কে লিখেছে এমন চিত্রনাট্য?

কে লিখেছে এমন চিত্রনাট্য? রূপকথাও বুঝি এতটা রূপকথাময় হয় না!

লেন্ডল সিমন্সের এই ম্যাচ খেলার কোনো কারণ ছিল না। দলেই তো ছিলেন না! ম্যাচটি দেখার কথা ছিল টিভি পর্দায়, ক্যারিবিয়ার কোনো পাবে, কিংবা নিজ বাড়িতে। কে জানে, হয়ত দেখতেনও না! আজ তিনিই নায়ক!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দলে শুরুতে ছিলেন সিমন্স। কিন্তু পরে ছিটকে গেলেন পিঠের চোটে। তার জায়গায় সুযোগ পেলেন এভিন লুইস। সেই সিমন্সের সুযোগ এলো আরেকজনের চোটে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগে বিশ্বকাপ শেষ হলো আন্দ্রে ফ্লেচারের। ততদিনে সেরে উঠেছেন সিমন্স। ফোন পেয়ে সেদিনই রওনা হতে পারেননি টিকিট না পাওয়ায়, পরদিনই উড়ে এলেন। আসলে উড়ে আসছিলেন তিনি দলের ত্রাণকর্তা হতে। দলকে ফাইনালে তুলতে।

ভাগ্য তাকে ক্যারিবিয়া থেকে উড়িয়ে আনল ভারতে। প্রথমবার মাঠে নামলেন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে। দুবার ক্যাচ দিয়েও টিকে রইলেন দুবারই নো-বল হওয়ায়। আরেকবার ক্যাচ হয়েও ছক্কা পেলেন ফিল্ডারের পা সীমানা স্পর্শ করায়। এবং শেষ পর্যন্ত অসাধারণ এক ইনিংসে ফাইনালে তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে!

ক্যাচ হয়েও নো বলে বেঁচে যাওয়াকে জীবনেও আমি ভাগ্যবান বা ভাগ্যের ছোঁয়া বলি না। নিখাদ বোলারের ভুল। আমার বিশ্বাস, বোলারের পা যদি আর কয়েক মিলিমটার পেছনে থাকত, বলটি ‘নো’ না হত, তাহলে হয়ত বল একই জায়গায় থাকত না বা একই পেসে যেত না। হয়ত ব্যাটসম্যানের টাইমিংয়ে একইরকম গড়বড় হতো না। হয়ত বল ওই ফিল্ডারের কাছে যেত না! এই জায়গাটায় কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধানটা আসলে অনেক।

মাঝে মধ্যে এরকম দু-একটি ম্যাচের প্রয়োজন হয়, সংশয়বাদী আর নৈরাশ্যবাদীদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। খেলাটাকে যারা বিভিন্ন স্বার্থে কাজে লাগানোর উপকরণ বানিয়েছেন, তাদের জন্যই কেবল ক্রিকেট বিতকিত হয়। নইলে দিন শেষে, ক্রিকেটের চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই!

আমার সেই পুরোনো কথাটিই আকেবার বলি, ক্রিকেট ইউ ব্লাডি বিউটি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × four =