গোটা দলটাই দায়ী

রোহিত শর্মার আণ্ডার থার্টি ইনিংসটি শেষতক গিয়ে থামলো আপার এইট্টিতে ।
সেই সাথে ভারতীয়দের ১৪০ লক্ষ্যে গিয়ে দাঁড়ালো ১৬৬ তে ।
ট্র্যাজেটির মূল খলনায়ক হয়ত সাকিব নামেই বর্তাবে । রোহিতের ক্যাচটা ফেলার পরই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কাউন্টার এ্যাটাক করেছে । এর দায়টাও হয়ত সাকিবের । তবে এখানে গোটা দলটাই দায়ী ।
এক ক্যাচ মিসের পর দর্শকদের ভেঙ্গে পড়াটাও ছাপিয়ে গেছে ম্যাশ বাহিনীর ভেঙ্গে পড়ার কাছে । একই ওভারে ফিল্ডিংয়ে আল-আমিন এবং পরের ওভারেই রিয়াদের মিসফিল্ড রোহিত-যুবরাজকে দুইটি বোনাস বাউণ্ডারি উপহার দেয় ।
যে সময় আরও শক্ত হওয়া উচিত ছিল ঠিক সে সময়ই দমকা হাওয়াই দল নুয়ে পড়েছে ।
বড় দল হতে চাইলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন মোমেন্টাম ধরে রাখা ও প্রেশার ওভারকাম করা । ঠিক এই দুটি জায়গাতেই কাল হেরেছে বাংলাদেশ । উইকেট বাঁচিয়ে শেষ পাঁচ ওভারে ভারত অলআউট খেলবে তা বোঝাই যাচ্ছিলো । রোহিত সেট হয়ে গিয়েছিল । কিন্তু যুবরাজকে এ্যাটাক করার বদলে স্পেস দেওয়া হল । ঠিক যে ভুলটা গত বিশ্বকাপে রস টেইলরের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল । স্পিন এ্যাটাকে যুবরাজের পেছনে এক স্লিপ দাঁড় করালে নিশ্চিতভাবেই বাড়তি প্রেশার পড়ত তার উপর ।
১৬৬ চেজাবল, কিন্তু কালকের পিচ ছিল লো স্কোরিং ম্যাচের । দেশসেরা ওপেনারকে ছাড়াই এই বড় লক্ষ্যে তাড়া করতে একজনকে দাঁড়িয়ে যেতে হত পাওয়ার প্লে-তে ।
তবে নবাগত মিঠুন অস্থিরতায় ধরা খেল আর সৌম্যর ছঁন্দপতন আবারও অব্যাহত ।
একাদশে ইমরুর কায়েস বিস্ময় ছিল আমার কাছে ।
খেলোয়ারটিকে আমি শ্রদ্ধা করি তার চেষ্টা করার মানসিকতার জন্য । তবে বাস্তবতাকে তো আর উপেক্ষা করা যায়না । ওডিআই ফরম্যাটেও মাঝেমধ্যে ইমরুলকে বড্ড অযোগ্য মনে হয় ।
টি-২০ তে তার সুযোগ পাওয়া হতাশাব্যাঞ্জক বিস্ময় ছাড়া আর কিছুই নয় ।
এক BPL পারফর্ম যদি সবকিছু বিচারের মাপকাঠি হয় তবে জাতীয় লীগে নিয়মিত ভাল করা লিটন দাসকে বারবার সুযোগ দেওয়া উচিত ।
ইমরুল আর পাওয়ার হিটিং দুটো দুই মেরুর ।
যখনই সে এ্যাটাক করতে গেছে তখনই বিট হয়েছে । টাইমিংটা হয়েছে ঐ একবারই । যুবরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিল যখন ।
এরপরে সাব্বিরটা একাই লড়ে গেছে ।
সাকিব ভুল শোধরাতে চেয়েছিল ব্যাট হাতে । তবে নিজের ভুলেই ডুবেছে সে । অতিরিক্ত চাঁপে সে ভুলেই গিয়েছিল অপর প্রান্তে হ্যামস্ট্রিং ঝামেলায় পড়া সাব্বির তাকে দুইবার ‘নো কল’ করেছে । তবে সাকিবের আউটের পর স্টেডিয়ামে দর্শকদের ব্যবহারে আমি লজ্জ্বিত । হাজার হোক সে আমাদেরই একজন । বিদেশীদের সামনে এভাবে তাকে দুয়োধ্বনি দিয়ে নিজেদেরই ছোট করলাম আমরা । মুশি অফফর্মে । রিয়াদ ভাই অলরাউণ্ডার বটে, তবে বলে কয়ে ম্যাচ জেতানোর মত খেলোয়ার নন ।
