কি হল “চেলসি”র ?????

মানুষের সৃতি কিন্তু খুব ক্ষনস্থায়ী। হয়ত এই সিজনের চেলসি সেটা খুব ভাল করেই প্রমাণ করে। গত সিজনের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন চেলসি। শুধু চ্যাম্পিয়নই না একরকম হেসে খেলে চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বসেরা দুই গোলকিপার সাথে জন টেরির অভিজ্ঞতা, গ্যারি ক্যাহিলের ধারাবাহিকতা, ইভানভিচের সাবলীল ফুটবল , সেজার আযপেলেকুয়েটার ফুটবল মেধা আর কার্ট জুমার তারুণ্য, চেলসির ডিফেন্স ভাঙ্গা যেন আমাবস্যার চাঁদ। মাঝমাঠে রামিরেস, ওবি মিকেলের সাথে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের চেরা পাস আর ম্যাটিচের ম্যাকালেলে হয়ে উঠার আভাস ছিল যেন স্বপ্নের মতন। এডেন হ্যাজার্ড দলের প্রাণ। উইলিয়ানের নিজের জাত চেনার বছর। আর ডিয়েগো কস্তা লোয়েক রেমির গোল করার সামর্থ্য, কি ছিল না চেলসির। অহ ভুলে যাচ্ছি, হোসে মরিনিয়ো। যাকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। কোন নতুন বিশ্লেষণ দেওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু এবার হলটা কি সেই চেলসির ???
চেলসির ফ্যান না হওয়ার কারনে তেমন দেখা হয় না তাদের খেলা। ম্যাচ ডে শেষ হওয়ার পর স্কোরসিটটা দেখা হয়। তবে এইবার চেলসির খেলার দিকে নজর না দিয়ে আর পারছি নাহ। কেন এমন হচ্ছে চেলসির, উত্তরটা হয়তো চেলসির ম্যানেজার, খেলোয়াড়রাও ঠিক মতন জানেন না। জানলে হয়তো সমাধান হয়ে যেত। আসল উত্তর আমিও জানি না। তবে এইটুকু বলতে পারি জোসে মরিনিয়ো হুট করে খারাপ ম্যানেজার হয়ে যায় নাই। এডেন হ্যাজার্ড খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় নাই। জন টেরির অভিজ্ঞতা নিমেষে শেষ হয়ে যায় নাই। কিন্তু সিজনের শুরু থেকে চেলসির খেলা ( মাঠের ভিতরে আর বাইরে ) দেখলে কোন চেলসি ফ্যান খুশি হতে পারবে না।
টিভি রাইটের কল্যাণেই আজকে প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয়তা এতো বেশি। টিভিতে ফুটবল বিশ্লেষণ করার অনুষ্ঠানগুলি দেখলে মনে হয় জোসে মরিনিয়ো ভীষণ খারাপ কোচ, তার মোটামুটি সব সিধান্তই ভুল। এদের নিয়ে কথা বলার কিছু নাই। তবে ট্র্যান্সফার উইন্ডো থেকে শুরু করলে চেলসি এইবার তেমন কিছুই করতে পারে নাই। হয়তো বেশ কিছু ভুল সিধান্তও ছিল এর মাঝে। শুরু করা যাক ট্র্যান্সফার দিয়ে। রাদামেল ফ্যাল্কাও আর পেদ্রো রদ্রিগেসকে দলে নেওয়াটা কি ভুল না ঠিক ছিল সেটা দেখার সুযোগ আছে। বার্সেলোনায় ক্রমশ মূল একাদশের বাইরে চলে যাওয়া পেদ্রোকে নিয়ে চেলসি একাদশ কতটা শক্তি বৃদ্ধি করেছে সেটা দেখতে দূরবীন লাগে নাহ। হাঁটুর সার্জারির পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে হতাশাজনক একটা সিজন লোনে কাটানোর পর চেলসির জার্সি গায়ে জড়ানো ফ্যাল্কাও নিজের সেরা সময় যে পার করে এসেছেন সেটা নিয়ে এখন আর কারও দ্বিমত থাকার কথা নাহ। দলে ইংলিশ ট্যালেন্ট জন স্টোনের আসা নিয়ে অনেক নাটক করেছে চেলসি আর এভারটন। তবে সেই জন স্টোনসকে ৪০ মিনিয়ন পাউন্ড দিয়েও দলে আনতে পারে নাই চেলসি। হুয়ান কোয়ারড্রাডো বুঝিয়েছেন কেন সিরি এ আর প্রিমিয়ার লিগ এক নয়। মুহাম্মাদ সালাহ নিজেকে চেলসির জার্সি গায়ে ঠিক মেলাতে পারেননাই। তুবে পিটার চেক’কে আর্সেনালে বিক্রি করাটাই যেন ছিল চেলসির সবচেয় বাজে সিধান্ত। আজমির বেগোভিচ মানিয়ে নিতে পারছেন না চেলসিতে খেলার চাপ। থিব কর্তোয়ার ইঞ্জুরিতে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত ট্র্যান্সফারই যেন চেলসির ক্ষতের প্রধান কারন। এক চ্যাম্পিয়ন দল দওার পরেও দলে ভাল খেলোয়াড় না আনার কারনে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের ৭ম হওয়াটা বেশি পুরানো সৃতি নয়।
দলের খেলোয়াড়দের “ইগো” নামের রোগ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেফারির বিমাতাসুলভ আচরণ চেলসিকে সাহায্য করছে নাহ। অন্য দিকে ব্যাড পাবলিসিটি, মরিনিয়োর রেফারিকে সবসময় দোষারোপ করার নিয়মিত অভ্যাস দলকে ক্রমশ একঘরে করে দিচ্ছে। ইভা দ্যা ডক্টরকে নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা লেখা প্রকাশ করে ব্রিটিশ মিডিয়া চেলসির সোজা বাংলায় বাঁশ মারা ছাড়া অন্য কোন কাজ করছে নাহ। এডেন হ্যাজার্দের রিয়াল মাদ্রিদের সাথে বার বার গুজবে জড়ানো দলের ভাল খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সব কথার শেষ কথা জানুরারিতে দল বদলের বাজারে চেলসির খেলোয়াড় লাগবে। পুরো চেলসি প্লানটাকে হাতে নাতে পরিবর্তন করতে হবে। তাহলেই হয়ত কিছু সম্ভব। ম্যানেজার চাকরি হারাবেন বা হারাচ্ছেনের যুগে চেলসি ফ্যানদের আচরণ দেখাতা সত্যিই আসাধারণ। মোট কথা এই সিজন হয়ত চেলসির ফ্যানদের পরীক্ষার সিজন। তবে আমি মনে করি চেলসি ফিরে আসবে। কোন ক্রমে ২-৩ টা ম্যাচ টানা জিততে পারলেই চেলসি নিজের স্বরূপে ফিরে আসবে কোন সন্দেহ নাই। আর চেলসির ফিরে আসাটা হতে পারে কোন নতুন রূপকথার জন্ম।chelsea 2

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

19 + seven =