কোচের বক্তব্য

চন্দিকা হাথুরুসিংহে :

” মুশফিকের চোট ছিল দুর্ভাগ্যজনক। কারণ ভালো ফর্মে ছিল, প্রথম ম্যাচে রানও করেছে। এটা ছিল বড় ধাক্কা। তবে নুরুল এসে ভালো করেছে। তো এই পরিবর্তন আনতেই হতো।

“তিন পরিবর্তনের আরেকটিও বাধ্য হয়ে। ফিজকে বিশ্রাম দিতেই হতো। ফিজিও বলেছে, ৭ মাসের চোটের পর ফিরে ফিজকে ৬ দিনের মধ্যে ৩ ম্যাচ খেলানো যাবে না। তো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কোনটিতে ওকে খেলাব না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দ্বিতীয় ম্যাচই খেলাবো না। কারণ নেলসনে দুই ম্যাচ একই উইকেট খেলা হবে ঠিক করা হয়েছিল। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, ও যে ধরণের বোলার, তাতে একই পিচে দুই দিন খেলা হলে পরের ম্যাচে বেশি কার্যকরি হবে”

“তৃতীয় পরিবর্তন… আমরা দেখতে চেয়েছি, লেগ স্পিনারটা কেমন করেছে। সে অনুশীলনে ভালো বোলিং করেছে। সিডনিতে করেছে, এখানেও নেটে ভালো করেছে। সামনে তাকিয়ে আরও বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপের কথা ভেবে আমরা একজন লেগ স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি”

সিদ্ধান্ত ব্যাকফায়ার অবশ্যই করেনি। কেউ এসেই দুই ম্যাচে ভালো করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবে, এটা তো সম্ভব না! শেন ওয়ার্ন সর্বকালের সেরা স্পিনার। প্রথম দুই ম্যাচে দেখুন, কিছুই করেনি! তানবীর প্রথম ম্যাচে খারাপ করেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রত্যাশা মতো ভালো করেনি, তবে মনে রাখতে হবে আমাদের কোনো স্পিনারই সেদিন ভালো করেনি। কাজে লাগেনি বলে আমরা অবশ্যই হতাশ। তবে আমি কখনোই দুই-এক ম্যাচ দেখে কোনো ক্রিকেটারকে বিচার করি না। ওর মধ্যে কিছু আছে দেখেই আমরা ওকে দলে নিয়েছি।”

“নির্বাচকরা তাকে দলে নিয়েছে একজন লেগ স্পিনার হিসেবে, যে ব্যাট করতে পারে। আড়াই বছর আগে আমার দায়িত্বের শুরু থেকেই একজন লেগ স্পিনার খুঁজে আসছি। আমরা যার মাঝে সম্ভাবনা দেখেছিলাম, দূর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু কারণে সে ভালো করেনি । তানবীরকে আমরা ভেবেছি পরের সেরা। সেই কারণেই সে এখানে। আমরা ওকে দেখে নিতে চাই”

” সৌম্যর দ্বিতীয় ম্যাচ না পাওয়া অবশ্যই ওর জন্য একটু হার্ষ হয়ে গেছে। তবে ট্যাকটিক্যালি আমাদের দলে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। উইকেট দেখার পর আমাদের মনে হয়েছিল যে আরেকজন স্পিনার প্রয়োজন। মুশফিকের চোটেও কম্বিনেশন বদলাতে হয়েছে।”

“তবে সৌম্য যখনই রান করেছে, আমরা ম্যাচ জিতেছি। এই কারণেই এখনও ওর ওপরে ভরসা রাখছি আমরা। এখনও ওর গড় চল্লিশের বেশি, স্ট্রাইকরেট ১০০, বাংলাদেশে এরকম আর কে আছে? বিশ্ব ক্রিকেটেই কজন আছে! এই ছেলেটা খেলতে জানে। আপনি যদি খেয়াল করেন, বিশ্বক্রিকেটের এখনকার সেরা ব্যাটসম্যানরা স্মিথ, রুট সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছে, একটু খারাপ সময় এসেছে, আবার ফিরে এসেছে। আমি আশা করি সৌম্যই যত দ্রুত সম্ভব নিজেকে ফিরে পাবে।

“সিনিয়রদের এগিয়ে আসতেই হবে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে গিয়ে প্রথম সফরে আসা নতুন ছেলের ওপর বেশি ভরসা করা যায় না। সিনিয়রদের এগিয়ে আসতে হবে। সিনিয়রা যখন ব্যাটিং করবে, শুরুটা ভালো করলে সেটা বড় কিছু রূপ দিতেই হবে। এমনকি বোলিংয়ে নিয়েও আমি হতাশ। নিজেদের পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায় করতে পারিনি। দ্বিতীয় ম্যাচের কথাই যদি ধরি, ওরা ২৫২ রান করতে পারে না। ৮ উইকেটে ২০০ রানের পর খুব বেশি রান দিয়ে ফেলেছি আমরা। প্রথম ম্যাচে ৩৪১ রানও খুব বেশি ছিল। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে আমরা নিজেদের প্রতিভা-সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার করিনি। আমাদের দুর্বলতা কজে লাগিয়েছে নিউ জিল্যান্ডের মত দুর্দান্ত দল।”

” শুভাগত কেন দলে? আপনি যদি ওর শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কথা চিন্তা করেন, সেটি ছিল গত বিশ্বকাপে। দল নির্বাচনে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে। আমি দলে স্থিতিশীলতা রাখতে”চাই। সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে এবং শেষ দুই ম্যাচে ভালো বোলিং করেছে। ওর সঙ্গে একই জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়ত মোসাদ্দেকের। সেও একইরকম বেশ ভালো ক্রিকেটার। আমি আশা করি একাদশ জায়গা নিয়ে ওরা জোর লড়াই করবে।

” নাসিরকে প্রচুর রান করতে হবে এবং উইকেট নিতে হবে! ওকে যখনই দলে নেওয়া হয়েছে, গত দুই বছরে ওর রেকর্ড দেখুন, সব পরিস্কার হয়ে যাবে। রেকর্ড দেখলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। আপনি প্রশ্ন করছেন, কারণ হয়ত আপনার ধারণা, আমার এখানে ভূমিকা আছে। মোটেও তা নয়! আমি পরিসংখ্যান ও দলে অবদান দেখে কাজ করি। সে অবদান রাখতে পারেনি। আর এই সিরিজে এই কন্ডিশনে তো আমরা হয়ত তিনজন সিমার নিয়ে খেলব। স্কোয়াডে একইরকম ক্রিকেটার দুজনের (শুভাগত ও মোসাদ্দেক) বেশি বয়ে বেড়ানোর দরকার নেই।”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 9 =