কোম্যানে আস্থা বার্সেলোনার

রোনাল্ড কোম্যান। ছিলেন জোহান ক্রুইফের প্রিয় শিষ্য। নেদারল্যান্ড থেকে বার্সেলোনা, জোহান ক্রুইফ ভরসা করেছেন তার উপর। ক্রুইফের বার্সেলোনা ‘ড্রিম টিম’ এর সদস্য ছিলেন। নিজে ডিফেন্ডার হলেও বার্সার জার্সি গায়ে ১৯২ ম্যাচে করেছেন ৯০ গোল। এমনকি কোম্যানের গোলেই প্রথম বারের মতন ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জেতে বার্সেলোনা। সেই কোম্যানের উপরই এবার আস্থা রাখছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। আর তার সহকারী হিসেবে থাকছেন আরেক বার্সা লিজেন্ড হেনরিক লারসন যিনি বার্সার দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী গোলে এসিস্ট করেছিলেন। বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে ক্লাবটির ম্যানেজমেন্ট।

সেই কোম্যানই এখন বার্সার সারথি

২০১৫ সালে সর্বশেষ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পর থেকে কয়েক বছর ধরেই স্বরূপে নেই বার্সা। ৫ বছরে ৩ বার লা লীগায় চ্যাম্পিয়ন হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে গিয়ে বারবার অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের মুখে পড়েছে ক্লাবটি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে এথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ তে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়। ২০১৬-১৭ মৌসুমে জুভেন্টাসের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ তে হেরে বাদ পড়তে হয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে এএস রোমার সাথে প্রথম লেগে ৪-১ গোলের ব্যবধানে জিতে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় লেগে ৩-০ গোলে হেরে অ্যাওয়ে গোল বিবেচনায় বাদ পড়ে যায় বার্সেলোনা। ২০১৮-১৯ মৌসুমে সেমি ফাইনালে প্রথম লেগ ৩ গোলে জিতেও দ্বিতীয় লেগে ৪-০ গোলে হেরে আবারো বাদ পড়ে যায় বার্সা। আর সর্বশেষ ২০১৯-২০ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে হেরে বিধ্বস্ত হয় ক্লাবটি।

বার্সার প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ এসেছিল কোম্যানে ভর করেই

লুইস এনরিকের বিদায়ের পর অার্নেস্টো ভালভারদে এবং কিকে সেতিয়েন ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। ভালভারদে ৪ টি ট্রফি জিতলেও, সেতিয়েনের ৬ মাস বার্সার জন্য ছিল শুধুই হতাশার। কিছুই হয়নি যেন ঠিকমতো। নেইমার পিএসজিতে যাওয়ার পর ৩ বছরেও তার রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পায়নি বার্সেলোনা। একের পর এক খেলোয়াড় কিনে আনলেও কেউই সাফল্য এনে দিতে পারেননি। সেই সাথে যোগ হয়েছে লুইস সুয়ারেজের অফ ফর্ম আর ওসমানে ডেম্বেলের ইনজুরি। মিডফিল্ডে বুসকেটস, রাকিটিচ, ভিদালদের গতি আর আগের মত নাই বয়সের কারণে। কৌতিনহো কে লোনে পাঠানো হয়েছিল বায়ার্নে। ডিফেন্সে পিকের বয়স হয়ে গেছে ৩৩, আগের ফর্ম নাই তারও। নেলসন সেমেডো বারবার পরাস্ত হচ্ছেন প্রতিপক্ষের কাছে। লিভারপুল ম্যাচের পর থেকে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন এখনো জর্ডি আলবা। আর শেষ ভরসা লিওনেল মেসিও যেন আগের চেয়ে একটু নিষ্প্রভ। সব মিলিয়ে কিছুই যেন ঠিক নেই বার্সেলোনায়। সাথে যোগ হয়েছে ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ এর প্রতি সবার অনাস্থা। বোর্ডের সাথে মিটমাট না হওয়ায় ক্লাব ছাড়েন ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা। আরেক কোচ লুইস এনরিকেও বোর্ডের সাথে সমস্যার কারণে ক্লাব ছেড়ে যান। ভালভারদের বিদায়ের পর প্রেসিডেন্ট বার্তোমেউ যোগাযোগ করেছিলেন ক্লাব লিজেন্ড রোনাল্ড কোম্যান এবং জাভির সাথে। দুইজনই এই বোর্ডের অধীনে ম্যানেজার হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

রেনাল্ড কোম্যানের স্বপ্নই ছিল বার্সার কোচ হওয়ার। বিভিন্ন সময়ে তিনি তা জানিয়েছেন মিডিয়ায়। এমনকি নেদারল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়ার সময় চুক্তিপত্রে তার বিশেষ শর্ত ছিল বার্সেলোনার কোচ হবার প্রস্তাব পেলে যেকোনো সময় তিনি ডাচ দের ছেড়ে চলে যেতে পারবেন। ২ বছর দায়িত্ব পালন করে ডাচ জাতীয় দলকে সাফল্যের সাথে পরিচালনা করেছেন তিনি। জানুয়ারি তে দায়িত্ব নিতে রাজি না হলেও, কার্ডিয়াক সার্জারির পর কোম্যানের মনে হয়েছে জীবনে কোনো সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। তাই তিনি এবার রাজি হন বার্সেলোনার দায়িত্ব নিতে।

ক্রুইফের অন্যতম প্রিয় শিষ্য ছিলেন এই কোম্যান।

ক্রুইফের প্রিয় এই শিষ্য জানিয়েছেন তিনি লা মাসিয়ার তরুণ দের উপর আস্থা রাখতে চান। যা গত কয়েক বছরে কোচদের মধ্যে দেখা যায় নি। আনসু ফাতি, রিকি পুজ, রোনাল্ড অারাউহো, ট্রিনকাও, ইনাকি পেনা দের নিয়মিত মাঠে দেখা যেতে পারে এই মৌসুমে। সেই সাথে মেসি, কৌতিনহো, স্টেগান রা আছেনই। তরুণ ডেম্বেলে ফিট থাকতে পারলে তিনিও হবে বার্সার ভরসা।

নতুন মৌসুমে নতুন কোচের অধীনে বার্সেলোনা কি পারবে নতুন রূপে ফিরতে? জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে লা লীগার নতুন মৌসুম।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four − three =