গোল করাতেও তিনি, ঠেকানোতেও তিনি

আজকালকার যুগে ভার্সেটাইল ফুটবলার ত কতই দেখা যায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক আইরিশ খেলোয়াড় জন ও’শিয়ার ক্ষেত্রে বলা হয় তিনি খেলেননি এমন কোন পজিশান নেই। এ ধরণের খেলোয়াড়দের বলা হয়ে থাকে ইউটিলিটি প্লেয়ার। নির্দিষ্ট কোন পজিশনের ধার ধারেননা তাঁরা সাধারণত, ম্যানেজারের নির্দেশে দলের প্রয়োজনে যেকোন পজিশানেই মাঠে নেমে পড়তে হয় তাঁদের।

আন্দ্রেয়া পিরলোর কথা ধরুন, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের ডিপ লায়িং প্লেমেকারের রোলটার একচ্ছত্র সম্রাট হবার আগে তিনি কিন্তু ছিলেন একজন সাধারণ সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ক্যারিয়ারের শুরু দিকে ইন্টার মিলানের হয়ে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেই খেলতেন তিনি। কিংবা ধরুন বার্সার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হাভিয়ের ম্যাশেরানোর কথা। লিভারপুলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে সবার নজর কাড়ার পর বার্সেলোনাতে সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেই তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন গার্দিওলা। ক্লাবের তৎকালীন কিংবদন্তী অধিনায়ক কার্লেস পুয়োল ইনজুরিতে পড়লে কাজ চালানো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতেন তিনি, এখন সেটাই তাঁর মূল পজিশান বার্সেলোনাতে। কিংবা এএস রোমার অ্যালেসসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কেভিন গ্রসক্রুতজ আর গঞ্জালো কাস্ত্রোর কথা চিন্তা করুন। এখন প্রায়ই এদেরকে ফুলব্যাক পজিশানে দেখা গেলেও প্রায়ই দলের প্রয়োজনে তাঁরা উইঙ্গার, ওয়াইড মিডফিল্ডার, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার যেকোন পজিশানেই খেলতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে।

তা নাহয় বোঝা গেলো যাদের উইঙ্গে খেলার অভ্যাস আছে তাঁরা ওয়াইড যেকোনো পজিশানের সাথেই মানিয়ে নিয়ে পারেন (উদাহরণ – জুভেন্টাসের স্টেফান লিচস্টাইনার, লিভারপুলের অ্যালবার্তো মোরেনো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া, এভারটনের ফিল নেভিল), কিংবা যারা মাঠের মধ্যে খেলতে পছন্দ করেন তাঁদের মাঠের মাঝের (সেন্ট্রাল) যেকোন পজিশানেই খেলানো যায় (যেমন – বার্সেলোনার হাভিয়ের মাশেরানো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যান্ডার হেরেরা ও মারুয়ান ফেলাইনি, চেলসির সেস ফ্যাব্রিগাস ও রামিরেস) ; কিন্তু ভার্সেটাইলিটির চূড়ান্ত দেখিয়ে কোন গোল-ঠেকানো নিরেট সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার যদি নিমেষে ভোল পালটিয়ে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হয়ে ধুমধাম গোল করা শুরু করেন, তাহলে কিরকম লাগবে?

বলা হচ্ছে ডিওন ডাবলিনের কথা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডসহ নরউইচ সিটি, বার্নেট, মিলওয়াল, সেল্টিক বিভিন্ন ক্লাবে খেলা এই ইংলিশ খেলোয়াড় মূলত বিখ্যাত ছিলেন ক্যামব্রিজ ইউনাইটেড, কভেন্ট্রি সিটি বা অ্যাস্টন ভিলায় হয়ে খেলার জন্য। নরউইচ সিটির হয়ে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা ডাবলিন ক্লাবের মূল একাদশে সুযোগ পাননি কখনো, ফলে ফ্রি ট্রান্সফারে যোগ দেন তিনি ক্যামব্রিজ ইউনাইটেডে। গোল করার ন্যাক থাকার জন্যই কি না, নতুন ক্লাব ডাবলিনকে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার থেকে পুরোদস্তুর সেন্টার ফরোয়ার্ড বানিয়ে দেয়, ক্লাবের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি ভালোভাবে। ১৫৬ ম্যাচে ৫২ গোল করা ক্যামব্রিজকে ব্যাক-টু-ব্যাক প্রমোশানও এনে দেন তিনি।

তাঁর গোলক্ষুধা বড় বড় ক্লাবের নজর এড়ায়নি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে শুরু করে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স, চেলসি, এভারটন – ১৯৯২ সালে ডাবলিনের প্রতি আগ্রহী ছিল সকলেই। ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে তাঁকে দলে ভেড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। বলে রাখা ভালো, ফার্গুসনের প্রথম পছন্দ ছিলেন তখন সাউদাম্পটনে খেলা জনৈক অ্যালান শিয়ারার, শিয়ারার ইউনাইটেডে না গিয়ে ব্ল্যাকবার্নে চলে যান, ফলে ইউনাইটেড স্ট্রাইকার হিসেবে দলে নিয়ে আসে ডাবলিনকে।

Aston Villa's Dion Dublin celebrates scoring the opening goal against Bolton Wanderers during the FA Barclaycard Premiership match at Villa Park, Birmingham, Wednesday January 1, 2003. PA Photo: Nick Potts. THIS PICTURE CAN ONLY BE USED WITHIN THE CONTEXT OF AN EDITORIAL FEATURE. NO WEBSITE/INTERNET USE UNLESS SITE IS REGISTERED WITH FOOTBALL ASSOCIATION PREMIER LEAGUE.
Aston Villa’s Dion Dublin celebrates scoring the opening goal against Bolton Wanderers during the FA Barclaycard Premiership match at Villa Park, Birmingham, Wednesday January 1, 2003. PA Photo: Nick Potts.
THIS PICTURE CAN ONLY BE USED WITHIN THE CONTEXT OF AN EDITORIAL FEATURE. NO WEBSITE/INTERNET USE UNLESS SITE IS REGISTERED WITH FOOTBALL ASSOCIATION PREMIER LEAGUE.

ইউনাইটেডে ডাবলিনের সময়টা সেরকম স্মরণীয় কিছু ছিল না – ১২ ম্যাচে মাত্র ২ গোল। পরে স্ট্রাইকার হিসেবে নাম কামিয়েছেন তিনি মূলত অ্যাস্টন ভিলা ও কভেন্ট্রি সিটিতে। কভেন্ট্রি সিটির হয়ে ১৪৫ ম্যাচে ৬১ ও অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ১৫৫ ম্যাচে ৪৮ গোল করার পর ডাবলিনের বোধহয় আবারও মনে হয়েছিল, আমি যে ভার্সেটাইল, সবাই কি তা ভুলেই গেল?

এদিকে বয়সও বাড়ছিলো, প্রথাগত স্ট্রাইকারের ক্ষিপ্রতাও কমে যাচ্ছিল। ফলে ডাবলিন ভাবলেন, আবারও সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হয়ে যাওয়া যাক! যেই ভাবা সেই কাজ, ক্যারিয়ার-সায়াহ্নে সেল্টিক-লেস্টার-নরউইচে এসে তিনি আবার হয়ে গেলেন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার!

ভার্সেটাইলিটি বোধহয় একেই বলে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

sixteen − twelve =