খাল কেটে কুমির!

খাল কেটে কুমির আনার প্রবাদটির খ্যাতি ও চর্চা বিশ্বজোড়া ।
কিন্তু হঠাত্‍ই তা আমুল পরিমার্জিত স্টিভ ও’কিফ ও নাথান লিয়ন নামে । তবে কি বিলুপ্তির পথে মহামতি কুমির ? সে উত্তর হয়ত প্রাণিবীদরাই দিতে পারবেন । আপাতত ক্রিকেট প্রেমীরা ‘খাল কেটে ওকিফ-লিয়ন আনা’ প্রবাদটিতেই যেন অধিক স্বাচ্ছন্দ্য ।
হবেই না বা কেন বলুন ?

পুনেকাণ্ডের পর এটি না হয়ে উপায় ছিল !
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ভারতের মাটিতে পা রাখার আগেই হেরে বসেছিল বিভিন্ন উক্তিতে । সৌরভ গাঙ্গুলি, কেভিন পিটারসেন কিংবা হারভাজন সিংরা তো দুর্বল আখ্যা দিয়ে অজিদের শুভ্র ধৌতের গন্ধও শোকাচ্ছিলেন । তবে সেটি আর হলো কই । পুনের পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের অসহায় আত্নসমর্পণের পেছনের নায়ক মান্যবর পিচ । অথচ ম্যাচের আগে এই পিচ নিয়েই কত না নাটক ।

হোম এ্যাডভান্টেজ ভারতীয়রা বেশ ভালোই নেয় । ইদানিংকালে যেটি কিনা বিতর্কেরই খোড়াক । স্পিনে হাঁটুকাপা অজিদের জন্য পাতা ফাঁদে যে এভাবে নিজেদের মাথা কাটা যাবে তা কি ভেবেছিলেন ভারতীয়রা ?
অবশ্য তাদের ভাববার জন্য বেশ সময় উপহার দিয়ে রাখলো সফরকারীরা । ম্যাচের ৩য় দিনে ৩৩.৫ ওভারে দ্বিতীয়বারের মত অল আউট কোহলি গং । ৩৩৩ রানের বিশাল পরাজয় যেন ভারতীয়দের জানান দিলো- খাল কেটে শুধু পানি নয়, সাথে কুমিরও আসে ।

প্রথম দিনে পুনেতে অজিদের দারুন শুরুর পরও মাঝখানের পতন । শেষটা অবশ্য বেশ সামলে নিয়েছিল স্টার্ক-হ্যাজি জুটিতে । ২৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়া অজিদের উপর রানের বোঝা চাঁপিয়ে দেওয়ার খায়েশে ব্যাটিং নির্ভর ভারত । তবে তাদের ঐ খায়েশ খুন হয়েছে ম্যাচের ২য় দিবসেই । স্টিভ ও’কিফের দুর্দান্ত ফিগারে ৪০.১ ওভারে ভারত অল আউট ১০৫ রানে । যেখানে ৬টি ওকিফ, ২টি স্টার্ক ও ১টি করে হ্যাজি,লায়নদের ট্রাউজারের পকেটে ।
২য় ইনিংসে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা প্রতিহত আবার সেই ও’কিফ কুমিরেই ।
২য় ইনিংসেও ভারতীয়দের সিক্সপ্যাক দেখিয়ে ছাড়লেন এই স্পিনার । তবে ওকিফের ডাবল ধসের মাঝে বড় একটি ধাক্কা দিয়ে গেছেন অজি অধিপতি স্টিভ স্মিথ । ২য় ইনিংসে খেলে গেছেন ২০২ বলে ১০৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস । পরিস্থিতি ও পিচ বিচারে যেটি কিনা ইতিহাসের অন্যতম স্বরণীয় শতকের মর্যাদা পাবে । ৪৪১ এর বিশাল লক্ষ্যে তাড়া করা ?
অনানুষ্ঠিকভাবে ভারতীয় ধারাভাষ্যকাররা পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন । যেটির আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন ঐ ও’কিফ । তবে সেটি যে এত তাড়াহুরো আর সূণিপনতায় তা হয়ত মাইকে বসা শাস্ত্রী-শেবাগরা চিন্তাও করেনি । আগের ইনিংসের চেয়ে ২ রান বেশি বটে তবে এ দফায় ভারত খেলেছে মাত্র ৩৩.৫ ওভার । যার মধ্যে ও’কিফেরই ১৫ ওভার । বাকি কাজ সেরেছেন লিয়ন । এক বল কম ১৫ ওভারে তার ঝুলিতে ৪টি উইকেট । আর স্টার্ক, হ্যাজেলউডরা যেন ব্যাটসম্যান হয়েই ম্যাচটা উপভোগ করলো । দুই ইনিংস মিলিয়ে ফ্রন্ট লাইনের এই দুই পেসার করেছে মাত্র ২০ ওভার !
এত কম ওভার সুযোগ পাওয়ায় অধিনায়ককে কপট রাগ দেখাতেই পারেন এই দুই দীর্ঘদেহী ।

৩৩৩ রানের দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে ভারত সফরে শুভ সূচনা স্মিথ, ওয়ার্নার । এখনো বাকি বেশ অনেকটা পথ । সেখানে ভারতীয়রা ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, পিচ কিংবা আম্পায়ারিং দিয়ে ।
তাতে আপাতত বয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ানদের । নির্ধারিত পাঁচ দিনের অর্ধেক সময় আগেই ম্যাচ শেষ করে এখন তো তাদের খানিকটা আমোদের সময় ।
আর ভারত ?
সেটা তারাই ভাল বুঝবে । তবে রসিক দর্শকরা বলতেই পারে বিমান বন্দরে অজিদের ঠিকঠাক আতিথ্য না দিতে পারাটা মাঠেই পুষিয়ে দিলো ভারতীয়রা ।

#জয়তু_অজি

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 5 =