কাগজে কলমে আর্সেনাল, মাঠে চেলসি

ক্লাব ফুটবল যাঁরা ভালোবাসেন (কে বাসে না?), ট্রান্সফার ডেডলাইন ডে-কে একটা বড় ধন্যবাদই দেবেন তারা। আন্তর্জাতিক বিরতির এই ‘দুঃসহ’ এক সপ্তাহে অন্তত কিছু একটা নিয়ে তো ব্যস্ত থাকা গেল। কোন ক্লাব কত খরচ করল, প্রিয় দল-প্রতিপক্ষ দল কেমন দাঁড়াল, কার কোন পজিশনে এখনো ঘাটতি রয়ে গেল…দুদিন ধরে এসবই তো আলোচনায়। তো, কেমন হলো কোন দল?

দুটি দলের ট্রান্সফার বেশি ভালো লেগেছে – আর্সেনাল ও চেলসি। প্রথমে আর্সেনালকে নিয়ে শুরু করি। যথারীতি, শেষ দিকে এসে এবারও চমক দেখিয়েছেন ‘দাদু’ আর্সেন ওয়েঙ্গার। দুটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে খেলোয়াড় নিয়ে এসেছেন, ডিফেন্সে শকোদ্রান মুস্তাফি ও অ্যাটাকে লুকাস পেরেজ। এই দুটি ট্রান্সফারকে এত বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ, অন্তত কাগজে-কলমে, এখন সত্যিই লিগ শিরোপার জন্য লড়াই করার মতো দল হয়ে গেছে আর্সেনাল। সত্যি বলতে, হয়তো চেলসির মতো অত শক্তিশালী না, তবে পুরো ব্যালেন্সড একটা দল হয়ে গেল আর্সেনালের। শুরুর দিকে গ্রানিত জাকা, এখন এলেন এই দুজন। সানচেজ, ওজিল, চেকরা তো ছিলেনই। কী নেই এখন আর্সেনালের? এখন তো ওয়েঙ্গার উলটো সমস্যায় পড়বেন, কাকে রেখে কাকে নামাবেন? এটা নিয়েও অবশ্য গত কয়েকদিন আলোচনা হচ্ছে বেশ। ব্যক্তিগতভাবে, আমি যদি ওয়েঙ্গার হতাম (ইগনোর! ইগনোর! এমন ফ্যান্টাসি কার না ভালো লাগে?) দলকে ৪-৪-২ ডায়মন্ড ফর্মেশনে খেলাতাম। ডিফেন্সে বেয়েরিন, মুস্তাফি, কসিয়েলনি, মনরিয়াল। মিডফিল্ড বেইজে ককেলান, সামনে বাঁয়ে জাকা, ডানে কাজোরলা (অথবা রামসি)। অ্যাটাকিং মিডে ওজিল। দুই স্ট্রাইকার একটু ডায়নামিক থাকুক – সানচেজ ও পেরেজ। আর জিরু থাকল বিলাসী বিকল্প হিসেবে। কাগজে-কলমে এই দলকে ঠেকায় কে?

তবে মাঠে অবশ্য তিন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ইম্প্রেসিভ লেগেছে চেলসিকে। ব্যক্তিগত মতামত, কাগজে-কলমে লিগের বেস্ট টিম। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, মাঠেও সেটা করে দেখানো। মাত্র তিন ম্যাচ দেখেই বিচার করতে যাওয়া বোকামি, কিন্তু দলটার অর্গানাইজেশন অসাধারণ। কান্তে আসছে মিডফিল্ডে, সঙ্গে ম্যাটিচ। ডিফেন্স তো পারলে ঘুমায়েই ৯০ মিনিট পার করে দিতে পারবে। লেফট ব্যাক হিসেবে আবার নিয়ে আসছে মার্কোস আলোনসোকে। শেষ মুহূর্তে ডেভিড লুইজকে নিয়ে আসা নিয়ে অনেকে ট্রল করতেসে, দাম যা তাতে করাটা অস্বাভাবিকও না। কিন্তু এটা কন্তের আরেকটা মাস্টার স্ট্রোক হতে পারে। যদি সে ৩-৫-২ স্টামফোর্ড ব্রিজেও আনতে চায়, তাহলে লুইজের মতো বল-প্লেয়িং সেন্টার ব্যাক একেবারে পারফেক্ট। পজিশনালি একটু দুর্বল মনে হয় মাঝে মাঝে, তবে ওয়ান-অন-ওয়ানেও লুইজের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নাই। আর পজিশনের ব্যাপারটা, টেরির কড়কানিতে ঠিক হবে না, এই গ্যারান্টি কে দেবে? এমনিতেই কন্তে কী করে সেটা নিয়ে এক্সাইটেড ছিলাম, সাইনিংগুলোও হলো আরও এক্সাইটমেন্ট বাড়িয়ে দেওয়ার মতো। মিচি বাৎশুয়াই অসাধারণ, কস্তার সাথে সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে ভালো খেলবে মনে হয়। হ্যাজার্ড-উইলিয়ানরাও ফর্মে। ইউরোপিয়ান ফুটবলও নেই। চেলসি খেলছেও ভালো। তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট। বলতে পারেন, দুইটা ম্যাচেই ভাগ্যের কারণে জিতল। কিন্তু ৩৮ ম্যাচের লিগে এটাও তো বড় ফ্যাক্টর। ৩৫টা ম্যাচ এখনও বাকি, ইউনাইটেড-সিটি-লিভারপুল-আর্সেনালও নিজেদের মতো করে চ্যালেঞ্জ জানাবে। তবে এখনই লিগ শিরোপাটা কেউ চেলসির হাতে দেখলে দোষের কিছু নাই। No matter how I hate to admit that!

কমেন্টস

কমেন্টস

One thought on “কাগজে কলমে আর্সেনাল, মাঠে চেলসি

  1. “এখন তো ওয়েঙ্গার উলটো সমস্যায় পড়বেন, কাকে রেখে কাকে নামাবেন?”

    সত্যি? ২-৪ জন ইঞ্জুরিতে পড়লে (ইতিহাস সাক্ষী) দাদুর আর সমস্যা থাকবে না আশা করি। মুস্তাফি গতকাল হালকা সেই আভাসও দিয়েছিল 😉

মন্তব্য করুন

2 × five =