ফিলিপ্পে কউতিনহো ও এই যুগে ‘নাম্বার টেন’ দের যত সমস্যা

ফিলিপ্পে কউতিনহো ও এই যুগে 'নাম্বার টেন' দের যত সমস্যা

‘নাম্বার টেন’ কাকে বলে? একদম স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনে যারা খেলবেন, মধ্যিখানে। সেটা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনের ঐ তিনজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের মাঝখানটায় যে খেলেন, তিনিও হতে পারেন, বা ৪-৪-২ (ডায়মন্ড)/৩-৫-২ ফর্মেশনে দুই স্ট্রাইকারের ঠিক মাঝখানে একটু পেছনে যিনি খেলেন তিনিও হতে পারেন। ‘নাম্বার টেন’ বা ‘সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার’, বা গালভরা ইতালিয়ান পরিভাষায় ‘ট্রেকোয়ার্টিস্টা’, এই পজিশনে যুগ যুগ ধরে অনেক খেলোয়াড়ই খেলে গেছেন, নাম কামিয়েছেন। এই পজিশনটাকে করেছেন একজন ফুটবলারের জন্য পরম আরাধ্য একটা পজিশন। ব্রাজিলের জিকো, নেইমার, কাকা, ফিলিপ্পে কউতিনহো, অস্কার, ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি ও জিনেদিন জিদান, নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ, ওয়েসলি স্নাইডার, ডেনিস বার্গক্যাম্প, রাফায়েল ভ্যান ডার ভার্ট, আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে, স্লোভাকিয়ার মারেক হামশিক, স্পেইনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও ইসকো, আর্মেনিয়ার হেনরিক মিখিতারিয়ান, ডেনমার্কের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন ও মাইকেল লাউড্রপ, কলম্বিয়ার হামেস রড্রিগেজ, জার্মানির মেসুত ওজিল, পর্তুগালের ইউসেবিও, রোমানিয়ার গিওর্গি হ্যাগি, ইতালির ফ্র্যান্সেসকো টট্টি ও রবার্তো ব্যাজিও – ‘নাম্বার টেন’ দের নাম শুরু করলে আর শেষ করা যাবেনা। তবে এখানে দুটি বিষয় লক্ষ্যণীয় –

  • ‘নাম্বার টেন’ বলতে কিন্তু এখানে তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে না যারা শুধু মাত্র দশ নাম্বার জার্সিই পরেন। ইয়োহান ক্রুইফ নিজের পরতেন ১৪ নাম্বার জার্সি, ইনিয়েস্তা পরতেন ৬/৮, কাকা ও জিদান পরতেন ৮, ৫, ২২ ইত্যাদি। আবার উইলিয়াম গালাস বা লাসানা দিয়ারার মত তারকারাও নিজে নিজে ক্লাবের হয়ে কোন না কোন সময়ে ১০ নাম্বার জার্সি পরেছেন, যদিও কাজের দিক দিয়ে তারা কোনভাবেই ‘নাম্বার টেন’ এর ধারকাছ দিয়েও যান না
  • নেইমার, টট্টি, ব্যাজিও, জিদান এরা নাম্বার টেন ছাড়াও অন্যান্য পজিশনে খেলেছেন, তাই বলে ‘নাম্বার টেন’ নিয়ে আলোচনায় তাদের রাখা যাবেনা সেটা হবে না। কেননা তারা ‘নাম্বার টেন’ পজিশনেও সমানভাবে পারদর্শী

