ওয়েঙ্গারের যত হাত ফসকানো সুপারস্টারেরা!

ইংলিশ ফুটবলে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অবদান, মূলত আর্সেনাল ইতিহাসে ওয়েঙ্গারের অবদান সম্বন্ধে বোধকরি নতুন করে বলার কিছু নেই। ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডে এসে আর্সেনালের খোলনলচে পালটে দেওয়া এই ফরাসী কোচ এই পর্যন্ত তাঁর আসার পর থেকে আর্সেনালকে জিতিয়েছেন তিনটি লিগ, এফএ কাপ আর কমিউনিটি শিল্ড জিতেছেন ছয়বার করে, ক্লাবকে একবার নিয়ে গিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও। ফলে আর্সেনালের হয়ে প্রচুর সুপারস্টার বানিয়েছেন, সুপারস্টার কিনেওছেন তিনি। ডেনিস বার্গক্যাম্প থেকে শুরু করে টনি অ্যাডামস, মার্ক ওভারমার্স, নোয়ানকো কানু, রবার্ট পিরেস, প্যাট্রিক ভিয়েরা, থিয়েরি অঁরি, ডেভিড সিম্যান, সেস ফ্যাব্রিগাস, রবিন ভ্যান পার্সি, অ্যাশলি কোল, সল ক্যাম্পবেল, লরাঁ কসিয়েলনি – ইত্যাদি সবাইকে সুপারস্টারডমের সাথে পরিচিত করানো কোচ এই ওয়েঙ্গারই। আবার নিজের প্রায় ২০ বছরের এই আর্সেনাল রাজত্বে ওয়েঙ্গার রেডিমেড সুপারস্টারও কিনেছেন বেশ – মেসুত ওজিল, অ্যালেক্সিস স্যানচেজ, স্যান্টি কাজোরলা, আন্দ্রেই আরশাভিন, পার মার্টেস্যাকার, লুকাস পোডোলস্কি, পিওতর চেক – তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
এসব ছাড়াও ওয়েঙ্গার নিজেই এই বিশ বছরের বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন, অনেক খেলোয়াড়কেই তিনি চেয়েছিলেন, যখন হয়তোবা তাঁরা কেউই সুপারস্টার ছিলেন না, কিন্তু কোণ না কোনভাবে সেসব খেলোয়াড়েরা ওয়েঙ্গারের হাত ফসকে বের হয়ে গেছে। হয়তোবা কারোর ক্লাবের সাথে ট্রান্সফার ফি নিয়ে বনিবনা হয়নি, কিংবা কারোর বেতনের দাবি ওয়েঙ্গারের দিতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে অনেক বেশী ছিল – এভাবেই বিভিন্ন সময়ে ওয়েঙ্গারের হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে অনেক সুপারস্টার, যারা পরবর্তী অন্যান্য ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কে কে ছিলেন বা আছেন তাঁরা –

 

  • লিওনেল মেসি

তালিকার সবার শুরুতেই রাখতে হবে সর্বকালের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়, লিওনেল মেসিকে। ইতিহাসের একটু এদিক-ওদিক হলে আজকে বার্সেলোনা নয়, হয়তোবা আর্সেনাল লিজেন্ড হিসেবেই সবাই মনে রাখত মেসিকে। ২০০৩ সালে যখন বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমি থেকে মিডফিল্ডার সেস ফ্যাব্রিগাসকে নিয়ে আসেন ওয়েঙ্গার, সাথে করে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন ক্ষুদে আর্জেন্টাইন জাদুকরকেও। কিন্তু মেসির নিজেরই বলে দল ছাড়ার অতটা আগ্রহ ছিল না। যতটুকু ছিল, তাও নাই হয়ে যায় লন্ডনে ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে। আর বার্সেলোনা থেকে মেসিকে আর্সেনালে আনতে হলে মেসির পরিবারও সাথে করে লন্ডনে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ওয়েঙ্গার লন্ডনে মেসির পরিবারের জন্য থাকার জায়গার কোন ব্যবস্থা করতে পারেননি! ফলে ওয়েঙ্গারের মেসি-স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়!

