যেভাবে গার্দিওলা কে হারালেন মরিজিও সাররি

যেভাবে গার্দিওলা কে হারালেন মরিজিও সাররি

গত রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় চেলসির স্টেডিয়াম স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে চেলসি। ফলে এ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা আর অক্ষুণ্ন থাকল না। লিগে এই প্রথম ম্যাচ হারলো সিটি, এই হারের মাহাত্ম্য এতটাই যে, এক হারেই লিগের শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়ল তারা। গতকাল বোর্নমাথকে ৪-০ গোলে হারানো লিভারপুল এই সুযোগে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। পেপ গার্দিওলা এর শিষ্যদেরকেও যে হারানো যেতে পারে, চেলসির কোচ মরিজিও সাররি সেটা দেখিয়ে দিলেন বেশ ভালোভাবে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব হল এই অসাধ্য সাধন করা?

দুই দলের মূল একাদশের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন। নিজেদের মাঠে চেলসি নামে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। তাদের মূল একাদশটা দেখতে ছিল ঠিক এমন –

যেভাবে গার্দিওলা কে হারালেন মরিজিও সাররি

চেলসির মাঝমাঠে ছিল তিনজন খেলোয়াড়। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে জর্জিনহো, জর্জিনহোর দুইপাশে ছিলেন মাতেও কোভাচিচ আর এনগোলো কান্তে। ওদিকে সিটির ফর্মেশনও ছিল ৪-৩-৩। মাঝমাঠে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনহো, যার দুপাশে ছিলেন ডেভিড সিলভা ও বার্নার্ডো সিলভা। এখানে বলে রাখা ভালো, এক ফার্নান্দিনহো ছাড়া বাকী দুইজন কিন্তু জাত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার নন। ডেভিড সিলভা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেই অভ্যস্ত, ওদিকে বার্নার্ডো সিলভাও উইঙ্গার/আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে বেশি স্বচ্ছন্দ।

যেভাবে গার্দিওলা কে হারালেন মরিজিও সাররি

পুরো ম্যাচটা যারা দেখেছেন, তারা দেখেছেন তুমুল গতিময়তার সাথে খেলেছে দুই দল। গতিময় খেলার সাথে খাপ খাওয়াতে গিয়ে রীতিমত খাবি খেয়েছে দুই দলের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জর্জিনহো ও ফার্নান্দিনহো – কেননা, এই দুইজন আস্তেধীরে খেলতে অভ্যস্ত। ম্যাচের গতি বেশি হলে তাদের খেলতে কষ্ট হয়।

ম্যাচ শুরু হওয়ার পরে এই সমস্যাটা প্রকট হয়ে ওঠে দুই দলের দুই কোচ পেপ গার্দিওলা ও মরিজিও সাররির কাছে। কিন্তু, এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই গার্দিওলা কে কৌশলের লড়াইতে পরাস্ত করেন সাররি। কিন্তু কিভাবে?

সাররি ভালোই জানতেন, গার্দিওলা এর মিডফিল্ডের তিনজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একমাত্র ফার্নান্দিনহোই জাত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। বাকী দুইজন (ডেভিড সিলভা ও বার্নার্ডো সিলভা) আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করেন, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারেননা। ফলে যে সমস্যাটা হয়েছে, মিডফিল্ডে ফার্নান্দিনহো একদম একা হয়ে পড়েন। এমনিতেই ৩৩ বছর বয়সী ‘বুড়ো’ ফার্নান্দিনহো এখন আর আগের মত মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তার উপর খেলা যদি দুর্দান্ত গতিময় তাহলে আরো বেশি খেই হারিয়ে ফেলেন। তার উপর কালকে ফার্নান্দিনহোর ত্রুটিগুলো ঢাকার জন্য অন্য কোন জাত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারও ছিলনা মিডফিল্ডে, ফলে চূড়ান্তভাবে খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন ফার্নান্দিনহো। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একের পর এক পাসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ঘাম ছুটিয়ে দেওয়া গার্দিওলা এর দল এ কারণে এদিন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে অত বেশি বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি, প্রচুর ভুল পাস দিয়েছে সিটির খেলোয়াড়েরা। গার্দিওলার মিডফিল্ড ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, ভুল পাস দিচ্ছে – ভাবা যায় এমনটা? অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটাই ঘটেছে কালকে। মিডফিল্ডের এই সমস্যাটা বুঝতে বুঝতে গার্দিওলা কালকে অনেক দেরি করে ফেলেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে ফার্নান্দিনহোকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য অবশেষে আরো দুই মিডফিল্ডার হিসেবে ফিল ফডেন ও ইলকায় গুন্দোগানকে নামালেও, ততক্ষণে রক্তের গন্ধ পেয়ে গিয়েছিল চেলসি। ম্যাচ আর হাতছাড়া হতে দেয়নি তারা।

ওদিকে চেলসি শিবিরে একই সমস্যায় পড়েছিলেন জর্জিনহোও। ফার্নান্দিনহোর মত আস্তেধীরে খেলতে তিনিও পছন্দ করেন, দ্রুতগতির ম্যাচে খাবি খান। কালকেও খেয়েছেন। কিন্তু তাতেও চেলসির কোন সমস্যা হয়নি। কেননা জর্জিনহোর পাশে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। নিজের গুরুত্ব তিনি বুঝিয়েছেন এই ম্যাচে একটি গোল করে। কান্তে ছাড়াও জর্জিনহোর পাশে ছিলেন আরেক মিডফিল্ডার মাত্তেও কোভাচিচ। যারা কি না সিটির অন্য দুই মিডফিল্ডার (ডেভিড সিলভা ও বার্নার্ডো সিলভা) এই দুইজনের তুলনায় মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বেশি রাখতে পারেন, যারা জাত মিডফিল্ডার। এমনকি ম্যাচের শেষেরদিকেও আরো একজন কম আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার (রুবেন লফটাস চিক) কে নামিয়ে সাররি নিশ্চিত করেছেন, মিডফিল্ডের যুদ্ধে যেন চেলসি কোনভাবেই না হারে! কেননা, যেকোন ম্যাচেই মিডফিল্ডের দখল যে দল রাখতে পারে, জেতার সম্ভাবনা তাদের অনেকটাই বেড়ে যায়। সাররি বুঝেছিলেন, গার্দিওলার এই দলের একমাত্র দুর্বলতা হল বয়সী ফার্নান্দিনহোর ধীরগতি। যে কারণে গার্দিওলা বহুদিন ধরেই একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খুঁজছেন। সাররি এই দুর্বলতাকে বারবার আঘাত করে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × two =