আধুনিক ফুটবল ক্রমশ পরিবর্তনশীল। এখন ক্রিকেটের মত ফুটবলেও বিরাজ করে ‘অলরাউন্ডার’ দের যুগ। ফুটবল খেলাটা এখন যতটা না বেশি ‘পজিশন ভিত্তিক’, তার থেকে বেশি ‘ভূমিকা ভিত্তিক’। আপনাকে মূল একাদশে রাইট উইঙ্গার হিসেবে দেখানো হলে আপনি যে শুধুমাত্র আগের যুগের উইঙ্গারদের মত গতির ঝড় তুলে একদম মাঠের কোনা থেকে ক্রসের পর ক্রস ফেলবেন ডি-বক্সে কিন্তু অন্যকিছু করবেন না, এখন আর সে যুগ নেই। উইঙ্গারদের এখন গোলও করতে হয়, ডি-বক্সে ক্রস ফেলা ছাড়াও উইঙ্গারদের এখন ড্রিবল করে খেলা বানিয়েও দিতে হয়। একমাত্রিক খেলোয়াড়ের যুগ নেই আর। যে কারণে মেসি ও রোনালদোদের উইঙ্গার বলা হলেও তারা একাধিক ভূমিকা পালন করেন। গোল করেন, করান, উইঙ্গার বলে শুধু আগের যুগের উইঙ্গারদের মত ডি-বক্সে ক্রস ফেলেন, তা কিন্তু নয়। আপনাকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে দুই সেন্টারব্যাকের মাঝে রাখা রয়েছে বলে আপনি যে শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করবেন, নিজে আক্রমণ গড়ার কাজে যোগ দেবেন না, তা হবে না। এখনকার ডিফেন্সিভ মিডদের গাত্তুসো, ম্যাকেলেলে, ক্যাম্বিয়াসোদের মত শুধুমাত্র ট্যাকল ইন্টারসেপ্ট করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা ছাড়াও আক্রমণ গড়ে দেওয়ার কাজটা করতে হয়, উঠে গিয়ে গোলও করে দিয়ে আসতে হয় যদি কোচ চান। এনগোলো কান্তে, সার্জিও বুসকেটস, টোনি ক্রুস, জর্জিনহো, জর্জিনিও ভাইনাল্ডাম, মিরালেম পিয়ানিচ রা বলতে পারবেন ভালো।

একই কথা খাটে ‘নাম্বার টেন’ বা সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের বেলাতেও। আগের ‘নাম্বার টেন’ দের কাজ শুধু একটাই ছিল। দুই বা এক স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনে থেকে অলস সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে ডি-বক্সে একের পর এক ডিফেন্সচেরা পাস পাঠাতে থাকবেন, বক্সে শিকারীর মত বসে থাকা স্ট্রাইকাররা সেই পাস ধরে গোল করবেন। ম্যাচের অন্য কোন ভূমিকা ‘নাম্বার টেন’ দের পালন না করতে পারলেও চলত। কিন্তু এখন আর সে সুবিধা নেই। আর এই জায়গাতেই ঝামেলার মুখোমুখি হচ্ছেন ফিলিপ্পে কউতিনহো এর মত খেলোয়াড়েরা।

গত জানুয়ারিতেই ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় নাম লেখানো এই ব্রাজিলিয়ান জাদুকরকে ভাবা হচ্ছিল পরবর্তী ইনিয়েস্তা। কিন্তু এক বছর পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেখা যাচ্ছে কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের মূল একাদশের পরিকল্পনাতেই তিনি নেই! বার্সার মিডফিল্ড থেকে আক্রমণভাগে ওসমানে দেম্বেলে, আর্থার মেলো, লিওনেল মেসি, আর্তুরো ভিদাল, ইভান রাকিতিচদের দৌরাত্ম্যে কউতিনহো বার্সার মূল একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন কই? ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কিনে এনে ভালভার্দেও কউতিনহো কে এখন বেঞ্চে ফেলে রেখেই খুশি যেন!

কিন্তু এমন কি সমস্যা হল কউতিনহো এর যে এখন বার্সার বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে?

কারণ একটাই, নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে না তুলতে পারা। লিভারপুলে যখন খেলতেন, তাঁকে লেফট উইঙ্গার বা ৪-৩-৩ ফর্মেশনের একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বলা হলেও আসলে নিজের জার্সি নাম্বারের প্রতি সুবিচার করে কউতিনহো খেলতেন ‘নাম্বার টেন’ হিসেবেই। আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়ের ঠিক পেছনে থেকে খেলাটা বানিয়ে দিতেন, কাজ করতেন মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের সেতুবন্ধন হিসেবে, সঙ্গে বোনাস হিসেবে ডিবক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটগুলো থেকে করা গোল তো ছিলই। লিভারপুল একাদশে সবার একটা-দুটো নির্দিষ্ট ভূমিকা থাকলেও কউতিনহো কে তেমন কোন বেড়াজালে বাঁধেননি কোচ ইউর্গেন ক্লপ। ফলে কউতিনহো দলের ‘নাম্বার টেন’ হিসেবেই মুক্তবিহঙ্গের মত খেলে গিয়েছেন, নিজেকে পরিস্ফুটিত করতে পেরেছেন।