6c4dcaca3c7bc02c061f38113af17c8a

  • জেরার্ড পিকে

২০০৩ সালে বার্সার বিখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমি থেকে যখন সেস ফ্যাব্রিগাস আর্সেনালে আসলেন, মেসি ছাড়াও আরও একজনকে আর্সেনালে আনতে চেয়েছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। তিনি বর্তমান যুগে বার্সেলোনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, জেরার্ড পিকে। পরের মৌসুমে কিন্তু ঠিকই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন পিকেকে নিয়ে আসতে পেরেছিলেন ইউনাইটেডে, কিন্তু আগের মৌসুমে পারেননি ওয়েঙ্গার।

Gerard0Barcelona

  • ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আরেক ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও দলে একটুর জন্য আনতে পারেননি ওয়েঙ্গার। ভেবে দেখেছেন, ওয়েঙ্গার চাইলেই মেসি আর রোনালদোকে যে একই দলে খেলাতে পারতেন? কিন্তু সেটা আর হয়নি, হয়নি সেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বাধ সেধেছিল বলেই। স্পোর্টিং লিসবনের ১৮ বছর বয়সী দুর্ধর্ষ সেই উইঙ্গার আর্সেনালের অ্যাকাডেমিও পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন, ৪ মিলিয়ন পাউন্ডের দলবদলটাও হয়েই যাচ্ছিল। এমনকি পরবর্তী মৌসুমে রোনালদোর জন্য ৯ নম্বর জার্সিটাও বরাদ্দ করে রেখেছিলেন ওয়েঙ্গার, কিন্তু এই সময়েই দৃশ্যপটে আগমন হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহকারী ম্যানেজার কার্লোস কুইরোজের! স্বদেশী রোনালদোকে আগে থেকে চিনতেন বলে তরুণ রোনালদোর সিদ্ধান্ত বদলাতে বেশী কাঠখড় পোড়াতে হয়নি কুইরোজের। ফলাফল – স্যার অ্যালেক্সের কাছে দলবদলের বাজারে আর্সেন ওয়েঙ্গারের আরেকটি পরাজয়!

soccer-portuguese-premier-division-sporting-lisbon-v-benfica-752x501

  • জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ

সুইডিশ এই কিংবদন্তী স্ট্রাইকারও আর্সেন ওয়েঙ্গারের হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়াদের মধ্যে অন্যতম। জুভেন্টাস, আয়াক্স, ইন্টার মিলান, বার্সেলোনা, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের হয়ে লিগ জেতা সুইডেনের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই স্ট্রাইকার আর্সেনালে যোগ দেননি কেন জানেন? ২০০০ সালে সুইডিশ ক্লাব মালমো থেকে কেনার সময় ওয়েঙ্গার তাঁকে চেয়েছিলেন ট্রায়ালে খেলা দেখানোর জন্য! এমনকি আর্সেনালের নয় নাম্বার জার্সি নিয়ে পোজ দেওয়া এই স্ট্রাইকার “জ্লাতান ডাজ নট ডু ট্রায়ালস!” বিখ্যাত এই উক্তি দিয়ে আর্সেনালকে বাদ দিয়ে পরেরদিনই ডাচ ক্লাব আয়াক্সে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বাকীটা ইতিহাস!

CaZfGUMUsAEGpAb

  • পল পগবা

আজ যেই পল পগবাকে নিয়ে জুভেন্টাস-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাড়াকাড়ি, যেই পল পগবাকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের দলে ভেড়ানোর জন্য শত কাঠখড় পোড়াচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, সেই পগবাও আজকে হতে পারতেন আর্সেনালের খেলোয়াড়। আর্সেন ওয়েঙ্গারের মতে, একজন আদর্শ মিডফিল্ডারের সকল গুণাবলীই আছে পগবার মধ্যে। তাহলে পগবাকে নিজের দলে আনেননি কেন তিনি? ২০১২ সালে চুক্তি নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে ঝগড়ায় জড়ানো পগবা ফ্রি ট্রান্সফারে যাওয়ার জন্য আগ্রহী পেয়েছিলেন অনেক ক্লাবকেই, কিন্তু ওয়েঙ্গার বুঝে ওঠার আগেই পগবা পেয়ে গিয়েছিলেন তুরিনের টিকেট!

