কৌটিনিয়ো -একজন জাদুকর

bleacherreport

ফিলিপ্পে কৌটিনিয়ো। লিভারপুল ক্লাবে মাঝমাঠের জাদুকর। দশ নম্বর জার্সি পরিহিত এই ব্রাজিলিয়ান ইতিমধ্যেই হয়ে উঠেছেন লিভারপুল দলের মূল ভরসা। গল্পটা একটু আলাদা।

bleacherreport

ফুটবলের শুরুটা ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ভাস্কো দা গামা’র হয়ে। ভাস্কো দা গামা’র ইয়ুথ টিমে থাকতেই অসাধারণ নৈপুণ্য আর স্বভাবসুলভ ব্রাজিলিয়ান মুভমেন্টে ইতালিয়ান পরাশক্তি ইন্টার মিলানের নজরে আসেন তিনি।

ভাস্কো ডা গামা'র হয়ে কৌটিনিও
ভাস্কো ডা গামা’র হয়ে কৌটিনিও

৪ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে মাত্র ষোল বছর বয়সে ব্রাজিল ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমান কৌটিনিয়ো। যোগদানের ২ বছর পর ইন্টারের মূল দলে খেলার সুযোগ পান তিনি। সে সময়ে ইন্টার মিলানের ম্যানেজার রাফা বেনিতেজ তাঁকে বলেছিলেন “ইন্টারের ভবিষ্যৎ”। কিন্তু ভালো যায়নি সময়। ফর্মের উত্থান পতনে নিজের জায়গা হারান এই জাদুকর। ইন্টারের হয়ে ২৮ ম্যাচে গোল করেন ৩ টি।

coutinho_1

২০১১-২০১২ মৌসুমে ধারে চলে যান স্পেনে। এস্পানিওলে যোগদানের পরও নিজেকে হারিয়ে খুঁজতেন কৌটিনিয়ো। এস্পানিওলের হয়ে ১৬ ম্যাচে করেন ৫ গোল।

এসপ্যানিওলের হয়ে সম ততটা ভালো কাটেনি কৌটিনিওর
এসপ্যানিওলের হয়ে সময় ততটা ভালো কাটেনি কৌটিনিওর

এরপরের গল্পটা ভিন্ন। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দলবদলের মাসে সাড়ে আট মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইন্টার থেকে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলে যোগ দেন কৌটিনিয়ো। পেলেন দশ নম্বর জার্সি। এর আগে লিভারপুলে এই জার্সি পড়েছিলেন লুইস গার্সিয়া, মাইকেল ওয়েন, জন বার্ন্সের মতো কিংবদন্তীরা। চাপ সামলে নিজেকে তৈরি করার নতুন মিশনে কৌটিনিয়ো। ব্রেন্ডান রজার্সের নতুন চিন্তাভাবনা, ভিন্ন ধারার ফুটবলে কান্ডারি হয়ে উঠেন এই ব্রাজিলিয়ান।

philippe-coutinho-arrives-at-liverpool-fc-341308275

লিভারপুল দলে পূর্ণ অভিষেক হয়ে এনফিল্ডে সোওয়ানসির বিপক্ষে। ঐ ম্যাচেই করেন গোল। সুয়ারেজের বাড়িয়ে দেয়া বলে নিপুণ দক্ষতায় বল জালে জড়ান কৌটিনিয়ো। পরের ম্যাচে উইগ্যানের বিপক্ষে করেন দুটি এসিস্ট। নতুন করে চিনলেন নিজেকে, চেনালেনও। লিভারপুল পাঁড় বাঙ্গালী ভক্তদের কাছ থেকে নাম পেলেন – “জাদুর কৌটা”।

অভিষেকে উদ্ভাসিত কৌটা
অভিষেকে উদ্ভাসিত কৌটা

সব কিছু সুন্দর যাচ্ছিল। নতুন শহর, নতুন ক্লাব, নতুন সংস্কৃতি – বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিচ্ছিলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সোয়ানসি’র বিপক্ষে মাঠে নেমে কাঁধের ইঞ্জুরিতে পড়েন “জাদুর কৌটা”। দুই মাসের ইঞ্জুরি শেষে মাঠে নামলেন ফুলহ্যামের সাথে। লিভারপুলের স্বপ্নের সিজন ২০১৩-১৪ মৌসুমে কৌটিনিয়ো ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। এভারটন, ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, টটেনহ্যাম হটস্প্যার এর সাথে গোল করেছিলেন সেই মৌসুমে। ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেলেন। শুরু হল নতুন পথ চলা।

ব্রাজিলের হয়ে কৌটিনিও
ব্রাজিলের হয়ে কৌটিনিও

২০১৪-১৫ মৌসুমের শুরু থেকেই লিভারপুলের অন্যতম প্রধান তারকা ভাবা হচ্ছিল তাঁকে। কিন্তু সুয়ারেজ-স্টারিজ বিহীন লিভারপুল অ্যাটাকে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না কৌটিনিয়ো। দল নিয়ে নতুন করে ভাবলেন ব্রেন্ডান রজার্স। নতুন ফরম্যাশনে স্টার্লিং কে স্ট্রাইকার করে কৌটিনিয়ো কে খেলালেন স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনে। বদলে যেতে শুরু করলো হিসাব নিকাশ। চলতি মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে সবচাইতে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করা প্লেয়ারও তিনি।

hi-res-b7c0fad90c44063eb08803c6848c4853_crop_north

অসাধারণ মুভমেন্ট, দারুন সব স্কিল, চোখ ধাঁধানো পাসিং, থ্রু বলে নিজেকে মহীরুহে পরিনত করলেন “জাদুর কৌটা”। যার স্বীকৃতিস্বরূপ লিভারপুলের হয়ে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে, যেই চুক্তি তাঁকে লিভারপুলে রাখবে ২০২০ সাল পর্যন্ত।

B87Mto8IcAAkdRj.jpg-large

স্ত্রী এনি কৌটিনিয়োকে নিয়ে সদা হাস্যোজ্জল সেলফি তোলা এই তরুণ ব্রাজিলিয়ানের নাম উচ্চারিত হচ্ছে স্পেনের ইস্কো, স্বদেশী অস্কারের সাথে। পুরোটা ক্যারিয়ার পড়ে আছে সামনে। পারবেন কি তিনি নিজেকে নিয়ে যেতে তার আইডল রোনালদিনহো’র উচ্চতায়? সময় বলে দেবে সব। আপাতত আমরা উপভোগ করি লাল জার্সিতে তার সম্মোহনী জাদুশৈলী।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen + fifteen =