কিন্তু এখন বার্সেলোনায় এসে কউতিনহো সেই সুবিধাটা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিক, যে দলে লিওনেল মেসি খেলেন সে দলে মেসি ছাড়া অন্য কেউ ‘ফ্রি রোল’ পাবেন সে আশা করাটা বোকামি। তাও সমস্যা ছিল না, যদি না ওসমানে দেম্বেলে চূড়ান্তভাবে ফর্মে ফিরতেন।

কউতিনহো কে সেই ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে চাচ্ছিলো বার্সেলোনা। তাদের ইচ্ছা ছিল, ইনিয়েস্তার যোগ্য উত্তরসূরি হবেন এই কউতিনহো। কিন্তু সেবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়ে কউতিনহো কে ছাড়েননি কোচ ক্লপ। ওদিকে একক্রম হুট করে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। দেম্বেলেকে কিনলেও চোটে পড়ে প্রথম কয়েকমাস বার্সার হয়ে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। ওদিকে বয়সী ইনিয়েস্তাও আস্তে আস্তে মূল একাদশ থেকে নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলেছিলেন ততদিনে। ফলে দেম্বেলেকে কেনার পরও, আক্রমণভাগে প্রতিভার অভাবটা ভোগাচ্ছিল কোচ ভালভার্দেকে। ফলে এক রকম জোর করে চিরাচরিত ৪-৩-৩ ফর্মেশন বাদ দিয়ে ৪-৪-১-১ ফর্মেশনে বার্সেলোনাকে খেলানো শুরু করেন ভালভার্দে। সে মৌসুমে এই ফর্মেশনে খেলানোর ফলে বার্সা বেশ সফলতা অর্জন করে, লিগ জেতে। ঐ মৌসুমের পুরোটা সময় ধরেই বার্সেলোনা ৪-৪-১-১ ফর্মেশনেই খেলে। আক্রমণভাগে উপরে সুয়ারেজ, আর তার একটু নিচে সহকারী স্ট্রাইকার হিসেবে মেসি। মিডফিল্ডার চারজনের মধ্যে জানুয়ারিতে দলে আসা ফিলিপ্পে কউতিনহো এর জায়গা হয় একদম বামদিকে। পেছনে জর্ডি আলবার মত নির্ভরযোগ্য লেফটব্যাকের সাহায্য থাকার কারণে প্রয়োজনের সময় নিচে নেমে রক্ষণ করার কথা চিন্তা করতে হয়নি কউতিনহো এর। যেটা কউতিনহোর এর জন্য এই ফর্মেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল। কেননা কউতিনহো নিজে কখনো নিচে নেমে রক্ষণ করতে পছন্দ করেন না। ঐ যে, ‘আদর্শ নাম্বার টেন’ এর রোগ! শুধু খেলা গড়ার দিকেই তার নজর, রক্ষণ করার দিকে নয়, বা দলের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ভূমিকায় খেলতে পারার দিকে নয়!

ফিলিপ্পে কউতিনহো ও এই যুগে 'নাম্বার টেন' দের যত সমস্যা
যে ৪-৪-১-১ ফর্মেশনে বার্সেলোনার হয়ে ঝলসে উঠেছিলেন কউতিনহো

এই দলের প্রয়োজনে নিজের ভূমিকা বদল না করতে চাওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এখন শুধু কউতিনহোরই যে রয়েছে তা কিন্তু নয়। এ যুগের ‘নাম্বার টেন’ যারা রয়েছেন, কউতিনহো ছাড়া অনেকেরই এমন খাপ খাইয়ে না নিতে পারার সমস্যাটা বিদ্যমান। যেমন – বায়ার্নের হামেস রড্রিগেজ, রিয়াল মাদ্রিদের ইসকো আলারকোন, আর্সেনালের মেসুত ওজিল, ডর্টমুন্ডের শিনজি কাগাওয়া প্রমুখ। বর্তমানে এরা সবাই নিজ নিজ ক্লাবের বেঞ্চ গরম করছেন।

