কেমন হল স্পেনের ইউরো স্কোয়াড?

টানা তৃতীয়বার ইউরো জয়ের উদ্দেশ্যে ইউরো ২০১৬ ঘিরে স্পেনের ২৫ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে কোচ দেল বস্ক। দল ঘোষণার পরেই শুরু হইছে জল্পনা, কল্পনা কারণ এত তারকা ঘেষা স্প্যানিশ প্লেয়ারদের মধ্যে ২৫ জন বেচে নেওয়াটা দেল বস্কের জন্য টাফ টাস্কই বলা যায়। তাই দল গঠনেও ছিল কিছু প্রশ্ন। বিশেষ করে দারুণ সিজন কাটানো ফার্নান্দো তোরেস, বেল্লেরিন, ক্যাজোরলার চান্স না পাওয়া ও অফফর্মে থাকা পেদ্রো ও আনকোরা লুকাস ভাজকুয়েজের চান্স পাওয়া নিয়ে ভুরু কুঁচকাতে পারেন কেউ কেউ। চলুন দেখে নিন প্রতিটি ডিভিশনে স্পেনের স্কোয়াড ডেপথ কেমন –

গোলকিপারঃ- গোলকিপার পজিশনে জায়গা পেয়েছেন ইকার ক্যাসিয়াস, ডি গেয়া ও সেভিয়ার সার্জিও রিকো। গোলকিপার পজিশন নিয়ে প্রশ্ন নেই, ক্যাসিয়াস দীর্ঘদিনের ভরসার প্রতীক, ডি গেয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দারুণ ফর্মে আছে আর সার্জিও রিকোও সেভিয়ার হয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সুযোগ পেলে সেও জাতীয় দলকে সার্ভিস দিতে প্রস্তুত।

ডিফেন্সঃ- স্পেন ফুলব্যাকদের স্বর্ণখনি স্বরূপ, তাই ফুলব্যাক বেছে নেওয়াটা বেশ কঠিন বটে। দলে রাইট ব্যাক হিসেবে জায়গা পেয়েছে রিয়ালের কারভাহাল ও এটলেটিকোর হুয়ানফ্রান। দুইজনেই অনেক ভাল ফর্মে আছে নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে, কিন্তু আর্সেনালের হয়ে দারুণ সিজন কাটানো ও বিশ্বের অন্যতম স্পিডি রাইটব্যাক হেক্টর বেল্লেরিনের চান্স না পাওয়াটা একটু বিস্ময়ের। কিন্তু কারভাহাল ও হুয়ানফ্রানকে টপকে জায়গা করে নেওয়াটা কঠিন বলে এটা মেনে নিতেই হচ্ছে। অন্যদিকে লেফট ব্যাক পজিশনেও অনেক প্লেয়ার, এর মধ্যে ফেরারি খ্যাত বার্সার স্পিডি লেফট ব্যাক জর্দি আলবা ও চেলসির আজপিলিকুয়েটা পেয়েছেন সুযোগ। ক্লপের আন্ডারে ভাল ফর্মে থাকা আলবার্তো মরেনোর কপাল পুড়েছে এই জায়গাই। সেন্টার ব্যাক পজিশনে পুয়োলের পর থেকে স্পেন একটু সংকটে পরেছে যদিও বার্সা ও রিয়ালের মত জায়ান্ট ক্লাবের দুই মেইন সেন্টার ব্যাক এই দলে আছে কিন্তু ন্যাশনাল টিমের পারফরম্যান্স ক্লাবের মত হয় না বলে এখানে রয়েছে দুশ্চিন্তার কারণ। নেই পর্যাপ্ত ব্যাকআপও। বার্সার অন্য সেন্টার ব্যাক মার্ক বার্ত্রা থাকলেও ক্লাবের হয়ে বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে, আর বিলবাওয়ের মিকেল সান জোসেও খুব একটা আহামরি পারফরম্যান্স দিয়েছেন বলা যায় না। তাই এই জায়গাটা স্পেনের একটা দুর্বল দিক বলা যায়।

মিডফিল্ডঃ- কোয়ালিটি মিডফিল্ডার উপহার দিতে স্পেন কখনো কার্পণ্য করে না, বরং এদের মধ্যে সেরা কারা তা বেছে নিতে পরতে হয় বিপদে কারণ সবাই ইউরোপের ভাল ভাল ক্লাবগুলোতে খেলে ও দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। তাই পর্যাপ্ত মিডফিল্ডার নেওয়ার পরও প্রশ্ন থেকে যায় একে কেন নেওয়া হল না বা একে কি যুক্তিতে বাদ দেওয়া হল। এক নজরে দেখে নি মিডফিল্ডে কারা কারা আছেন – ব্রুনো সরিয়ানো, বুস্কেটস, কোকে, থিয়াগো, ইনিয়েস্তা, ইস্কো, ডেভিড সিলভা এবং সেস্ক ফ্যাব্রেগাস। এত মিডফিল্ডারের ভীড়েও আর্সেনালের ক্যাজোরলা, ইউনাইটেডের মাতা, হেরেরা ও বার্সার সার্জি রবার্তো কেন চান্স পেল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু কোচের হাতে অপশন সীমিত ও যাদের নিয়েছে তারা সবাই খুব ভাল পারফর্মার বলে কিছু করার ছিল না।

ফরোয়ার্ডঃ- সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই ফরোয়ার্ড লাইনকে ঘিরে কারণ এটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে দারুণ সিজন কাটানো ও অসাধারণ কিছু গোল করা স্পেনের পরীক্ষিত সৈনিক ফার্নান্দো তোরেসকে স্কোয়াডে রাখেন নি দেল বস্ক যেখানে স্পেন ফ্যানরা ভেবেছিল স্ট্রাইকারের এই দুর্দিনে হয়ত সুযোগ পেতে যাচ্ছেন নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়া এল নিনো। অন্যদিকে প্রশ্ন আছে অনভিজ্ঞ লুকাস ভাজকুয়েজ ও অফফর্মে থাকা পেদ্রোর অন্তর্ভুক্তি নিয়েও। এদের চেয়ে কি তোরেস বেশি যোগ্য ছিল না? অন্তত এদের একজনের বদলে কি তাকে সুযোগ দেওয়া যেত না? যাই হোক, দেল বস্ক সুযোগ দেন নি যখন তখন বাকিদের উপরেই ভরসা রাখতে হবে। স্পেনের স্ট্রাইকার পজিশন সামলাতে আছেন বিলবাওয়ের হয়ে অসাধারণ একটা সিজন কাটানো আরিজ আদুরিজ ও জুভেন্তাসের আলভারো মোরাতা। এছাড়া উইঙ্গার হিসেবে খেলতে পারেন তরুণ সাউল নিগেজ, লুকাস ভাজকুয়েজ, নোলিতো ও পেদ্রো। এই ফরোয়ার্ড লাইন খুব আহামরি না হলেও মিডফিল্ড থেকে পর্যাপ্ত সাপোর্ট পেলে হয়ে উঠতে পারে ডেডলি।

কিছু প্রশ্ন থাকলেও স্পেনের এই স্কোয়াড নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের অবকাশ নেই। নিঃসন্দেহে স্পেনকে টানা তৃতীয় ইউরো এনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে এই দলটা। সেটাই মনে মনে প্রার্থনা করছে স্পেনের ফ্যানরা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

six + three =