কে কে আসছেন মরিনহোর ছায়াতলে?

এপ্রিলের শেষ, লিগ শেষ হতে দলগুলোর মাত্র চার-পাঁচটা করে ম্যাচ বাকী। ফলে যথারীতি দলবদলের বাজার নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলো জুনের এক তারিখ থেকে খেলোয়াড় কিনতে-বেচতে পারলেও, তার আগে কোন খেলোয়াড় নিজের দলের জন্য উপযুক্ত সেটা পছন্দ করতে ত বাধা নেই তাই না? আজকের আলোচনা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিয়ে।

হোসে মরিনহো দায়িত্ব নেওয়ার পর চলমান মৌসুমটি ছিল মরিনহোর অধীনে ইউনাইটেডের প্রথম মৌসুম। ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী ট্রান্সফার ফি দিয়ে পল পগবাকে আনা, ও সাথে এরিক বাইয়ি, হেনরিক মিখিতারিয়ান ও জলাতান ইব্রাহিমোভিচের আসার পরেও এই মৌসুমে মনে হচ্ছেনা পয়েন্ট তালিকায় ছয় নাম্বারের উপরে উঠতে পারবে রেড আর্মিরা। আর তা যদি না করতে পারে, বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ম্যান ইউনাইটেড ভক্তদের জন্য বিষয়টা খুবই হতাশার হবে। আর তাহলে পরবর্তী মৌসুমে ভালো করার জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খসাতেও হোসে মরিনহোর বিন্দুমাত্র বাঁধবে না। তাই ইউনাইটেড সমর্থকেরা মোটামুটি নিশ্চিত থাকতে পারেন, মৌসুম শেষে অনেক খেলোয়াড়ের আসা-যাওয়া দেখতে হবে তাদের।

শুরু করা যাক গোলকিপিং পজিশান থেকে। এই পজিশানে এই মৌসুমে ইউনাইটেডে আছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড ডা হেয়া ও তাঁর ডেপুটি হিসেবে আছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। তৃতীয় গোলরক্ষক জ্যোয়েল পেরেইরা। তাছাড়া এই মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলা তে ধারে খেলছেন ইংলিশ গোলরক্ষক স্যাম জনস্টন। ২০১৫ সালের ট্রান্সফার উইন্ডোতে ডেভিড ডা হেয়াকে না পাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ দুই বছর পর এবার অতি অবশ্যই ডেভিড ডা হেয়াকে দলে চাইবে, শোনা যাচ্ছে সেটা জোরেশোরে। ডা হেয়াকে পাওয়ার জন্য ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটা প্রস্তাবও প্রস্তুত করছে তারা। ডা হেয়া রিয়াল মাদ্রিদে এই অর্থের বিনিময়ে যোগ দিলে তিনি হয়ে যাবেন বিশ্বের ইতিহাসের সবচাইতে দামী গোলরক্ষক, আগের রেকর্ডটি ছিল জিয়ানলুইজি বুফনের, ৫৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পারমা থেকে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছিলেন তিনি, ২০০১ সালে।

ডেভিড ডা হেয়াকে এর মধ্যে বলে মরিনহো বলেও দিয়েছেন, ডা হেয়া চলে যেতে চাইলে আটকাবেননা মরিনহো। আর সেক্ষেত্রে ইউনাইটেডের নতুন নাম্বার হতে পারেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। ওবলাকের এজেন্টের সাথে এরই মধ্যে ইউনাইটেড বলে কথাবার্তাও শুরু করে দিয়েছে। অন্যান্য গোলরক্ষকের মরিনহো পছন্দের তালিকায় আছেন লেস্টার সিটির ড্যানিশ গোলরক্ষক ও সাবেক ইউনাইটেড কিংবদন্তী পিটার শ্মাইকেলের ছেলে, ক্যাসপার শ্মাইকেল। এদিকে সার্জিও রোমেরোকে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান চাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। দলে আসতে পারেন এআইকে সলনার তরুণ সুইডিশ গোলরক্ষক স্যামুয়েল ব্রলিন।

আরও পড়ুন…

নিজেদের কিভাবে গড়বে আর্সেনাল?

সিটি ঢেলে সাজানোর ছক গার্দিওলার

ডিফেন্স, মিডফিল্ড না উইং – কোণটা শক্তিশালী করবে লিভারপুল?

রাইটব্যাক পজিশানে আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়ার দল ছাড়ার কোন সম্ভাবনাই নেই, তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে পরবর্তী মৌসুমে দেখা যেতে পারে ইউনাইটেডের ডাচ ডিফেন্ডার টিমোথি ফসু মেনশাহ কে, তবে মাত্তেও দারমিয়ানের থাকার সম্ভাবনা একটু কম। এসি মিলানসহ বিভিন্ন ইতালিয়ান ক্লাবের নজরে পড়েছেন দারমিয়ান, তবে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ স্কোয়াড প্লেয়ার হিসেবে হয়ত মরিনহো তাঁকে রেখে দিতেও পারেন। এদিকে পিএসজির আইভোরিয়ান রাইটব্যাক সার্জ অরিয়েরের প্রতিও আগ্রহী ইউনাইটেড।

