ক্রিকেট কালচার

৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে ইংল্যান্ড। প্রথম ওয়ানডের আগে সময় পাবে ৭ দিন। টেস্ট সিরিজের আগেও আছে এরকম বেশ লম্বা গ্যাপ। ওয়ানডে সিরিজের আগে একটি, টেস্ট সিরিজের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। আবহাওয়া-কন্ডিশন-পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে যতটা সম্ভব সুবিধা ইংল্যান্ড আদায় করে নিয়েছে। আমি নিশ্চিত, আরও প্রস্তুতি ম্যাচ তারা চেয়েছিল। দর কষাকষি করে এইটুকু আদায় করেছে। আদায় করেছে, কারণ এই সুবিধাটা তারা অন্যদের দেয়। ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া সব দলকেই দেয়।

অস্ট্রেলিয়া-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলগুলিই শুধু নয়, বাংলাদেশের কথাই ভাবুন। ২০০৫ সালের সফরের বাংলাদেশের ২ টেস্টের আগে ৩টি তিনদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েছিল ইংল্যান্ড। ন্যাটওয়েস্ট ওয়ানডে টুর্নামেন্টের আগে দিয়েছিল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ। ২০১০ সালের সফরেও একইরকম। দুটি টেস্ট ম্যাচের আগে তিনটি তিনদিনের ম্যাচ। সেগুলিও স্রেফ দায়সারা নয়, সারে, এসেক্স ও ইংল্যান্ড লায়ন্সের মত শক্তিশালি দলের বিপক্ষে (প্রস্তুতি ম্যাচের দুটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ)। ওয়ানডে সিরিজের আগে যথারীতি দুটি গা গরমের ম্যাচ।

এসব বলার অর্থ একটিই–কালচার। ক্রিকেট কালচার। আমাদের দেশে, এই উপমহাদেশেও, বেশির ভাগ সময়ই ফুল সিরিজ বা পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সূচি একরকম ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ টাইপ। যত টাইট, যতটা চিপায়-চাপায় পারা যায়, সেরে ফেলা হয়। খরচ কিছুটা কম হয়।

ইংল্যান্ড এখনও পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সম্মানটাকে ধরে রেখেছে। অতিথি দলকে তারা নিজ আঙিনায় মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ দেয়। নিজেরা কোথাও সফরে গেলে একই আতিথেয়তা আশা করে। তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি এটা।

খুব বড় কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট সংস্কৃতির এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলি হারিয়ে যাচ্ছে বলেই ক্রিকেট তার ক্রিকেটত্ব হারাচ্ছে! আজ দুই সপ্তাহের উইন্ডো পেয়ে মিনি আইপিএল হচ্ছে। সামনে মাইক্রো আইপিএল, ন্যানো আইপিএল হবে। অন্য লিগগুলোও একই পথে হাঁটবে। আমাদের দেশে আমরা টি-টোয়েন্টির জন্য টেস্ট সিরিজ স্ক্র্যাপ করব। এগুলো কিছুই বিচ্ছিন্ন নয়। সবই একই ধারাবাহিকতার অংশ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 3 =