কেন WWE আর আগের মতো ভাল লাগেনা???

প্রশ্ন: কেন এখন আগের মতো WWE আর ভালো লাগেনা?
যারা অনেক আগে থেকে রেসলিং দেখছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই অভিযোগ যে এখন আর WWE আগের মতো ভালো লাগেনা। কিন্তু কেন? বাজে বুকিং, বাজে স্টোরিলাইন, সবকিছু অনেক predictable হয়ে যাওয়া, নাকি অন্য কিছু?
উত্তরটি হচ্ছে ইন্টারনেট। হ্যা, ঠিকই পড়েছেন।
নিঃসন্দেহে ইন্টারনেট বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারগুলোর একটি। এর যেমন কিছু ভালো দিক আছে তেমনি কিছু খারাপ দিকও আছে। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর থেকে সবকিছু আমাদের হাতের মুঠোয় এসে পড়েছে। দেশ-বিদেশের খবর জানতে এখন আর টিভিতে কিংবা খবরের কাগজে দেখানো নির্দিষ্ট পরিমান খবর দেখার প্রয়োজন পড়ে না।
বেশিরভাগ রেসলিং ফ্যানের মতেই WWE তে attitude eraই ছিল WWE এর সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। Attitude era এর সময়কাল হচ্ছে ৯০ এর দশকের শেষের অর্ধেক থেকে ০০ এর দশকের একদম প্রথম দিক। এই সময়টিকেই WWE এর স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই সময়েই WWE সবচেয়ে বেশি সফল ছিল। Attitude era তে WWE weekly show গুলার রেটিং যেমন আকাশচুম্বী ছিল, তেমনি সে সময়ে hardcore wrestling ও এখনকার মতো ঈদের চাঁদ টাইপের ছিলনা। আর সেসময়ে খুব বেশি মানুষ জানতও না যে রেসলিং স্ক্রিপ্টেড। তাই সবাই রেসলিংকে enjoy করত এবং তখন ফেসদের চিয়ার করত আর হিলদের বু দিত।
ইন্টারনেটের কল্যানেই এখন বেশিরভাগ রেসলিং ফ্যানরাই জেনে গিয়েছে যে রেসলিং স্ক্রিপ্টেড। তার উপরে Dave Meltzer এর Wrestling Observer, Squared Circle, Cageside Seats ইত্যাদির কল্যানে এখন রেসলিং এর নাড়ি-নক্ষত্র সবই খুব সহজে জানা যায়। আগামী কয়েক মাসের স্টোরিলাইন কী হবে, আগামী pay per view তে কার opponent কে হবে এবং সেখানে কে কীভাবে জিতবে, কে সার্জারির কারনে কয়মাস থাকবেনা, কাকে ইন্জুরির কারনে দেখা যাবেনা ইত্যাদি সবই পাওয়া যায়। আর এখন তো আরো সহজ হয়ে গিয়েছে। এখন আর আপনাকে কষ্ট করে অনেকগুলা ওয়েবসাইট ঘেটে রেসলিংয়ের খবর কিংবা rumour দেখার প্রয়োজন নাই। কারন ফেসবুকেই এমন অনেক পেজ আর গ্রুপ আছে যেগুলোতে জয়েন করলে কিংবা লাইক দিলেই যথাসময়ে তারা আপনার টাইমলাইনে রেসলিং এর খবরাখবর পৌছিয়ে দিবে।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে ১৯৯৫ সালে, অর্থাৎ যখন attitude era এর শুরু সেসময়ে সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বের জনসংখ্যার 1% এরও অনেক কম। আর বাংলাদেশের মানুষ তখন ইন্টারনেট নামের কিছু আছে নাকি তাও হয়তো জানেনা। Attitude era এর শেষ দিকে অর্থাৎ ২০০২ সালেও ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা সারা বিশ্বের জনসংখ্যার ১০% ও পৌছাতে পারেনাই। আর বাংলাদেশে তখন সবেমাত্র ইন্টারনেট ব্যাবহার শুরু হয়েছে। মাত্র ০.০১% বাংলাদেশী তখন ইন্টারনেট চালাতো। আর বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন। আর বাংলাদেশেও আগের তুলনায় স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারনে এখন প্রায় ১৪% মানুষ ইন্টারনেট ব্যাবহার করে। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন ব্যাপারটা। আর এটা হচ্ছে সকল বয়সের মানুষের মধ্যাকার পরিসংখ্যান। বর্তমানের young generation এর মধ্যে জরিপ করা হলে এই হার আরো বৃদ্ধি পাবে।
এটাও ঠিক যে রেসলিং আগের মতো ভালো না লাগার পেছনে বাজে বুকিং, বাজে স্টোরিলাইনেরও কিছুটা অবদান আছে কিন্তু ইন্টারনেটের অবদান সবচেয়ে বেশি। আজ যদি ইন্টারনেট না থাকত তাহলে খুব কম মানুষ জানতে পারত যে রেসলিং স্ক্রিপ্টেড। আর ২সপ্তাহ আগেই কী কী হবে তা কেউ জানত না। ফলে রেসলিংয়ের প্রতি কারও আগ্রহ কমত না, ফেসরা চিয়ার পেত আর হিলরা বু পেত। crowd reaction গুলাও রেসলারদের character এর সাথে মিলত।
তবে আমার মতে হার্ডকোর রেসলিং আগের মতো না হওয়াটা কোনো কারন নয়। আগের সময়ের রেসলারদের চেয়ে এখনকার বেশিরভাগ রেসলারদেরই ring skill ভালো। তারা বেশি মুভ প্রয়োগ করতে পারে যার উদাহরন হচ্ছে Seth Rollins, AJ Styles, Kevin Owens, Dolph Ziggler, Sami Zayn ইত্যাদি রেসলাররা। WWE যদি তাদেরকে আরো বেশি মুভ ব্যাবহারের অনুমতি দেয় তাহলে hardcore wrestling এর replacement হিসেবে technical wrestling কে রাখা যেতে পারে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + fourteen =