কষ্টার্জিত কোপা জয়, ডাবলে স্বস্তিতে বার্সা ফ্যানরা

গতকাল ডাবল জয়ের পর বিশ্বাস হচ্ছিল না আসলে জিতে গেছি। মাসচে লাল খাওয়ার পরপরই ইউরোপার ফাইনালের কথা মনে পরে গেল। একজন কম নিয়ে সেভিয়ার এই এটাকের বহর সামলাবো কিভাবে? মনে হচ্ছে হেরেই যাব। আমার আশংকা সত্য হতে শুরু করল, মাসচের করে যাওয়া ফাউলে টার স্টেগান দুর্দান্ত সেভ না দিলে তখনই ছিটকে যেতাম। এরপরে সেকেন্ড হাফে আরো চেপে বসল সেভিয়া, বানেগার শট বারে লাগা ও মুহুর্মুহু আক্রমণে বার্সার ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখে জানান দিচ্ছিল গোল পাওয়াটা সময়ের ব্যাপার। আর গোল পেলেই বার্সার ফিরে আসার সুযোগ নেই কারণ ১ জন কম নিয়েই ডিফেন্স করতে হিমশিম খাচ্ছে দল সেখানে এটাক করে গোল শোধ করবে কিভাবে?

সেই সময় খেল দেখিয়ে দিল বার্সার ডিফেন্স যাকে আমরা তাসের ঘর হিসেবে জানি। ভয় পাচ্ছিলাম এই তাসের ঘর কতক্ষণ টিকবে ভেবে, কিন্তু কাল বার্সা দেখিয়ে দিল ডিফেন্স কি জিনিস যা আমরা সচরাসচর দেখি না। পিকে জান প্রাণ দিয়ে লড়ছে, স্লাইড করে বল কেড়ে নিচ্ছে, ডিফ্লেকশনে শটের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। বুস্কেটসও নিজেকে উজার করে দিয়েছে, এমনকি যেই আলভেসকে ডিফেন্স করতে খুব একটা দেখা যায় না সেও ডিফেন্সে নিবেদিত প্রাণ। এই ধরনের চোখ জুড়ানো ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্সে সত্যি মুগ্ধ কারণ বার্সাকে এভাবে খেলতে দেখি না বলে মনে হয় নি কখনো বার্সার ডিফেন্স এমন হতে পারে। আসলে কোপা জিতিয়েছে বার্সার ডিফেন্স আর এই ডিফেন্সের সেরা পারফর্মার ছিল জেরার্ড পিকে।

১ জন কম, বার্সার এই সিজনে সাফল্যের মূল কারিগর লুইস সুয়ারেজ ইঞ্জুরিতে পরা ও সেভিয়ার আক্রমণের তোপ দেখে মনে হচ্ছিল না বার্সা কোন সুবিধা করতে পারবে। আক্ষরিক অর্থে পারে নি, কর্ণার থেকে উড়ে আসা পিকের হেড ছাড়া বার্সা কোন সুযোগ তৈরি করতে পারে নি ৯০ মিনিট পর্যন্ত। অতিরিক্ত সময় গড়াতেই মেসির পাস থেকে দারুণ একটা সুযোগ তৈরি হয় যেখানে নেইমারকে গোল করা থেকে আটকাতে বানেগাকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখতে হয়। এরপরেই খেলা সমানে চলে আসে ও এতক্ষণ আক্রমণে ব্যস্ত সেভিয়ার ক্লান্ত প্লেয়ারদের উপর চড়াও হয় বার্সা। যার ফলশ্রুতিতে মেসির দারুণ ডায়াগনাল পাস খুঁজে পায় আলবাকে ও ৯৬ মিনিটের গোল বার্সাকে প্রথম লিড দেয়। সেভিয়া গোল ব্যাকের সুযোগ খুজলেও বার্সার ডিফেন্সের সঙ্গে কুলাতে পারছিল না। উলটো মেজাজ হারিয়ে বার্সা প্লেয়ারদের উপর চড়াও হতে দেখা যায় এবং পরিণতি হিসেবে ক্যারিস্কো খেলার শেষ মুহুর্তে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ দেখে মাঠ ছেড়ে বার্সার কাজ সহজ করে দেয়। অবশেষে শেষ মুহুর্তে মেসির পাস থেকে নেইমারের গোল কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়ে ডাবল নিশ্চিত করে বার্সার।

কোপা দেল রে জয় বার্সার জন্য সহজ ছিল না বিশেষ করে ৩৬ মিনিটেই ১০ জনে পরিণত হয়ে ৯১ মিনিট পর্যন্ত দুর্দান্ত সেভিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে তাদের গোল বঞ্চিত করার কাজটা। কিন্তু বার্সা তা করে দেখিয়েছে ও শেষ ৭ ম্যাচ জিতলে ২টা ট্রফি, যার একটাতেই হারলে ১টা ট্রফি হারাতে হবে এমন কঠিন সমীকরণে ২টা ট্রফিই ছিনিয়ে এনেছে। এতে বার্সা ফ্যানরা যথেষ্ট খুশি থাকতে পারে, সিজন যেভাবে শুরু হয়েছিল সেভাবে শেষ না হলেও যা হয়েছে তাই বার্সা ফ্যানদের মুখে হাসি ফোটাতে যথেষ্ট।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + one =