কিপিং ছাড়তেই হবে মুশিকে!

প্রথম এটা নিয়ে লিখেছিলাম সম্ভবত ২০১১ সালে। তার পর কতবার লিখেছি, ইয়ত্তা নেই। ছোট লেখা, বড় লেখা। লেখার ভেতরে লেখা। অন্য লেখার ভেতরে একটা প্যারা বা ২-৩-৪ লাইন। পত্রিকায় লিখেছি, ওয়েবসাইট, ফেসবুকে লিখেছি। যতবার যেখানে প্রসঙ্গটি উঠেছে, ততবার সব জায়গায় বলেছি। টেস্টে মুশফিকুর রহিমের কিপিং ছেড়ে দেওয়া উচিত। গ্রেট ব্যাটসমান হয়ে উঠতে হলে মুশিকে কিপিং ছাড়তেই হবে…!

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে, আজ গলে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। আর দুটি টেস্ট খেলেই বিদায় জানাচ্ছেন ক্রিকেটকে। ক্যারিয়ারে ফিরে তাকালেন। কিপিং ছাড়ার প্রসঙ্গে অবধারিতভাবেই উঠলো। সাঙ্গার উত্তরটা শুনুন..

“আমাকে যখন কিপিং ছাড়তে বলা হয়েছিল, আমার একটুও ভালো লাগেনি। কিন্তু নির্বাচক কমিটি আমাকে এসে বললো, ‘আমরা চাই তোমার ব্যাটিং আরও ভালো হোক, তুমি আরও বেশি রান করো। এজন্যই তোমাকে কিপিং ছাড়তে বলছি। এতে তোমার ও দলের ভালো হবে।’ তখন আমার মনে হয়েছিল, ‘এটা মোটেও ঠিক না, আমি দুটোই একসঙ্গে করতে পারি।’ এখন পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, ওটাই ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা ঘটনা। এটা অসাধারণ একটা ব্যাপার ছিল যে তারা আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে না দিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আজ আমি যত রান করেছি, যত সেঞ্চুরি করেছি, সেটার পেছনে বড় প্রভাব ছিল কিপিং ছাড়ার সেই সিদ্ধান্তের।”
(ছোট্ট পরিসংখ্যান: কিপিং করা ৪৮ টেস্টে সাঙ্গার সেঞ্চুরি ৭টি, ব্যাটিং গড় ৪০.৪৮। কিপিং ভার না থাকা ৮৪ টেস্টে সেঞ্চুরি ৩১টি, গড় ৬৮.০৫)

Mushfiqur-Rahim-of-Bangladesh-bats5

মুশির কিপিং ছাড়া নিয়ে বলতে গেলে প্রচারণা মতো চালিয়েছি। অনেকের কাছ থেকে গালি হজম করেছি। কথা শুনেছি। সংবাদ সম্মেলনে কত কত বার যে মুশফিককে জিজ্ঞেস করেছি, ‘কিপিং ছাড়বেন?’ মুশি হাসি মুখেও উত্তর দিয়েছে, আবার অনেক সময় বিরক্ত হয়েছে। সেই বিরক্তির ছাপ তাঁর চোখে-মুখে, উত্তেরে ফুটে উঠেছে। আমি হাল ছাড়িনি। জিজ্ঞেস করে গেছি, লিখে গেছি। মুশির আর দলের ভালোর জন্যই। কিপিং করে গেলেও মুশি হয়ত বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান থেকে যাবেন। ক্যারিয়ার শেষে দেখা যাবে, বাংলাদেশের বিবেচনায় ঝলমলে ক্যারিয়ার। কিন্তু মুশির তো সামর্থ্য আছে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হওয়ার! মুশির সামর্থ্য আছে গ্রেট হওয়ার। কিন্তু কিপিং ছাড়তেই হবে। দলের সেরা ব্যাটসম্যান কখনোই কিপার হতে পারেন না। মুশি তো আবার ক্যাপ্টেনও। তাঁর কিপিং ছেড়ে দেওয়া ফরজ বললে কম বলা হয়।

সবশেষ ৩ টেস্টে মুশি কিপিং করেননি। তার পরও এত কথা লিখলাম, কারণ একবারও তিনি বলেননি বা দল থেকে বলা হয়নি কিপিং ছেড়ে দেওয়ার কথা। আঙুলের চোটের কারণে কিপিং না করার কখাই বারবার বলা হয়েছে। বরং মৌসুমের শেষ সংবাদ সম্মেলনেও মুশি বলেছেন, ‘কিপিং ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।”

আজকে সাঙ্গাকারার এতসব কথা বলার পর আশায় বুক বাধতে পারি, মুশি নতুন করে ভাববেন। ওয়ানডেতে অবশ্যই কিপিং করে যেতে পারেন। কিন্তু টেস্টে ছাড়তে হবে কিপিং, যদি গ্রেট ব্যাটসম্যান হতে চান।

কিপিং করে গেলেও আপনি ভালো থেকে যাবেন মুশি, ক্যারিয়ার শেষে পিঠ চাপড়ানোও পাবেন। তবে ‘গ্রেট’ হলে পাবেন স্যালুট। আর আপনি মুশি, স্যালুট পাওয়ারই যোগ্য। শুধু, নিজের সঙ্গে এই মানসিক লড়াইয় জিততে হবে! ছাড়তে হবে কিপিং!

(সাঙ্গাকারাকে কিপিং ছাড়তে জোর করে রাজী করিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার সেই সময়ের প্রধান নির্বাচক অশান্ত ডি মেল। আমাদের ফারুক ভাইও হতে পারেন একজন ডি মেল!)

লেখকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস অবলম্বনে…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + two =