কারণ ঐ একটাই, মানিয়ে না নিতে পারার প্রবণতা।

ওদিকে ‘নাম্বার টেন’ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা টটেনহ্যামের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হুয়ান মাতা, ম্যানচেস্টার সিটির ডেভিড সিলভা ও কেভিন ডে ব্রুইনিয়া, পিএসজির নেইমার, লিভারপুলের রবার্তো ফিরমিনো সবাই নিজ নিজ দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কেননা, কোচের প্রয়োজনে অন্য যেকোন ভূমিকাতে তারা খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন ভালোভাবে। ডেভিড সিলভা আর কেভিন ডি ব্রুইনিয়া এখন বলতে গেলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন, ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনকে মাঝেমাঝেই দেখা যায় জাভি হার্নান্দেজের মত ‘Deep Lying Playmaker’ হিসেবে খেলতে। নেইমার তো সব্যসাচী, ‘নাম্বার টেন’ কি উইং, সব জায়গাতেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। রাইট উইঙ্গার হিসেবে হুয়ান মাতা গত এক দুই বছরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্যতম ধারাবাহিক পারফর্মার। ফিরমিনো কোচের দাবি মেনে তো স্ট্রাইকারই হয়ে গেছেন!

ফিলিপ্পে কউতিনহো ও এই যুগে 'নাম্বার টেন' দের যত সমস্যা
এখনকার ৪-৩-৩ ফর্মেশনে কউতিনহো জায়গায়ই পাচ্ছেন না

ওদিকে কউতিনহো ছাড়াও এই মৌসুমে বার্সেলোনায় আর্তুরো ভিদাল ও আর্থার মেলোর মত মিডফিল্ডার আসার ফলে ও ওসমানে দেম্বেলে চোট থেকে ফিরেই দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফিরে আসার কারণে ৪-৪-১-১ বাদ দিয়ে চিরাচরিত ৪-৩-৩ ছকে ফিরে গেছেন ভালভার্দে। যে ফর্মেশনে রক্ষণের চিন্তা না থাকা লেফট মিডফিল্ডারের জায়গাটি নেই। কউতিনহো এখানে চাইলে জায়গা পেতে পারতেন দুটো স্থানে,

  • তিন মিডফিল্ডারের বামদিকে, যে পজিশনে খেললে আক্রমণাত্মক হবার পাশাপাশি রক্ষণের দিকেও নজর থাকতে হয়। অপেক্ষাকৃত রক্ষণের দিকে বেশী নজর রয়েছে দেখে আর্তুরো ভিদালের মত খেলোয়াড়েরা যেখানে ভালভার্দের অধিক পছন্দ। কারণ লিভারপুলের হয়ে ৪-৩-৩ ফর্মেশনের ঐ জায়গাটায় কউতিনহো যখনই খেলেছেন, রক্ষণের দায়িত্ব ভুলে গেছেন, ফলে লেফটব্যাক অ্যান্ড্রু রবার্টসনকে দুইজনের কাজ করতে হত, ফলে লিভারপুলকে ভুগতেও হত
  • লেফট উইঙ্গার হিসেবে, যেখানে দেম্বেলে এতটাই বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছেন যে তাঁকে বসানোর প্রশ্নই আসেনা, কউতিনহো নিজেও প্রথাগত উইঙ্গার হিসেবে স্বচ্ছন্দ নন। তাঁকে উইংয়ে খেলানো হলেও ঘুরেফিরে তিনি ‘নাম্বার টেন’ এর ভূমিকাই পালন করেন, ‘ফ্রি রোল’ এ খেলতে চাইবেন। কিন্তু এই বার্সেলোনাতে এক মেসি ছাড়া এই ভূমিকায় খেলার ক্ষমতা আর কারোর নেই

নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত না করে তোলার মাশুল কউতিনহো দিচ্ছেন বেঞ্চে বসে থেকে। যেমনটা দিচ্ছেন ওজিল, হামেস, ইসকো, কাগাওয়ারা। ঠিকভাবে নিজেকে ফিরে না পেলে হয়ত বার্সেলোনা থেকে জায়গাও হারাতে পারেন তিনি! ফলে হুয়ান রোমান রিকেলমের পর আরও একজন অলস জাদুকরকে মাথা নত করে বিদায় নিতে হতে পারে ন্যু ক্যাম্প থেকে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × five =