গুরু তোমায় সেলাম!

১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে এই গা পুড়ানো রোদের মধ্যে আপনাকে খেলতে বললে আপনি খেলবেন? আমি জানি, ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জন বলবে, না! কেউ কেউ পাগল হয়েছ নাকি বলে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসতে পারেন। বাকি একজন বলবেন, হ্যা অবশ্যই খেলবো, আমার দলের তো জয় দরকার! সেই এক জনটা কে, নিশ্চয় এতক্ষনে বুঝে গিয়েছেন,নড়াইলের চিত্রাপাড়ের অদম্য তরুণ- মাশরাফি বিন মুর্তজা!
এই নাম বললেই স্মৃতির পাতায় ভেসে একটা কথাই শুধু মনে আসে- বিদ্রোহী, চির বিদ্রোহী! মানুষ যেখানে এক দুবার হাঁটুতে চোট পেলেই খেলা ছেড়ে দেয়, তিনি সাত সাতবার হাঁটুতে সার্জনকে ছুরি চালানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েও খেলে যাচ্ছেন বীরদর্পে। কলাবাগানের অধিনায়ক গত ম্যাচে ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও হাঁটুতে টেপ না লাগিয়ে প্রথমে শর্ট রানআপ ও পরের দুই ওভারে অসীম সাহসের সাথে ফুল রানআপে বল করেছেন, এক হালি উইকেট শিকার করেও পারেননি দলকে জেতাতে, কারন, নৌকা একজন তীরে ভেড়াতে পারেনা, সবারই কিছু না কিছু অবদান লাগে। কোচ জালাল আহমেদ চৌধুরী তাকে আখ্যা দিয়েছেন অতিমানব বলে। একেই তো বলে অধিনায়ক!
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ,
কাণ্ডারি আজ দেখিব তোমার মাতৃ মুক্তিপণ।
তা মাশরাফি তার সামর্থ্যের পুরোটা ঢেলে দিয়েছিলেন অসীম ঝুঁকি নিয়ে, তার দল পারেনি, তাতে তার কৃতিত্ব ম্লান হচ্ছে না একটুও বরং আরও উজ্জ্বল হচ্ছে।
আরেকজন এভাবে খেলেছিলেন, লিওনেল মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে তিনি জ্বর নিয়ে খেলেছিলেন, দল হেরেছে, মেসি তার সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।
গুরুরা এমনই হয়। ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের সময় হয়তো আমরা তখনকার অধিনায়ককে বলতে পারবো, দেখো, নেতৃত্ব দিতে হলে ম্যাশের মতো করেই দিও, আর যদি না পারো, তাহলে বিদায় বলে দাও! গুরু তোমায় সেলাম!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten − seven =