অবশ্য সত্যি বলতে গেলে টি-২০ এর এক্স ফ্যাক্টরটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের নেই । বটম হ্যাণ্ডে পাওয়ারফুল তামিম আর সাব্বির ছাড়া আর কেউ আছে কি ? প্রচলিত হার্ডহিটার তালিকায় সাকিব হয়ত পড়বে । তবে ঐ যে বললাম এক্স-ফ্যাক্টর । মিডল ও লোয়ার মিডলে একটা এক্স-ফ্যাক্টর ব্যাটসম্যান দরকার ছিল । সেটা টি-২০ তে কবে পাবো জানা নেই । শুধু টি-২০ তেই নয়, ODI ফরম্যাটেই এটা কাজে দিবে । অনেক কাজে দিবে । আর একটা ভুল ছিল কালকের টপ অর্ডারে । সেটা হলো টাইমিংয়ের পরিবর্তে পেশিশক্তির ব্যবহার । হারদিক পাণ্ডিয়ার ইনিংস দেখেছেন নিশ্চই । শুরু থেকেই সে পেশিশক্তির ব্যবহার করেছে । ভাগ্য ভাল, দু চারটে লেগে গিয়েছিল । শেষ দিকে তার অসহায়ত্বও নিশ্চই কারও দৃষ্টি এড়ায়নি । দলের অমন পরিস্থিতিতে হারদিকের অমন পেশি শক্তির ব্যবহার হয়ত অতটা বিচার করার মত নয় । তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা টাইমিংয়ে মনযোগ না দিয়ে পেশি শক্তিতে দৃষ্টিপাত করেছে বেশি । ইভেন সাব্বির রুম্মনওঅবশ্য সত্যি বলতে গেলে টি-২০ এর এক্স ফ্যাক্টরটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের নেই । বটম হ্যাণ্ডে পাওয়ারফুল তামিম আর সাব্বির ছাড়া আর কেউ আছে কি ? প্রচলিত হার্ডহিটার তালিকায় সাকিব হয়ত পড়বে । তবে ঐ যে বললাম এক্স-ফ্যাক্টর । মিডল ও লোয়ার মিডলে একটা এক্স-ফ্যাক্টর ব্যাটসম্যান দরকার ছিল । সেটা টি-২০ তে কবে পাবো জানা নেই । শুধু টি-২০ তেই নয়, ODI ফরম্যাটেই এটা কাজে দিবে । অনেক কাজে দিবে । আর একটা ভুল ছিল কালকের টপ অর্ডারে । সেটা হলো টাইমিংয়ের পরিবর্তে পেশিশক্তির ব্যবহার । হারদিক পাণ্ডিয়ার ইনিংস দেখেছেন নিশ্চই । শুরু থেকেই সে পেশিশক্তির ব্যবহার করেছে । ভাগ্য ভাল, দু চারটে লেগে গিয়েছিল । শেষ দিকে তার অসহায়ত্বও নিশ্চই কারও দৃষ্টি এড়ায়নি । দলের অমন পরিস্থিতিতে হারদিকের অমন পেশি শক্তির ব্যবহার হয়ত অতটা বিচার করার মত নয় । তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা টাইমিংয়ে মনযোগ না দিয়ে পেশি শক্তিতে দৃষ্টিপাত করেছে বেশি । ইভেন সাব্বির রুম্মনও ।
শুরু থেকে টাইমিংয়ে মনযোগ দিয়ে পাওয়ার প্লের পর সিংগেল ডাবল, এমন রণ পরিকল্পনাই উচিত ছিল । সিংগেলস তো এসেছে প্রচুর । তবে তা অসময়ে ।

হেরেছি নিজেদের দোষেই । কষ্ট তো লাগবেই । তবে সামর্থ্যও বুঝতে হবে । ভারতীয়রা প্রচুর টি-২০ খেলে । বছরে সর্বাধিক ওডিআইও তারাই খেলে । ওদের ঘরোয়া ক্রিকেটও দারুন শক্তিশালী ও সাজানো । পরিস্কার
ফেভারিট কাল ওরাই ছিল । এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে খুব বেশি আশা করছিনা ।
এটা আমাদের শেখার মঞ্চ । আগামী দিনগুলোতে আমরা বেশ কয়েকটি টি-২০ খেলবো শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে । সেখানে জয়ের চেয়ে আমার কাছে মুখ্য টেম্পারমেন্ট, মোমেন্টাম, ও প্রেশার এই কয়েকটি বিষয় শেখা ও উন্নতি করা । একদিন আমরাও শাসাবো এই সংস্করণকে ।
দরকার বিশ্বাস, পরিশ্রম আর হারের আগেই হেরে না বসা ।

‪#‎চলো_বাংলাদেশ‬

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 12 =