561x360_paul-pogba-equipe-france-moins-17-ans-2008

  • গ্যারেথ বেল

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় গ্যারেথ বেলও আজকে হতে পারতেন আর্সেনালের একজন খেলোয়াড়। ২০০৬ সালে সাউদাম্পটনের অ্যাকাডেমি থেকে ওয়েঙ্গার থিও ওয়ালকটকে কিনে এনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু একই সাথে ঐ অ্যাকাডেমির তৎকালীন লেফটব্যাক গ্যারেথ বেলকে কিনব কিনব করে আর কেনেননি ওয়েঙ্গার। আর্সেনাল স্কোয়াডে তখন লেফটব্যাক হিসেবে অ্যাশলি কোল, গায়েল ক্লিশি দের ছড়াছড়ি, আরেকটা লেফটব্যাক কিনে স্কোয়াডের বোঝা বাড়ানোর দরকার নাই ভেবে বেলকে কেনেননি তখন ওয়েঙ্গার। ওয়েঙ্গারের মত ভুল করেনি আর্সেনালের নগর-প্রতিদ্বিন্দ্বী টটেনহ্যাম হটস্পার। বেলকে ত তারা কিনেছেই, বেলের পজিশান পরিবর্তন করে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উইঙ্গার বানানোর পেছনে তাই টটেনহ্যামের ভূমিকাও সর্বাধিক!

Gareth-Bale-

  • রোনালদিনিও গাউচো

ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই প্রতিভাকে হাতের নাগালে পেয়েও ছেড়ে দিতে হয়েছিল ওয়েঙ্গারকে, তবে এর পেছনে দায়ী ছিল ইংল্যান্ডের ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত ঝামেলা। রোনালদিনিওকে দলে নেওয়ার জন্য তার এজেন্ট ও বড় ভাইয়ের সাথে দেখাও করেছিলেন ওয়েঙ্গার, রোনালদিনিওর তখন ২০ বছর বয়স মাত্র। শেষ পর্যন্ত রোনালদিনিওকে পাননি ওয়েঙ্গার, ফরাসী ক্লাব পিএসজিতে যোগ দেন রোনালদিনিও।

gremio-idolos-ronaldinho-gaucho_d77dnhqsr0gq193cet2rohqei

  • ইয়ায়া ট্যুরে

আর্সেনালের হয়ে একটা বার্নেটের বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচও খেলেছিলেন এই মিডফিল্ডার, ভাবা যায়? ওয়ার্ক পারমিট, পাসপোর্ট ইত্যাদি সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে এই ইয়ায়া ট্যুরেকেও দলে নিতে পারেননি ওয়েঙ্গার। ইউক্রেইনে যেতে লন্ডনের মত পাসপোর্টের ঝামেলা না থাকায় ট্যুরেই পরে বেভেরেন থেকে ইউক্রেইনের মেটালিউর দোনেতস্কে যোগ দেন, আর্সেনালকে বাদ দিয়ে। আর ওয়েঙ্গার হারান আরেকটি রত্নকে।

  • দিদিয়ের দ্রগবা

মাত্র এক লক্ষ পাউন্ডের বিনিময়ে আইভোরিয়ান কিংবদন্তী দিদিয়ের দ্রগবাকে ফরাসী দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব লে মানস থেকে কিনতে পারতেন আর্সেন ওয়েঙ্গার, কিন্তু ক্লাবে থিয়েরি অঁরি থাকার কারণে, আর দ্রগবার উন্নতি ওয়েঙ্গারের কাছে সন্তোষজনক না হবার কারণে কয়বছর পর ২৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে এই দ্রগবাকে কিনেই নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লেখা শুরু করে আর্সেনালের নগর-প্রতিদ্বন্দ্বী চেলসি।

download

  • ইডেন হ্যাজার্ড

শুধুমাত্র যে পরিমাণ টাকা চেলসি ফরাসী ক্লাব লিল কে দিতে চেয়েছিল, অত টাকা আর্সেনালের না থাকার কারণে ইডেন হ্যাজার্ড ২০১২ সালে লিল থেকে আর্সেনালে না এসে গিয়েছিলেন চেলসিতে, ৩২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে। এমনকি নিজের বাসায় হ্যাজার্ডের এজেন্টের সাথে গোপন বৈঠকও করেছিলেন ওয়েঙ্গার, কিন্তু শেষপর্যন্ত লাভের লাভ কিছুই হয়নি। 

