কে এই এলনেনি?

৭.৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে সুইস ক্লাব এফসি বাসেল থেকে আর্সেনালে নাম লিখিয়েছেন মিশরীয় সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার মোহামেদ এলনেনি। মৌসুমের প্রায় অর্ধেক শেষ, আর্সেনাল রয়েছে শীর্ষে। স্বাভাবিকভাবেই প্রায় এক যুগ পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সুযোগটাকে হেলায় হারাতে চাইবেন না আর্সেন ওয়েঙ্গার। পাছে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের কারণে শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যায়, তাই মিকেল আর্টেটা, ফ্র্যান্সিস কক্যুইলান, ম্যাথিউ ফ্লামিনি, টমাস রসিচকি, জ্যাক উইলশেয়ারদের ইনজুরির কারণে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের হাল ধরার জন্য ওয়েঙ্গার তাই সময় নষ্ট করেননি, বাসেল থেকে দ্রুতই নিয়ে এসেছেন এই এলনেনিকে। কিন্তু কে এই মোহামেদ এলনেনি?
 
মিশরের বিখ্যাত আল আহলিতে খেলা শুরু করার পর আল মোকাউলুন হয়ে বাসেলে নাম লেখান এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। সেখান থেকেই আর্সেনালে আসা। ওয়েঙ্গার মূলতঃ এলনেনিকে নিয়ে এসেছেন ক্লাবের একমাত্র প্রতিষ্ঠিত সেন্ট্রাল মিডফিল্ড ডেস্ট্রয়ার ফ্র্যান্সিস কক্যুইলানের ব্যাকআপ হিসেবে।
hi-res-6e322dc618eb36758b9ac1dcca5b73ef_crop_north
 
একজন ডেস্ট্রয়্যার হিসেবে যাদের নাম চোখের সামনে ভেসে আসে – এসি মিলান কিংবদন্তী জেনারো গাত্তুসো, চেলসির কিংবদন্তী ক্লদ ম্যাকেলেলে কিংবা হালের জুভেন্টাসের স্যামি খেদিরা বা চেলসির নেমানিয়া মাতিচ ; যাদের খেলার মূল শক্তিই হল প্রতিপক্ষকে গায়ের শক্তিতে বা কড়া ট্যাকলিংয়ে পরাস্ত করা, এলনেনি এই ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন। গায়ের শক্তি ত আছেই, অন্যান্য সমসাময়িক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার থেকে এলনেনিকে আলাদা করা যায় তাঁর ইন্টারসেপশান করার তুখোড় সময়জ্ঞান ও পরিমিত ট্যাকলিংয়ের কারণে। ট্যাকলিংয়ের পাশাপাশি এলনেনির খেলায় ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে বল পাসিং করার ক্ষমতা, জন ওবি মিকেল বা জেনারো গাত্তুসোর মত ডেস্ট্রয়াররা কিন্তু বল পায়ে ততটা স্বচ্ছন্দ না যতটা না ট্যাকলিংয়ে। এলনেনি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এলনেনির পাসিং অ্যাক্যিউরেসি প্রায় ৯২.৪ শতাংশ, এফসি বাসেলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। বল জোরে শুট করতেও সমান পারদর্শী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, তাঁর ক্যারিয়ার গোলের অধিকাংশই বক্সের বাইরে থেকে শট করে করা। এই পাসিং বা শুটিংয়ের ক্ষমতার কারণে বাসেলের সেটপিসও এই এলনেনিই নিতেন। মিশরীয় বলে যেকোন আফ্রিকান অ্যাথলেটের মত এলনেনির ফুসফুসের জোরও রয়েছে প্রচুর। দৌড়াতে পারেন ক্লান্তিহীন, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চেলসি, লিভারপুল ও টটেনহ্যামের সাথে পাওয়া বাসেলের জয়গুলোতে পুরো নব্বই মিনিট দাপিয়ে বেড়িয়েছেন গোটা মাঠ, সমানতালে।484520744-e1452073415352
 
দেখা যাক, প্রিমিয়ার লিগের গতির সাথে কতটা তাল মেলাতে পারেন ওয়েঙ্গারের নতুন এই শিষ্য!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 + eleven =