কালো টুপিওয়ালাদের কথা

পাওয়া আর না পাওয়াতে,
যোজন যোজন দূর।

এই কথাটি মনে হয় নিউজিল্যান্ড দল এর থেকে বেশি ভালো কেউ বুঝেনা। ভালো দল, সম্ভবনাময় দল, এবার হয়েই যাবে- এমন আশা শোনা যায় প্রতিবার। কিন্তু প্রতিবারই, রেসের শেষ ধাপের আগের ধাপে এসে ঘোড়ার মৃত্যু হয়। এত বার দলটি সেমিফাইনাল খেলেছে, কোন ক্রিকেটপ্রেমীকে এই দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বলবে, ওহ এই দল আমি সমর্থন করি, তবে সেমিফাইনাল পর্যন্ত!

১৯৯২ সালে নিজের মাটিতে প্রথম রঙিন বিশ্বকাপ রঙিন স্বপ্নই দেখাচ্ছিল এদের। ফিল্ডিং বাধ্য বাধকতার সুযোগ নিতে মার্ক গ্রেটব্যাচ কে ওপেনিং এ পাঠানো হতো ঝড় তোলার অনুমতি দিয়ে, ‘পিঞ্চ হিট’ শব্দের জন্ম কিন্তু এদের হাত ধরেই। বোলিং শুরু করতেন ঘূর্ণি মায়ার কারিগর দীপক প্যাটেল, যাতে বিপক্ষ সুযোগ না নিতে পারে প্রথম ১৫ ওভারের। পরাজয় হল ইনজামাম নামের এক তরুণের ব্যাটের ঝড়ে, সেমিফাইনালে ফাটলো স্বপ্নের বেলুন। সেই থেকে বার বার এই সেমির দল হয়েই থেকেছে তারা। গতবার দুর্দান্তভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে সেমিতে ওঠা দলটি যেন শ্রীলঙ্কার সামনে পড়ে ক্রিকেট খেলতেই ভুলে গেলো!

অতীতের কচকচানি তো অনেক হল- আজকে আমার উদ্দেশ্য হল বর্তমান কিউই বাহিনী নিয়ে লেখা। ১৯৯২ এর মতো দুই ক্ষেত্রেই ঝড় তোলার অস্ত্র মজুদ আছে এদের। ব্যাটিঙে এসে প্রতিপক্ষকে এলোমেলো করে দিতে পারেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, তার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই, তিনি যেদিন ছন্দে থাকেন সেদিন বোলারের নাকের পানি চোখের পানি এক করে দিতে পারেন। তিনিই দলের সেনাপতি। বল হাতে প্রতিপক্ষের কোমর ভেঙে দিতে পারেন ট্রেন্ট বোল্ট, গতির ঝড় তুলতে তিনি যার সহযোগী হবেন, তার নাম মিলনে,এ্যাডাম মিলনে,
“ঐ নতুনের কেতন ওড়ে,
কালবৈশাখীর ঝড়”

এই বাক্যকে সত্যে পরিণত করতে পারলে এদের চিরদিনের আক্ষেপ ঘুচতেও পারে। টিম সাউদি, লুক রনকি এরা দলকে ভারসাম্য দিয়েছেন। কোরি অ্যান্ডারসন ব্যাট হাতে ঝড় তুললে দর্শকের পয়সা উসুল হবে, প্রতিপক্ষের অবস্থা হবে শোচনীয়! তিনি যে কি করতে পারেন, তার প্রমাণ আফ্রিদির দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দেওয়া, যদিও তার টাও ভেঙেছে, ভাঙার কারিগর ডি ভিলিয়ার্স নামের এক দানব! রস টেলর হচ্ছেন পরিস্থিতি বুঝে খেলার মানুষ, ষষ্ঠ গিয়ারেও গাড়ি চালাতে পারেন, আবার তৃতীয় গিয়ারেও পারেন, সমান দক্ষতায়। গাপটিল চেষ্টা করবেন ম্যাককালামের ঝড়ের সময় শক্ত হাতে হাল ধরতে। এক প্রান্ত ধরে রেখে লম্বা ইনিংস খেলতে পারবেন কেন উইলিয়ামসন এবং টম ল্যাথাম- দুজনেই। তাই বলাই যায়, কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ অনেক গভীর, বড় স্কোরের সামর্থ্য তাদের আছে।

যে কোন বোলিং লাইনআপকে দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারেন রস টেলর আর ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম
যে কোন বোলিং লাইনআপকে দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারেন রস টেলর আর ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম

বোলিং এর নেতৃত্ব দেবেন ‘প্রফেসর’ ভেট্টরি, তার দায়িত্ব ঘূর্ণির মায়াতে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের আচ্ছন্ন করে রাখা। আগেই বলেছি মাইন আর সাউদির কথা, উসাইন বোল্টের গতিতে বলের গোলা ছুড়তে ট্রেন্ট বোল্ট আছেন, সবুজ ঘাসের পিচে লালবাতি জ্বালাতে পারেন রথী মহারথীদের ভাগ্যে, অ্যান্ডারসন ও কার্যকর, উইকেট টু উইকেট বোলিং করে রান আটকে রেখে উইকেট নিতে সিদ্ধহস্ত।

ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অভিজ্ঞতা আর মিলনে-বোল্টদের গতি, কম যায় না নিউজিল্যান্ডের বোলিংও
ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অভিজ্ঞতা আর মিলনে-বোল্টদের গতি, কম যায় না নিউজিল্যান্ডের বোলিংও

সব মিলে ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল। আশা করা যায়, নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে তারা অনেক দূর যাবে। স্বপ্নের চৌহদ্দি তো অনেক উঁচু, সেমির ফাঁদে পা না দিলেই হয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 2 =