এশিয়া কাপের ১১ অনুকাহিনী কিংবা টুকরো গপপো একাদশ!

 

১.
এক দলের ইনিংস শেষ, দুই দলই ড্রেসিংরুমে। কিন্তু মাঝের বিরতিতে বেড়ে গেল প্রথমে ব্যাট করা দলের রান! ভুতুড়ে এই কাণ্ড ঘটেছিল মরুশহর শারজায়, ১৯৯৫ এশিয়া কাপে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হলো ১৪৮ রানে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নামার সময় পাকিস্তানের লক্ষ্য হয়ে গেল ১৫২! ঘটনা হলো, আকরাম খানের একটি শট বাউন্ডারিতে পড়িমরি করে ফিরিয়েছিলেন ফিল্ডার। দৌড়ে এক রান নিয়েছিলেন আকরাম, পরে তৃতীয় আম্পায়ার দেখতে পান সেটি আসলে চার ছিল। ব্যস, ড্রেসিংরুমে বসেই আকরামের রান ৪১ থেকে হয়ে গেল ৪৪, বাংলাদেশ ১৪৮ থেকে ১৫১!

rt

১৫২ রানের ওই লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে হলো আরেক নাটক। নাঈমুর রহমানের বলে ছয় মেরে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেললেন ওয়াসিম আকরাম। কিন্তু মাঠের স্কোরবোর্ড তখনো রান দেখাচ্ছিল ১৫১। পরের বলে চার মেরে জয় এনে দিলেন আকরাম। পরে অফিশিয়াল স্কোরকার্ডে জানা গেল, পাকিস্তান জিতে গেছে আগের ছক্কাটিতেই। যে ম্যাচে এক আকরামের ক্যারিয়ারে ‘যোগ’ হলো হারিয়ে যাওয়া ৩ রান, ওই ম্যাচেই আরেক আকরামের ক্যারিয়ার থেকে হারিয়ে গেল ৪টি রান!

২.
১৯৯০ এশিয়া কাপের পর ৫ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। আবার সুযোগ এলো এশিয়া কাপেই, ১৯৯৫ সালে শারজায়। এই ফেরা বাংলাদেশ কিভাবে উদাযাপন করল? ৫ বছর পর প্রথম প্রথম আন্তর্জাতক ম্যাচের প্রথম বলেই বাউন্ডারি! মনোজ প্রভাকরকে চার মেরেছিলেন আতহার আলি খান।

wpid-b801ab8e2284a93ef96d9f931fa043f7

৩.
১৯৯৫ এশিয়া কাপ ফাইনাল ছিল ওয়ানডে ইতিহাসের ৯৯৯তম ম্যাচ। ক্রিকেটের আকাশে এখনকার মতো টাকা ওড়েনি তখন। শিরোপা জিতে ভারত প্রাইজমানি পেয়েছিল মোটে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে দারুণ এক উপহার পেয়েছিলেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। একদল ভক্ত ভারত অধিনায়ককে উপহার দিয়েছিলেন আকর্ষণীয় এক স্টিলের তরবারি, যেটির খাপ ছিল স্বর্ণখচিত!

৪.
ম্যাচ চারটি, অধিনায়ক তিনজন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ১৯৮৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনজন! প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে চোট পেয়ে টুর্নামেন্টই শেষ হয়ে গেল অধিনায়ক রঞ্জন মাদুগালের। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে টস করলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। কিন্তু সেই ম্যাচে চোটে পড়লেন রানাতুঙ্গাও। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিলেন পেসার রবি রত্নায়েকে। চোট থেকে ফিরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আবার টস করতে নামলেন রানাতুঙ্গা।

