ক্রুস-আলন্সো অদলবদল : কে বেশি লাভবান হল?

Kroos-Alonso

 

বিশ্বকাপজয়ী, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বিভিন্ন ট্রফিজয়ী, এবং সর্বোপরি এক জন ওয়ার্ল্ড ক্লাস মিডফিল্ডার টনি ক্রুস যখন সামার ট্রান্সফার উইন্ডোর শুরুতে লা ডেসিমাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদে মাত্র ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দেন, তখন এই বারগেইন ট্রান্সফারে মাদ্রিদ ফ্যানরা সবাই খুশি হয়েছিল। তবে কিছুদিন পরেই স্প্যানিশ মিডফিল্ড জেনারেল জাবি আলন্সো যখন বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন, তখন লা ডেসিমার পিছে অন্যতম কারিগর এই মিডফিল্ডারকে হারানোটা মাদ্রিদ ফ্যানদের যে খুব একটা খুশি করেছে তা বলা যায় না। অন্যদিকে বায়ার্ন ফ্যানরাও খুব একটা নিশ্চিত ছিলেন না ক্রুস-আলন্সো সওয়াপ নিয়ে। এই অনিশ্চয়তা আসলে আলন্সোর সামর্থ্য  হিসেবে না, বরং এই ৩২ বছর বয়সে আলন্সো কতটা মানিয়ে নিতে পারেন গারদিওলার টিমের সাথে, সেটা নিয়েই ছিল এই অনিশ্চয়তা।

আধা সিজন পার হয়ে যাবার পর বলতেই হয়, এই সোয়াপ ট্রান্সফার ২ দলের জন্যই অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে এসেছে।

বায়ার্নের হয়ে আলন্সোঃ

বায়ার্নের তারকাখচিত মিডফিল্ডে পোড়-খাওয়া মিডফিল্ডে আলন্সো কি পরিমাণ ম্যাচ খেলতে পারেন তা ছিল দেখার বিষয়। কিন্তু বায়ার্নের ইঞ্জুরি সমস্যা ও গারদিওলার টেক্তিক্সের কারণে আলন্সো বায়ার্ন দলের এক জন মূল খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।

এই সিজনে রেভেলুসেনারি গারদিওলার এক আশ্চর্য এডিশন ছিল ৩৪৩ ফরমেশনের ব্যবহার। যে ফরমেশনের সবচেয়ে মারাত্মক আঘাতের সম্মুখীন হয় এ এস রোমা, তাদের ৭-১ পরাজয়ে। বিখ্যাত টেক্তিকাল এনালিস্ট মাইকেল কক্সের মতে, এই ম্যাচে তাদের ফরমেশনঃ

এই ম্যাচে ডেভিড আলাবাকে দেখা যায় অনেকটা বক্স টু বক্স সেন্টার ব্যাক হিসেবে। আলাবা যখন সামনে এগিয়ে যান, তখন আলন্সো পিছে ড্রপ করে ব্যাকলাইনকে আবার ৩ জনের পরিণত করেন। শুধু ৩ জনের ব্যাক লাইন না, ৪ জন ব্যাক লাইনের ফরমেশনে খেলার সময়ও জাবি পিছে নেমে যাওয়ার কাজ করে থাকেন। ফলে ফরমশেনটি অনেকটা রুপ পায় “৩ ম্যান ইন ব্যাক” ফরমেশনে, যখন ২ পাশের ফুল ব্যাকরা সামনে এগিয়ে যান।

এত নিচে খেলার কারণে পুরা মাঠের প্রত্যেকটি দৃশ্য আলন্সো দেখতে পান, ফলে তিনি তাঁর ট্রেডমার্ক লং পাসের সদব্যবহার সম্পূর্ণভাবে করতে পারেন। তাছাড়া অসাধারণ পজিশনিং, ভালো হেডিং ও ডিফেন্সিভ দক্ষতার কারণে এই হাফ ব্যাক রোল খেলা আলন্সোর জন্য কোন ব্যপার নয়, যা ক্রুসের পক্ষে সম্ভব হত না। ডিফেন্সিভ মিড হিসেবে খেলতেও তাঁর কোন সমস্যা নেই, তাঁর শক্তি, গেম রিড করার ক্ষমতা ও এগ্রেসিভ ট্যাকলিঙের কারণে। তাঁর ভারসেলিটি বায়ার্নের অন্যতম বড় সম্পদ, আর ভারসেটাইল খেলোয়াড়দের প্রতি গারদিওলার ভালবাসা সম্পর্কে সবাই অবগত।

রিয়ালের হয়ে ক্রুসঃ

রিয়ালের খেলার সাথে মানিয়ে নিতে হামেস রদ্রিগেজের সময় লাগলেও সেই তুলনাই টনি ক্রুসের সময় একেবারেই লাগেনি। বরং লুকা মদ্রিচের সাথে তিনি গড়ে তুলছেন এক অসাধারণ ডবল-পিভট পার্টনারশিপ, যাকে বর্তমান সময়ের সেরা মিডফিল্ড পার্টনারশিপ বললেও মোটেও ওভার-রেট করা হবে না।

ক্রুস বায়ার্নের হয়ে যে এটাকিং প্লেমেকার রোল খেলতেন, সেটা রিয়ালের হয়ে অনেক অংশেই অনুপস্থিত। আঞ্চেলত্তির রিয়ালের হয়ে বরং ক্রুসের জায়গা হয়েছে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে। আলন্সোর মত পাসিং রেঞ্জ হয়ত তাঁর নেই, কিন্তু আঞ্চেলত্তি ক্রুসের থেকে সেটা আশাও করেন না। ক্রুস মাদ্রিদের হয়ে বরং খেলছেন তুলনামূলক ভাবে অনেকটা সাবধানী রোল। তাঁর খুব কম পরিমাণ পাসই যাচ্ছে অপনেন্টের ফাইনাল থার্ডে। শক্তিশালী অবয়বের না হলেও তাঁর অফুরন্ত এনার্জির কারণে এই সাবধানী রোলে ক্রুস খুব দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন। অসাধারণ স্পীডের কারণে ক্রুস অনেক সময় খুব দ্রুত চলে যেতে পারেন অপনেন্টের বক্সের সামনে, ওভারলোড সৃষ্টির জন্য। তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা ও পিনপয়েন্ট পাসিং এর জন্য কিলার পাস খেলাও তাঁর পক্ষে সহজ ব্যাপার।

কে সেরা? ক্রুস নাকি আলন্সো? কার ট্রান্সফারটা বেশি লাভজনক ছিল? এটা নিয়ে বিশাল বিতর্ক হতে পারে। তবে প্রত্যেকই নিজ দলের হয়ে ভিন্ন রোল খেলছেন, এবং ২ জনেই যে বর্তমান সময়ের ২ সেরা দলের একটি অপরিহার্য অংশ, সেটা নিয়ে কোন তর্ক হওয়া উচিত নয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty + three =