সেন্টারব্যাক পজিশানে মরিনহোর স্কোয়াডে এখন আছেন ক্রিস স্মলিং, ফিল জোনস, এরিক বাইয়ি ও মার্কোস রোহো। এদের মধ্যে পরবর্তী মৌসুমে অবধারিতভাবে দলে থাকছেন এরিক বাইয়ি ও মার্কোস রোহো। ক্রিস স্মলিং ও ফিল জোনসকে বিক্রি করে দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। সেক্ষেত্রে সেন্টারব্যাক পজিশানে মরিনহোর রাডারে আছেন সাউদাম্পটনের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক, মরিনহোর অন্যান্য পছন্দের সেন্টারব্যাকের মধ্যে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসী সেন্টারব্যাক রাফায়েল ভ্যারেন, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মার্ক্যুইনহোস, বেনফিকার সুইডিশ সেন্টারব্যাক ভিক্টর লিন্ডেলফ ও বার্নলির সাবেক ইউনাইটেড ডিফেন্ডার মাইকেল কিন। লেফটব্যাকে ইংলিশ ডিফেন্ডার লুক শ এর চলে যাওয়া মোটামুটি নিশ্চিত, টটেনহ্যাম তাঁর উপর আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে। লুক শ, ক্রিস স্মলিং আর ফিল জোনসের মধ্যে যে কোন দুইজন অতি অবশ্যই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ছেন।

সেন্টার মিডফিল্ডে মরিনহোর দলে এখনও আছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার অ্যান্ডার হেরেরা, ফরাসী মিডফিল্ডার পল পগবা, ইংলিশ মিডফিল্ডার মাইকেল ক্যারিক, বেলজিয়ান মিডফিল্ডার মারুয়ান ফালাইনি। এদের মধ্যে তেমন কারোরই দল ছাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা। তবুও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে মরিনহো যদি কাউকে আনতে চান সেক্ষেত্রে তাঁর পছন্দের তালিকায় আছেন মোনাকোর ফরাসী মিডফিল্ডার তিমুইয়ে বাকায়োকো, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের ফরাসী মিডফিল্ডার ব্লেইজ মাতুইদি, টটেনহ্যাম হটস্পারের ইংলিশ মিডফিল্ডার এরিক ডায়ার। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ও উইং প্লেয়ারদের তালিকায় মরিনহোর অধীনে এখন আছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হুয়ান মাতা, আর্মেনিয়ান মিডফিল্ডার হেনরিখ মিখিতারিয়ান, ইংলিশ মিডফিল্ডার হেসে লিনগার্ড ও অ্যাশলি ইয়াং – এদের সাথে পরবর্তী মৌসুমে যুক্ত হতে পারেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফরাসী সুপারস্টার আতোয়াঁ গ্রিজম্যান, নাপোলির বেলজিয়ান ড্রাইস মার্টেন্স, মোনাকোর পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা, রিয়াল মাদ্রিদের হামেস রড্রিগেজের মধ্যে যে কেউ। বিশেষত ডেভিড ডা হেয়া যদি রিয়াল মাদ্রিদে যানই, সেক্ষেত্রে মরিনহো অবশ্যই রিয়াল থেকে কোন না কোন খেলোয়াড় আনবেনই।

ইউনাইটেড ছাড়ছেন ওয়েইন রুনি

ইউনাইটেডের স্ট্রাইকারদের মধ্যে এখন রয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি ও মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, সুইডিশ সুপারস্টার জলাতান ইব্রাহিমোভিচ, ফরাসী স্ট্রাইকার অ্যান্থনি মার্সিয়াল। এদের মধ্যে র‍্যাশফোর্ড ইউনাইটেডে থাকবেন এটা নিশ্চিত। ওয়েইন রুনি এত বছর ইউনাইটেডে থাকার পর এবার পাড়ি জমাতে পারেন তাঁর সাবেক ক্লাব এভারটনে, সদ্য ইনজুরিতে পড়া এক বছরের চুক্তিতে ইউনাইটেডে আসা ইব্রাহিমোভিচও ইউনাইটেডে থাকবেন না বেশীদিন একথা শোনা যাচ্ছে। ওদিকে ফর্মহীনতায় থাকা মার্সিয়ালও হয়তোবা শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেডে থেকে যাবেন, তবে তাঁর ভূমিকাটা অনেকটা স্কোয়াড প্লেয়ারের মত হতে পারে।

নতুন স্ট্রাইকারদের মধ্যে দলে আনার জন্য মরিনহোর পছন্দের তালিকায় আছেন এভারটনের বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু, তোরিনোর ইতালিয়ান স্ট্রাইকার আন্দ্রেয়া বেলোত্তি, রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা, সাম্পদোরিয়ার স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক ও জুভেন্টাসের পাবলো ডাইবালা। অর্থাৎ সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ট্রান্সফার গুঞ্জন অনুযায়ী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পরবর্তী মৌসুমে যারা আসতে পারেন…

ক্যাসপার শ্মাইকেল

ভিক্টর লিন্ডেলফ

সার্জ অরিয়ের

মাইকেল কিন

হামেস রড্রিগেজ

আলভারো মোরাতা

ক্লাব ছাড়ছেন যারা…

লুক শ

ডেভিড ডা হেয়া

সার্জিও রোমেরো

ওয়েইন রুনি

জলাতান ইব্রাহিমোভিচ

আদনান ইয়ানুজাই

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − 7 =