ওয়েঙ্গার : যার কারণে আজকের এই আর্সেনাল

১৯৯৫ সালে যখন জর্জ ওয়াহ বর্ষসেরা ফুটবলার হন তখন লাইবেরিয়ান সুপারস্টার বলেন যে এই অ্যাওয়ার্ডটা আর্সেন ওয়েঙ্গারের প্রাপ্য।ওয়েঙ্গারের কোচিংএ মোনাকেতে খেলেই তো নিজের জাতটা চেনান জর্জ ওয়াহ।এরকম অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা বিশ্ব ফুটবলকে অনেক কিছু দিয়েছেন যাদেরকে গড়ার মুল কারিগর ছিলেন অন্য কেউ না, আর্সেন ওয়েঙ্গার।মোনাকোর কোচ থাকাকালীন অবস্থায় যিনি মিডফিল্ডার লিলিয়ান থুরামকে বানিয়েছেন ডিফেন্ডার আবার ডিফেন্ডার এমানুয়েল পেটিতকে মিডফিল্ডার,পরবর্তীতে দুইজনেই ফ্রান্সের হয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপ। ওয়েঙ্গার ফ্যামিলির ছিল রেস্তোরাঁর ব্যবসা।ফ্রান্সের ডাটেলহাইম গ্রামের অ্যালসেস অঞ্চলে।জার্মানির পাশে ছিল গ্রামটি।যার কারনে আর্সেন ওয়েঙ্গার ছোট থেকেই পারতেন জার্মান ভাষা।ফুটবলকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিলেও অর্থনীতিতেও ডিগ্রী আছে তার।অন্য গ্রেট কোচ থেকে ওয়েঙ্গারকে আলাদা করেছে হয়তো এই অর্থনীতিতে ডিগ্রী।ক্লাবের ফিনানশিয়াল ব্যাপারগুলা একটু বেশি ভালো বুঝতেন,যার প্রমান মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর দিয়েই আর্সেনালে কিনেন থিয়েরি হেনরি,প্যাটট্রিক ভিয়েরা আর রবার্ট পিরেসকে এবং ওই ৩৫ মিলিয়ন দিয়েই বেচেন হঠাৎই আর্সেনালে খেয় হারিয়ে ফেলা নিকোলাস আনেলকাকে।খেলোয়াড়দের উপর যেমন অগাধ আস্হা ছিল, তেমনি খেলোয়াড়রাও নিশ্চিন্তে খেলতেন ওয়েঙ্গারের দলে। ১৯৯৬ সালে যখন আর্সেনালের দায়িত্বে আসেন তখন ক্লাবের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল নাহ।তখন ওয়েঙ্গারের অবস্থা অনেকটা ছিল একটা নামকরা কোম্পানির সিইও যার কথা বলার একসেন্ট খুবই হাসির।আর্সেনালে এসে “আর্সেনালে” থাকা সব ধরনের অস্ত্রই ব্যবহার করেন তিনি।একেবারে খেলোয়াড়দের সকালের নাস্তাটাও।ওয়েঙ্গার আসার আগে সকালের নাস্তায় ক্লাবের খেলোয়াড়রা পেতেন সিদ্ধ মটরশুঁটি আর সাথে কোকাকোলা। অনেক খেলোয়াড় নাকি মাঠে যেতেন ঢেকুর তুলতে তুলতে।একথা বলেছিলেন আর্সেনাল লিজেন্ড ডেনিস বার্গক্যাম্প নিজেই।আর্সেনালে প্রয়োগ করা আর্সেন ওয়েঙ্গারের আরেকটি বিশেষ যন্ত্র ছিল পরিসংখ্যান। যেটা রাগবিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও ফুটবলে একেবারেই নতুন।এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করেই তিনি বুঝতে পারেন কখন ম্যাচে একজন খেলোয়াড় ক্লান্ত হবে এবং তাকে বদল করতে হবে,যেটা আপনাকে আগে থেকেই পরিকল্পনা সাজাতে যথেষ্ট সাহায্য করবে। আর্সেনাল ফুটবল দলের অন্যতম বিখ্যাত সমথর্ক হলেন লেখক নিক হর্নবি।যিনি নিজের জীবন এবং তার আর্সেনালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে লেখেন বিখ্যাত বই “ফিভার পিচ”। এই নিয়ে একই নামেই বানানো হয়েছে একটা ব্রিটিশ সিনেমা । বিখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা কলিন ফার্থ যার মুল চরিত্রে অভিনয় করেন।নিক হর্নবি একবার বলেছিলেন যে “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পুরুষ্কার জিতে কারণ সেটা এক মহান দৈত্যাকার প্রতিষ্ঠান আর আর্সেনাল জিতে কারণ আর্সেন ওয়েঙ্গার ক্লাবের ম্যানেজার “। যদিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থক আমি।তারপরেও আর্সেন ওয়েঙ্গারের প্রতি আমার অন্য ধরনের ভালোবাসা আর সম্মান কাজ করে সবসময়। বেচারা অর্থনীতিতে পড়েছিলেন বলেই হয়তো হবে সেটা।আমি নিজেও একজন অর্থনীতির ছাত্র। অর্থনীতিতে স্নাতক পাশ করেও বলবো যে অর্থনীতির তেমন কিছুই বুঝি নাহ আমি।ফুটবলটা যা বুঝি তার থেকেও বেশি কাজ করে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাটা।আর সেই ভালোবাসার কারণে যেখানেই অর্থনীতির সাথে ফুটবলের সম্পর্ক পেয়েছি সেখানে চোখ বন্ধ করে পা বাড়িয়েছি।আর সে পথকে অল্প হলেও আলোকিত করেছে আর্সেন ওয়েঙ্গার। লেখাটা শেষ করবো আর্সেন ওয়েঙ্গারের এক উক্তি দিয়েই। ” Football is like a beautiful woman, if u dont tell her how beautiful she is,she will forget”.

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

19 + 10 =