গুড বাই, জ্যাক

ক্যারিয়ারের শুরুটা বাদ দিলে মোটামুটি ছোট্ট রান-আপে বল করতো ওয়াসিমকে আদর্শ মেনে। ডান হাতে বল লুকিয়ে এনে পপিং ক্রিজের কাছাকাছি এসে ডান হাত থেকে বাম হাতে বলটা নিয়েই ফুট দুয়েক উঁচু এক লাফ। সাঙ্গাকারা আর গ্রায়েম স্মিথ পারলে তাকে ফেসই করতে চাইতেন না। অন্য বাঁহাতিরাও খেলতেন অস্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে। ধোনি একবার বলেছিলেন, ‘ও হলো ভারতীয় বোলিংয়ের টেন্ডুলকার’। জেমস অ্যান্ডারসনের একটা সাক্ষাতকার পড়েছিলাম। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে জিমি বলেছিলেন, ব্যাটসম্যান যাতে গ্রিপ বুঝতে না পারে সেই আর্টটা তার কাছ থেকেই শিখেছেন। ভারতীয় দলে নতুন কোনো পেসারের অভিষেক হলে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়াতেন মিড অনে। প্রতিটা ডেলিভারির আগে দু’-একটা কথা বলতেন ঠিক নেট প্রাকটিসের বোলিং কোচের মত করে। ২০১১ তে ভারতে বিশ্বকাপ জয়ে কার অবদান বেশি বললে যুবরাজ সিংয়ের নাম চলে আসবে। ২১ উইকেট নিয়েও পার্শ্বচরিত্র হয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সৌরভের অধীনে ২০০৩ এর বিশ্বকাপের রানার-আপ হওয়া? টেন্ডুলকারের উপরই আলো। কিন্তু সেখানেও ১৮ উইকেট নিয়ে পার্শ্বচরিত্রে। ব্যাটসম্যানকে এত তাড়াতাড়ি রিড করতে খুব কম বোলারকেই দেখেছি। দুই দিকে সুইং, স্লগ ওভারে টানা ইয়োর্কার আর রাউন্ড দ্যা উইকেট বোলিং। ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে ৬১০ আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়ে। ইনজুরি সারাটা ক্যারিয়ার নিয়ে ছেলেখেলা না করলে অনায়াসেই সেটা ৮০০+ হতো। ২০০ ওয়ানডেতে ২৮২ উইকেট, ৯২ টেস্টে ৩১১ উইকেট, ১৭ টি-টুয়েন্টিতে ১৭ উইকেট। আজ ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত জানানোর পর ধোনি টুইট করেছেন, ‘Most clever fast bowler I know’. শচীন টুইট করেছেন, ‘He was a bowler who could ‘out think’ the batsman most of the times’.

জহির খানকে নিয়ে লিখছিলাম। জানেন কী না, জহির খানের টেস্ট অভিষেক বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং বাংলাদেশে? ১০ নভেম্বর, ২০০০ এ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। প্রথম টেস্ট উইকেট মেহরাব হোসেন অপি। উইকেটের পিছনে সাবা করিমের ক্যাচ বানিয়েছিলেন। গুড বাই, জ্যাক।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

7 + ten =