ক্রিকেট তার অনুগত ছাত্রদের কখনো খালি হাতে ফেরায় না…

* শ্রীলঙ্কা হেরেছে। একটি জায়গায় তবু টুপি খোলা অভিনন্দন। এমনিতে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠের উইকেট ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত ‘সড়ক’ হিসেবে। এতটাই নিষ্প্রাণ উইকেট। বিশ্বের সবচেয়ে ফ্ল্যাট উইকেটগুলির একটি। এবার সেই এসএসসির উইকেটকে চেনাই দায়। তাজা ঘাসের ছোঁয়ায় সবুজ উইকেট! সিরিজ ১-১ ড্র, জয়া-সাঙ্গা উত্তর যুগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের অবস্থা ফিরে গেছে যেন তাদের টেস্ট পূর্ব যুগে। তার পরও সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে এরকম প্রাণবন্ত উইকেট রাখতে সাহস লাগে। অনেকে বলতে পারেন, ‘লাভ কি হলো? ফ্ল্যাট উইকেট রেখে বরং টেস্ট ড্র করলেই ভালো করত।’ তা করতে পারত। হয়ত ভবিষ্যতে করবেও। কিন্তু এমনিতেই স্বার্থান্বেষি চিন্তার ভীড়ে টেস্ট ক্রিকেটের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এরকম দু-একটি ব্যতিক্রম সেখানে নির্মল ফুরফুরে বাতাস!

** গত এপ্রিল-মে তে কোহলি-রোহিতরা যখন আইপিএলে ব্যস্ত, চেতেশ্বর পূজারা তখন ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলছেন কাউন্টি।
টেস্ট দলে ঢোকার পর থেকেই নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। টেকনিক-টেম্পারামেন্ট মিলিয়ে দ্রাবিড়ের উত্তরসূরী বলেও পরিচিতি পেয়েছিলেন। প্রথম ১৬ টেস্টে ৬ সেঞ্চুরি, গড় ৭০ ছুঁয়ে ফেলে প্রায়। সেখান থেকে আচমকাই ছন্দপতন। পরের ১১ টেস্টে সেঞ্চুরি নেই। গড় নামল পঞ্চাশের নীচে। দলে জায়গা হারালেন। কাউন্টিতে গেলেন তাই টেকনিক ঝালাই করতে। করলেন। কিন্তু আর ফিরেই পাচ্ছিলেন না জায়গা। নতুন অধিনায়ক বিরাট কোহলির পছন্দ রোহিত শর্মা। অবশেষে সুযোগটি এলো মুরালি বিজয়, শিখর ধাওয়ানের চোটে। প্রিয় পজিশন তিনে নয়, পূজারা ফিরলেন ওপেনিংয়ে। আমি বলব, ভারতের জন্য শাপেবর। বিজয়-ধােওয়ান থাকলে এই টেস্ট ভারতের জিততে হতো না। এখন তো বল একটু সুইং করলেই তথাকথিত সব আধুনিক গ্রেটের বারোটা বেজে যায়। সবুজ উইকেটে, সুইং বোলিংয়ের সামনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অবস্থাও ছিল তথৈবচ। পূজারা নিজের জাত চেনালেন আর ভারতকে বাঁচালেন। প্রথম দুই দিনে উইকেট ছিল সবচেয়ে কঠিন। সেখানেই ব্যাট ক্যারি করা, অবিশ্বাস্য!

ক্রিকেট তার অনুগত ছাত্রদের কখনো খালি হাতে ফেরায় না!

*** একটি ওভার করার জন্য ৩৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি জমিয়েছেন ক্যামেরন বয়েস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টির দলে ছিলেন। সোমবার সেই ম্যাচে এক ওভার বোলিং করে দিয়েছেন ১৯ রান। ব্যাটিং পান নি। এই ম্যাচ খেলতে ব্রিসবেন থেকে উড়ে এসেছিলেন কার্ডিফে, সাড়ে ১৬ হাজার কিমি পাড়ি দিয়ে। যেহেতু ওয়ানডে দলে নেই, এই লেগ স্পিনার আবার ফিরছেন ব্রিসবেন। আবার সাড়ে ১৬ হাজার কিমি! একটি ওভার করার জন্য আকাশের বুকে প্রায় ৫০ ঘন্টা!

টি-টোয়েন্টি, লেগ স্পিনার…ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিশ্চয়ই জানত মার-টার খেলে ২-১ এভারের বেশি বোলিং নাও হতে পারে বয়েসকে দিয়ে। একটি ম্যাচের জন্য না আনলেও চলত, ওয়ানডে দলের কাউকে দিয়ে অনায়াসেই চালানো যেত কাজ। কিন্তু তার পরও তারা বয়েসকে আনিয়েছে। আগামী বছর ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি ভঅরতে, সেটির ভাবনায় বয়েস যে ভালো মতোই আছেন!

এটাকেই বলে পেশাদারিত্ব। ভাবনার গভীরতা, দূরদৃষ্টি। কাজে লাগতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু পরিকল্পনাটা তো আছে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

sixteen − 2 =