, নায়কের নাম ম্যাক্সওয়েল।

getty

স্টিভ স্মিথ- রান করাটা যার কাছে দুনিয়ার সব থেকে সহজ কাজ মনে হচ্ছে এখন, তিনি ব্যাট তো বটেই, বল হাতেও ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারেন, লেগ স্পিন টা খারাপ করেন না এই রান মেশিন। মাইকেল ক্লার্ক সুস্থ থাকলে খেলবেন তিন নম্বরে, লম্বা ইনিংস খেলাটা তার অভ্যাস, থিতু হয়ে স্টিমরোলার চালিয়ে দিতে পারেন বিপক্ষের উপর দিয়ে, সাথে কাজ চালানোর অফ স্পিন।  ব্রাড হ্যাডিন উইকেটের পিছনে উঠবস করা ছাড়াও ব্যাটিং টাও পারেন কাজ চালানোর মতো। আরেকজন আছেন ‘ঝঞ্জার মতো উদ্দাম’ ব্যাটিং করতে ভালোবাসেন, অ্যারন ফিঞ্চ। দেখুন, ফিঞ্চ আর পিঞ্চ- কত মিল! বলকে আকাশে ভাসিয়ে সীমানাছাড়া করা তার শখ! তার এই শখ মেটানোর জন্য চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বিপক্ষকে আর অস্ট্রেলিয়া আশায় থাকবে, শখটা মেটানোর জন্য এই বিশ্বকাপকেই যেন ফিঞ্চ বেছে নেন!

আর আছেন ডোহার্টি, একমাত্র ঘূর্ণি বিশেষজ্ঞ অসিদের, যার অন্তর্ভুক্তি আরেকটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারন নাথান লায়ন সাম্প্রতিক সময়ে ভালো বোলিং করছিলেন। ভারতীয়দের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিলেন তিনি, সেই লায়নের নাম না নিয়ে ডোহার্টিকে রাখার যৌক্তিকতা তাকেই বল হাতে প্রমাণ করতে হবে।

সব মিলিয়ে এক দল অসাধারণ খেলোয়াড় আর ঘরের মাঠের পরিবেশ, দর্শক সমর্থন- শিরোপা পঞ্চক পূর্ণ করতে পারবে ক্যাঙ্গারুর দেশের দল? আমার কিন্তু মনে হচ্ছে এবার ট্রফিটা অসিদের শোকেসেই শোভা পাবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

19 − 14 =