কর্তোয়ার অভাব পূরণ করতে পারবেন কেপা আরিজাবালাগা?

কর্তোয়ার অভাব পূরণ করতে পারবেন কেপা আরিজাবালাগা?

এই দলবদলের বাজারে গোলরক্ষক নিয়ে বেশ ভালোই টানাটানি হচ্ছে। আর্সেনাল, লিভারপুল, উলভারহ্যাম্পটন, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, এএস রোমা, নাপোলি, জুভেন্টাস, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই, এসি মিলান সহ বেশ অনেক ক্লাবই দলে নতুন নতুন গোলরক্ষক নিয়ে এসেছে। এই তালিকায় এবার নাম লেখালো চেলসি আর রিয়াল মাদ্রিদও। বহুদিন ধরেই চেলসির বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছিল। এই বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরষ্কার পাওয়ার পরে এই গুঞ্জন আরও ডালাপালা মেলে। অবশেষে থিবো কর্তোয়া যোগ দিতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদে, আর ওদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামী গোলরক্ষক হিসেবে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাথলেটিক বিলবাও থেকে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন কেপা আরিজাবালাগা। ৭১.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু কে এই কেপা? যার কারণে বিশ্বরেকর্ড পরিমাণ অর্থ প্রদান করলো চেলসি? পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার অ্যাথলেটিক বিলবাও তে কাটানো এই গোলরক্ষককে অনেকেই বলছেন পরবর্তী ”ইকার ক্যাসিয়াস”। ইকার ক্যাসিয়াসের সাবেক দল রিয়াল মাদ্রিদ গত দলবদলের সময় এই কেপা কে দলে আনতে চাইলেও শেষ মূহুর্তে তৎকালীন কোচ জিনেদিন জিদান আরেকটা গোলরক্ষকের পেছনে টাকা ঢালতে সম্মত হননি। তাঁর জায়গায় নিজের ছেলে লুকা জিদানকে মূল দলে নিয়ে আসেন। তা যাই হোক, সেই সময়ে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সাথে কেপার চুক্তির বাকী ছিল ছয়মাস, তাই তাঁর দামও (রিলিজ ক্লজ) কম ছিল, মাত্র ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু জিদানের কিনতে না চাওয়া ও কেপা পায়ের চোটে পড়ার কারণে আর মাদ্রিদে যাওয়া হয়নি কেপার তখন। ওদিকে বিলবাও-ও সেই সুযোগে কেপার সাথে নতুন একটা চুক্তি করে নেয়, যে চুক্তিতে তাঁর রিলিজ ক্লজ ধরা হয় ৭১.৬ মিলিয়ন পাউন্ড। এই অর্থমূল্য পরিশোধ করেই এখন কেপা কে দলে আনছে চেলসি।

কর্তোয়ার অভাব পূরণ করতে পারবেন কেপা আরিজাবালাগা?
gollachhut.com

বয়স মাত্র ২৩ হলেও এর মধ্যে দুই শতাধিক পেশাদার ম্যাচ খেলে ফেলেছেন কেপা। বিলবাওয়ের হয়ে গত দুই মৌসুমে খেলে ফেলেছেন ৫৩ ম্যাচ। থিবো কর্তোয়ার থেকে ৪ ইঞ্চি খাটো কেপা (৬ ফুট ২ ইঞ্চি) এর রিফ্লেক্স অসাধারণ। বল পায়ে দক্ষ হবার কারণে চেলসির নতুন কোচ মরিজিও সাররির অধীনে বেশ ভালো করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পেনাল্টি ঠেকানোর ব্যাপারেও কেপা বেশ দক্ষ। লা লিগার গত মৌসুমে মুখোমুখি হওয়া তিনটা পেনাল্টির মধ্যে দুটোই আটকে দিয়েছিলেন তিনি। গত দুই বছর বিলবাওয়ের হয়ে ধারাবাহিক খেলার কারণে জায়গা পেয়েছিলেন স্পেইনের বিশ্বকাপ দলেও। এমনকি এই বিশ্বকাপে স্পেইনের মূল গোলরক্ষক ডেভিড ডা হেয়ার ফর্মহীনতার কারণে অনেকে চেয়েছিলেন ডা হেয়ার জায়গায় যেন কেপা কে মূল একাদশে নামানো হয়। পেছন থেকে নিখুঁত লং বল পাঠানোর ক্ষেত্রেও কেপা বেশ পটু, তাঁর থেকে বেশী লং বল আর অন্য কোন গোলরক্ষক পাঠাতে পারেননি লা লিগার গত মৌসুমে – ৩৬৮ টা। ডিফেন্সের পেছনে বেশ ঠান্ডা মাথায় কখন কাকে পাস দিতে হবে, কিভাবে আক্রমণ শুরু করতে হবে, এ ব্যাপারে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কেপা বেশ পারদর্শী। বয়স কম হলেও মানসিকভাবে বেশ পরিপক্ক তিনি এসব দিক থেকে। তবে অবিসংবাদিতভাবেই তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ, যা নজর কাড়ে, তা হল বিদ্যুৎগতির রিফ্লেক্স ক্ষমতা।

প্রতি ম্যাচে ৩.২ টা করে সেভ করেছেন কেপা, গত মৌসুমে। গত মৌসুমে ৩০ ম্যাচ খেলে ক্লিন শিট রেখছেন ৭টা, ওদিকে কর্তোয়া ৩৫ ম্যাচ খেলে ১৫ ম্যাচ গোল না খেয়ে থেকেছেন। তবে কর্তোয়ার থেকে কেপার সেভ এর সংখ্যা বেশী, যেখানে কর্তোয়া গত মৌসুমে ৭৫ টা সেভ করেছেন, কেপা করেছেন ৯৯ টা। এটাও মাথায় রাখতে হবে, অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের তুলনায় চেলসির রক্ষণভাগ কতটা শক্তিশালী, যে কারণে মোটামুটি বাকীসব ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে কর্তোয়ার থেকে একটু পিছিয়েই আছেন কেপা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 + sixteen =