এ আমলা টি-টোয়েন্টির আমলা!

ক্রিস জর্ডানের ডেলিভারিটি ভালোই ছিল। অফ স্টাম্পে, গুড লেংথ থেকে একটু সামনে। হাশিম আমলা মনে হলো স্রেফ একটু শ্যাডো করলেন। যেন সামনে বল-টল কিছু নেই, বাতাসেই শ্যাডো। বলের কাছে গিয়ে মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেওয়া যেন। কাভার ফিল্ডাররা নড়েচড়ে বসার আগে বল বাউন্ডারিতে। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, ব্যাটের ফেস লং অফের দিকে, বল গেল কাভারে!

পরের বল। মিডল স্টাম্পে ফুল লেংথ। আমলা শাফল করে ফেলেছেন ততক্ষণে, মিস করলেই নিশ্চিত এলবিডব্লিউ। একটু ওভার ব্যালান্সডও মনে হচ্ছিলো। কিন্তু কবজি জোড়া তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে কম সময়ই। কবজির মোচড়টা ঠিকই হলো জুতসই। স্কয়ার লেগে ফিল্ডার ছিলেন, দৌড়ে গিয়ে কেবল বলটা সীমানার বাইরে থেকে ফেরত আনতে পারলেন।

ঠিক পরের বল। এবারও আমলা শাফল করেছেন আগেই। দেখে জর্ডানও বল করলেন অফ স্টাম্পের আরও বেশ বাইরে। আমলার ব্যাট তবু ঠিকই পৌঁছে গেল বলের কাছে, আবারও আলতো পরশ। যেন আস্তে করে ট্রিগারে চাপ, গুলিকে হার মানানো গতিতে বল সীমানায়। ব্যাট যখন বলকে স্পর্শ করছে, একদম শেষ মুহূর্তে ব্যাটের ফেস একটু কার্ভ করেছিলেন, মাইক্রোসেকেন্ডের জন্য। কাভারে কাছাকাছি থাকা দুই ফিল্ডারকে বল ফাঁকি দিতে পেরেছে সে কারণেই। যেন জ্যামিতি এঁকে বের করলেন গ্যাপ!

পরের ওভারের প্রথম বল, এবার বেন স্টোকস। অফ স্টাম্পে ফুল লেংথ বল, ড্রাইভ করার মতোই। আমলা করলেনও। তবে আর দশজনের মত ড্রাইভ করলে তিনি আমলা কেন! চোখের পলকে পজিশনে চলে গেলেন, বলের নিচে। আলতো টোকায় বলটাকে ভাসিয়ে দিলেন হাওয়ায়। ফিল্ডাররা নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে, বল ফেরত পাঠাল দর্শক। এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা!

চারটি নমুনা মাত্র। আমলার গোটা ইনিংসই এরকম কিছু টুকরো টুকরো ছবি। নতুন কিছু নয় যদিও। আমলার প্রায় প্রতিটি ইনিংসই তো নান্দনিকতার সমাহার! আজকের ইনিংসটি তবু অন্যরকম! আজকের আমলা টি-টোয়েন্টির আমলা!

টেস্ট-ওয়ানডের তুলনায় বেশ বিবর্ণ তার টি-টোয়েন্টি রেকর্ড। শুরুর অনেকটা সময় ধুম ধাড়াক্কা ক্রিকেটের সঙ্গে মানাতে পারছিল না তার ঘরানা। তার পরও টি-টোয়েন্টিতেও কখনোই নিজের ব্যাটিংয়ের ধরণের সঙ্গে খুব একটা আপোষ করেননি। ২-৩ বার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবেন না বলে ঠিক করেছেন, নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করতেই বুঝি আবার ফিরেছেন। ফিরেও খেলে গেছেন আগের মতোই। এবং ফলও পাচ্ছেন। নিজের মত খেলেই এখন টি-টোয়েন্টিতে সফল আমলা। আজকে যেন সেটির চূড়ান্ত একটি রূপ দেখা গেল। ঝড়ো ব্যাটিং আর নান্দনিকতা এক সুতোয় গাঁথতে পারলেন সুনিপূণ ভাবে। একেকটি শট চোখ আর মনকে প্রশান্তি দিল, আবার প্রতিপক্ষকেও গুড়িয়ে দিল!

এক প্রান্তে ডি ভিলিয়ার্সের তাণ্ডব, খুনে ব্যাটিং। যে কোনো বলকে যে কোনো প্রান্তে আছড়ে ফেলা। স্লোয়ার ডেলিভারিকেও হাতের জোরে গোলার মত গ্যালারিতে পাঠানো। পাওয়ার ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। আরেক পান্তে নান্দনিকতার ঝড়। আহ, টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংও কখনো কখনো কতটা আত্মা জুড়ানো!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 + 15 =