ক্রিস থেকে মাইক স্মালিং

গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ডার্বির পর অনেকে ক্রিস স্মালিং আর ম্যানচেস্তার ইউনাইটেডের সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন। যেই পজিসনে রিও ফার্ডিনান্ড, স্টিভ ব্রুস, জসোফ স্টামের মতন খেলোয়াড়রা খেলেছেন সেখানে ক্রিস স্মালিং! এটা মেনে নেওয়া অনেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফ্যানদের জন্য কঠিন ছিল। নতুন ডিফেন্ডারদের নাম একটার পর একটা আসছিলো ইংলিশ ট্যাবলয়েডগুলোতে। কখন সার্জিও রামোস কখনো নিকোলাস ওটামেন্ডি কখনো অন্য কেউ কোন নাম আসছিলো। তবে লুইস ভ্যান গালের একগুঁয়ে আচরণই হোক বা অন্য কিছু ক্রিস স্মালিং নিজের পজিশন ম্যান ইউনাইটেডের রক্ষণভাগে এখন অনেকটাই পাকা করে ফেলেছেন।
কিন্তু কিভাবে হল এইসব ? আজকে যদি ওয়েন রুনির গোল ক্ষরাকে লুইস ভ্যান গালের ট্যাকটিকসের কারন হিসাবে ধরা হয় তাহলে ক্রিস স্মালিঙ্গের ধারাবাহিকটাকে ওই ট্যাকটিকসের ফসল বলতে হবে। ক্রিস স্মালিং ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে আসেন ২০১০ সালে ফুলহ্যাম থেকে। ক্রমেই ৩০ এর কোটা পেরোনো রিও ফার্ডিনাড এবং নেমানিয়া ভিডিচের পরবর্তী প্রজন্ম হিসাবে তখন দলে আরও আসেন ফিল জোন্স। তবে তাদের কারোর শুরুটাই সেন্টার ব্যাক পজিশন দিয়ে হয় নাই। রাইট ব্যাক কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসাবেই খেলতে শুরু করেন তারা। ২০১২ সালে স্যার অ্যালেক্সের পর যেন ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে অবসর নেওার ধুম পরে যায়, রিও, ভিডিচরা আস্তে আস্তে ওই সিজনে বা তার পরের ডেভিড ময়েস সিজনে অন্য ক্লাবে পাড়ি জমান। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শূন্য হয়ে পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এখন পর্যন্ত রাইট ব্যাক খেলা ক্রিস স্মালিং দলের অন্যতম সেন্টার ব্যাক হয়ে যান তাড়াতাড়িই। লুইস ভ্যান গাল দলের দায়িত্ব নেন। ম্যানচস্তার ইউনাইটেড চতুর্থ হয়ে লিগ শেষ করে। আর ক্রিস স্মালিং নিজের প্রথম সিজন কাটান একজন সম্পূর্ণ সেন্টার ব্যাক হিসাবে। তেমন খারাপ করেননি তিনি। তবে ম্যান ইউর জার্সির ওজন নিতে অনেক মহান খেলোয়াড়দেরও সময় লাগে , স্মলিং তার ব্যাতিক্রম ছিলেন না।
২০১৫-১৬ মৌসুমে ক্রিস স্মালিং নিজের দ্বিতীয় মৌসুম খেলছেন একজন পুরোপুরি সেন্টার ব্যাক হিসাবে। থ্রি-লায়নদের হয়ে নিজের জায়গা এখন অনেকটাই পাকাপাকি করে ফেলেছেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের ফুটবল উপভোগ করছেন। লুইস ভ্যান গাল তাকে দলের অন্যতম অধিনায়ক বানিয়েছেন। পরিসংখ্যান দিয়ে একজন ফুটবলার কে কোনোদিন হিসাব করা যায় না। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বাড়তি ক্লিন-সিটের সাথে ক্রিস স্মালিঙ্গের নামটা জড়িয়ে আছে পুরোপুরি ওতপ্রোত ভাবে। ম্যানচেষ্টার ডার্বির সেই লাল কার্ডের পরই যেন নিজের মহিমায় ক্রমেই দলের কাণ্ডারি হয়ে উঠছেন ক্রিস থেকে মাইক স্মালিং। ক্রিস স্মালিঙ্গের এই উত্থানের গল্পটা আমাদের একটা জিনিশই শিক্ষা দেয় “আপনার ম্যানেজার আপনার থেকে ভাল ফুটবল বুঝেন “।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 6 =