গাত্তুসো এর মধ্যে কিরকম ম্যানেজার পেতে যাচ্ছে এসি মিলান?

এসি মিলান এই মৌসুমেই নতুন মালিকানার অধীনে চলে গিয়েছে। সিলভিও বার্লুসকোনি-আদ্রিয়ানো গ্যালিয়ানির রাজত্ব শেষে মিলানে এখন চাইনিজ যুগ। মালিকানা নিয়েই দলকে ঢেলে সাজিয়েছে তারা। দলে এসেছেন লিওনার্দো বোনুচ্চি, রিকার্ডো রড্রিগেজ, মাত্তেও মুসাক্কিওফ্র্যাঙ্ক কেসিফাবিও বোরিনিআন্দ্রে সিলভা, নিকোলা কালিনিচ, আন্তোনিও দোন্নারুমা, আন্দ্রেয়া কন্তিহাকান চালহানোগ্লুসহ অনেক তারকা। নতুন অনেক তারকা আসলেও কোচ হিসেবে সেই ভিনসেঞ্জো মন্তেয়ার উপরেই ভরসা রেখেছিলো মিলানের চাইনিজ মালিকপক্ষ। কিন্তু আর নয়, ক্রমাগত খারাপ ফলাফলের মাশুল দিতে হল মন্তেয়াকে, কোচ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে জেনারো গাত্তুসো কে।

সবাই ভেবেছিলেন গত মৌসুমে পয়েন্ট তালিকার ৬ নম্বর অবস্থানে থেকে মৌসুম শেষ করা এসি মিলান এবার কিছু একটা করে দেখাবে। কিন্তু সে আশায় এখন পর্যন্ত গুড়ে বালি। লিগের ১৪ ম্যাচ শেষে মাত্র ৬ জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ৭ নাম্বার অবস্থানে আছে এসি মিলান। খেলার স্টাইলও হয়ে পড়েছে গৎবাঁধা বিরক্তিকর। বোনুচ্চি, চালহানোগ্লু, কেসি, মুসাক্কিও, কালিনিচের মত ভালো পারফর্মাররা মিলানে এসে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছেন যেন। মিলানের এই হাপিত্যেশ অবস্থার প্রথম কোপটা পড়েছে কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেয়ার উপরে। ছাঁটাই করা হয়েছে তাকে। দলে তাঁর জায়গায় এসেছেন ক্লাব কিংবদন্তী জেনারো গাত্তুসো।

গাত্তুসো এর মধ্যে কিরকম ম্যানেজার পেতে যাচ্ছে এসি মিলান?

গাত্তুসো কি পারবেন মিলানের হারানো সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে? এক নজরে জেনে নেওয়া যাক গাত্তুসোর কোচিং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে।

খেলোয়াড় গাত্তুসো সম্পর্কে তো আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। ১৩ বছর মিলানে থেকে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই। বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়নস লিগ, সিরি আ, ক্লাব বিশ্বকাপ, কোপা ইতালিয়া, সুপারকোপা ইতালিয়ানা – ক্লাব ক্যারিয়ারের সকল পুরষ্কার তাঁর ঝুলিতে আছে। আন্দ্রেয়া পিরলোর সাথে যে বিধ্বংসী সেন্ট্রাল মিডফিল্ড জুটি গড়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসে তা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন প্রশ্ন হল কোচ হিসেবে কি গাত্তুসো ততটাই সফল হবেন যা তিনি খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন?

এ পর্যন্ত গাত্তুসোর ম্যানেজেরিয়াল ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিলে বলতে হয় – না। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে গাত্তুসো কোচ হয়েছিলেন বেশ কয়েকটা ক্লাবের – সুইজারল্যান্ডের এফসি সিওন, ইতালিয়ান ক্লাব পালেরমো, ওএফআই ক্রেতে, পিসা, এসি মিলান যুবদল।

  • সুইজারল্যান্ডের এফসি সিওনের ম্যানেজার হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে তিন মাসের মধ্যে ছাঁটাই হন তিনি।
  • এফসি সিওনের পর গাত্তুসো ম্যানেজার হন ইতালিয়ান ক্লাব পালেরমোর। পালেরমো তখন মাত্র সিরি আ থেকে অবনমিত হয়েছে। কিন্তু লিগের মাত্র ছয় ম্যাচ শেষ হতে না হতেই আবারো ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয় গাত্তুসোকে। ঐ ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটো জয় আর একটা ম্যাচ ড্র করতে পেরেছিলেন তিনি। তবে অল্প সময় থাকলেও এটা সত্যি কথা, পাওলো ডিবালা, ইযেক্যিয়েল মুনোজ, ফ্র্যাঙ্কো ভাজক্যুয়েজ, আন্দ্রেয়া বেলোত্তির মত অনেক তরুণ প্রতিভাকে পরিচর্যা করেছিলেন তিনি। পাওলো ডিবালা নিজেই বলেছেন, গাত্তুসো না থাকলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কিভাবে লড়াই করে খেলতে হয় সেটা তিনি শিখতেন না। ট্রেনিং করানোর সময় গাত্তুসো ডিবালাকে কিল-ঘুষি-চড় এতটাই মারতেন, পরে যা ডিবালার কাজে লাগে!
  • পরে কিছুদিনের জন্য তিনি গ্রিক ক্লাব ওএফআই ক্রেতের ম্যানেজার হন তিনি, সেখানেও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি তিনি।
  • এরপর সিরি সি এর ক্লাব পিসার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় গাত্তুসোর উপর। পিসা কে সিরি সি থেকে সিরি বি তে উঠাতে পারলেও পরে পিসা থেকেও চলে আসেন তিনি। তাঁর অধীণে পিসার রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স অনেক ভালো ছিল, বলতে গেলে তারা গোল হজমই করতো না, কিন্তু এটাও সত্য, তারা সেরকম গোল করতেও পারত না।
  • পিসার পর এই বছর মিলানের যুবদলের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাত্তুসোকে। গাত্তুসো নিজে বলেছিলেন যুবদলের কোচ হয়ে মূল দলের কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেয়ার কাছ থেকে শিখবেন অনেক কিছু। কিন্তু সে সুযোগ আর পেলেন কোথায়!

৪-৩-৩ ফর্মেশানে দলকে খেলাতে পছন্দ করা গাত্তুসোর মূল লক্ষ্য হবে দলের উইং পজিশানের খেলোয়াড়দের উন্নত করা কিংবা প্রয়োজনে নতুন কিছু উইঙ্গার কেনা সামনের জানুয়ারী দলবদলের সময়ে। গত কয়েকবছরে মিলান তাঁদের সাবেক অনেক কিংবদন্তীকেই কোচ করে এনেছিল – ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ, ক্রিস্টিয়ান ব্রচ্চি, ফিলিপ্পো ইনজাঘি। তারা কেউই মিলানে সফল সময় পার করতে পারেননি। নিজের ম্যানেজেরিয়াল ক্যারিয়ারের মাত্র ৩১.৪% ম্যাচ জেতা মিলানের আরেক কিংবদন্তী গাত্তুসো কি পারবেন মিলানকে তাঁর হারানো সুদিন ফিরিয়ে দিতে? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 + thirteen =