Eden Hazard in action for Lille

  • অ্যানহেল ডি মারিয়া

ওয়ার্ক পারমিটের বেড়াজালে যে আরেক খেলোয়াড় ওয়েঙ্গারের হাত ফসকে বেরিয়ে গেছেন, তিনি হলেন আর্জেন্টিনার উইঙ্গার, বর্তমানে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে খেলা অ্যানহেল ডি মারিয়া। ১৭ বছর বয়সী ডি মারিয়াকে আর্জেন্টাইন ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রাল থেকে নাহলে তখন ফ্রি তেই দলে নিয়ে আসতেন আর্সেন ওয়েঙ্গার!

angel-di-maria-rosario-central

  • ভিনসেন্ট কম্পানি

বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক এই বেলজিয়ান সেন্টারব্যাক ২০০৬ সালে আরেকটু হলেই যোগ দিচ্ছিলেন আর্সেনালে, ওয়েঙ্গার তাঁর মধ্যে পেয়েছিলেন আর্সেনাল কিংবদন্তী সল ক্যাম্পবেলের উত্তরসূরীর খোঁজ। কিন্তু কম্পানির ক্লাব অ্যান্ডারলেখট চেয়ে বসে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যেটা ওয়েঙ্গারের কাছে অনেক বেশী ঠেকে, তাই কম্পানির স্থান হয় জার্মান ক্লাব হ্যাম্বুর্গে, আর পরে হ্যামবুর্গ থেকে কম্পানি চলে আসেন ম্যানচেস্টার সিটিতে।

130807165254-kompany-2003-anderlecht-wisla-horizontal-large-gallery

  • রোমেলু লুকাকু

আন্ডারলেখটের আরেক তরুণ প্রতিভা, যাকে ওয়েঙ্গার পেতে পেতেও পাননি – তিনি হলেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। আর্সেনাল চেয়েছিলেন তাঁকে, কিন্তু লুকাকু নিজেই আর্সেনালে না গিয়ে চেলসিতে গিয়েছিলেন। আর এখন চেলসি থেকে এভারটনে গিয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন “বেবি দ্রগবা” নামে পরিচিত এই স্ট্রাইকার।

Romelu-Lukaku-

  • হুয়ান মাতা

২০১১ সালে যখন সেস ফ্যাব্রিগাস আর সামির নাসরি দুইজনই যখন আর্সেনাল ছাড়লেন, ক্লাবের মিডফিল্ড গোছানোর জন্য ওয়েঙ্গারের একমাত্র পছন্দ ছিল ভ্যালেন্সিয়ার স্প্যানিশ অ্যাঙ্করম্যান হুয়ান মাতা। কিন্তু সেই চেলসির কাছেই আরেকবার হার মানতে হয় ওয়েঙ্গারকে, ২৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ভ্যালেন্সিয়া থেকে চেলসিতে যোগ দেন তিনি।

juan-mata-real-madrid-01-1024x698

  • স্যামুয়েল এতো

বার্সেলোনার কিংবদন্তী এই স্ট্রাইকার তখন স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মায়োর্কার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন, ২০০২ সালে। এমন সময় মায়োর্কা দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল আর টটেনহ্যাম হটস্পারকে প্রস্তাব দিল স্যামুয়েল এতো কে কেনার জন্য, কিন্তু এতোর স্বভাব-আচরণ ও মেজাজ ওয়েঙ্গারের পছন্দ না হওয়ায় তিনি এতো কে না ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। পরে লাভের লাভ হয় বার্সেলোনার!

n_rcd_mallorca_historicos-1363

  • জ্যো হার্ট

সেই ডেভিড সিম্যানের পর জেন্স লেম্যান। জেন্স লেম্যানের পর থেকে পিওতর চেক আসার আগ পর্যন্ত গোলকীপীং পজিশনটায় আর্সেনালের চিন্তার জায়গা ছিল চিরন্তন। ম্যানুয়েল অ্যালমুনিয়া, লুকাস ফাবিয়ান্সকি, ওজিয়েইক শোয়েজনি, ভিটো ম্যানোন – কেউই আর্সেনালের নাম্বার ওয়ান হিসেবে সেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। তাই প্রায় প্রতি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই একটা ভালো গোলকিপারের জন্য হন্য হয়ে থাকতেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। হার্ট যখন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্মিংহ্যাম সিটিতে ধারে মাঠ মাতাচ্ছেন একের পর এক দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স দিয়ে, ওয়েঙ্গারের নজরে তখনই আসেন হার্ট। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ ফুটবলের তৎকালীন উঠতি পরাশক্তি ম্যানচেস্তার সিটি তাদের এই রত্নকে শত্রুর কাছে দিতে চায়নি।

Soccer - Barclays Premier League - Birmingham City v Manchester United - St Andrews Stadium

  • রাফায়েল ভ্যারেন

রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার আগেই লেন্সের এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নজর কেড়েছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গারের। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের অর্থের ঝনঝনানি আর জিনেদিন জিদানের দুর্বার আকর্ষণের কাছে পেরে উঠতে পারেননি ওয়েঙ্গার।

Football : Lens / Sochaux - Ligue 1 - 19.02.2011 - Raphael Varane (Lens)

  • এনগোলো কান্তে

লেস্টার সিটির হয়ে রুপকথার মত মৌসুম কাটানো প্রিমিয়ার লিগজয়ী এই এনগোলো কান্তেও ছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গারের নজরে। ওয়েঙ্গারের ভাষ্যমতে, তাঁর এক বন্ধু কান্তেকে চিনতেন সেই দশ বছর বয়স থেকে, তাঁর কাছ থেকে কান্তের সুনাম শুনে ওয়েঙ্গার কান্তের খেলা দেখতে গিয়েছিলেনও। কিন্তু কিনছি, কিনব করে আর কান্তেকে আর্সেনালে আনা হয়নি তাঁর – লাভের গুড় পেয়ে যায় লেস্টার সিটি, হয়ে যায় প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন!

D

  • দিমিত্রি পায়েত

এবার ইউরোতে ফ্রান্সের হয়ে মাঠ মাতানো ওয়েস্টহ্যাম তারকা দিমিত্রি পায়েতকেও দলে নিতে চেয়েছিলেন ওয়েঙ্গার। লিল ও মার্শেইতে খেলার সময়ে পায়েতকে নজরে রাখা ওয়েঙ্গার পরে নিজেই পায়েতকে না কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। কারণ? ওয়েঙ্গারের কাছে পায়েতকে যথেষ্ঠ অধারাবাহিক বলে মনে হয়েছিল। ফলে ইংল্যান্ডে পায়েত খেলতে আসলেন ঠিকই, কিন্তু আর্সেনালের হয়ে না, ওয়েস্টহ্যামের হয়ে।

Par2432407

  • পিওতর চেক

এখন চেক আর্সেনালে খেললেও, ওয়েঙ্গার চাইলেই মোটামুটি আরও এক যুগ আগে চেককে নিজেদের দলে আনতে পারতেন। চেক তখন ফরাসী ক্লাব রেনেঁ তে খেলেন। কিন্তু সেই একই সমস্যা, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া, যার জন্য আর্সেনাল নয়, দুইবছর পর চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের স্বাদ পান পিওতর চেক।

rennes_cech

এই বিশ জন ছাড়াও কিংসলে কোমান থেকে শুরু করে লুইস সুয়ারেজ, ক্লদে ম্যাকেলেলে, মাইকেল এসিয়েন, হ্যারি কেইন, রুড ভ্যান নিস্টলরয়, রবার্তো কার্লোস – ওয়েঙ্গারের ট্রান্সফার ব্লান্ডার রয়েছে এরকম শ’য়ে শ’য়ে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven − 3 =