৫.
অভিষেক ওয়ানডেতে পোলক-ডোনাল্ডদের বিপক্ষে করেছিলেন ৪৮ বলে ৫৫। উইকেটের সামনে-পেছনে মিলিয়ে সম্ভাবনাময় এক প্রতিভা ছিলেন সাবা করিম। সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঢাকার মাঠে। ২০০০ এশিয়া কাপে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে অনিল কুম্বলের বাড়তি বাউন্সের এক ডেলিভারি গিয়ে লাগে উইকেটকিপার সাবা করিমের ডান চোখের খুব কাছে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়েন সাবা। চেন্নাইয়ের প্রখ্যাত শেখর নেত্রালয়ে চোখে অস্ত্রোপচারও করা হয় দ্রুত। মাস দুয়েক পর ক্রিকেটে ফেরেন, ওই বছরই নভেম্বরে বাংলাদেশের সেই একই মাঠে টেস্ট অভিষেক। কিন্তু ওই আঘাতের পর চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টি আর ফিরে পাননি। ২০০১ সালে সব ধরনের ক্রিকেটই ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

saba-karim-india-cricket-injury

৬.
২০০৪ এশিয়া কাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হংকংয়ের। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই ম্যাচে হংকংকে নেতৃত্ব দিলেন ৪৩ বছর বয়সী রাহুল শর্মা। পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ১৬ বছর বয়সে অভিষেক হলো নাদিম আহমেদের। অর্থাৎ, অধিনায়কের সঙ্গে নাদিমের বয়সের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৭ বছর!

৭.
বৃষ্টি-বাদল নেই, নেই দর্শক গোলযোগ বা টিভি সম্প্রচারে সমস্যাও। ২০০৪ এশিয়া কাপে ভারত-শ্রীলঙ্কা সুপার ফোরের ম্যাচ তবু শুরু হতে দেরি হয়েছিল সাত মিনিট। কারণ, ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী একাদশের তালিকায় ভুল করে (!) হরভজন সিংয়ের জায়গায় আশিস নেহরার নাম লিখে ফেলেছিলেন! প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মারভান আতাপাত্তু পরে হরভজনকেই নামানোর অনুমতি দেন।

৮.
ক্রিকেটের আদি যুগে কত অদ্ভুত ঘটনাই না ঘটেছে। আম্পায়ার হিসাব ভুলে যাওয়ায় ১১ বলে ওভার দেওয়া কিংবা এক বোলার টানা ২ ওভার বোলিং করার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাও দেখেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তাই বলে এসব এই আধুনিক যুগেও! হয়েছিল, সেটিও এই ২০০৪ এশিয়া কাপে। কোটার বেশি বোলিং করার অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন মোহাম্মদ রফিক। ৫০ ওভারের ম্যাচে বোলিং করেছিলেন ১০ ওভারের বেশি! কলম্বোতে নিজের দ্বিতীয় ও হংকংয়ের শেষ উইকেটটি নিয়েছিলেন রফিক একাদশতম ওভারে। ম্যাচে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ১০.২-৩-২১-২! এই ঘটনা পরে হইচই ফেলে দেয় অনেক। মাঠের দুই আম্পায়ার অশোকা ডি সিলভা ও টাইরন বিজেবর্ধনের সঙ্গে তৃতীয় আম্পায়ার ভারতের এভি জয়াপ্রকাশকেও কঠিনভাবে তিরস্কার করে আইসিসি। আম্পায়ারদের দাবি ছিল, অফিশিয়াল স্কোরার নাকি হিসাবে ভুল করে ফেলেছিলেন!

৯.
বিশ্ব ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কা তখনো উঠতি শক্তি। ওয়ানডেতে অবশ্য মাঝেমধ্যে হারিয়ে দিচ্ছিল বড় দলগুলোকে। সেই উঠতি শক্তির দলটিই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল ১৯৮৬ এশিয়া কাপে। সেটিই ছিল শ্রীলঙ্কার প্রথম বড় কোনো শিরোপা। ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারানোর পর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠের হাজারো দর্শকের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট জুনিয়াস রিচার্ড জয়াবর্ধনে পরদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে দেন!

১০.
২০০৪ এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের টিম ম্যানেজমেন্ট ঘোষণা করেছিল, শচীন টেন্ডুলকারের উইকেট যে নেবে, তাঁর জন্য পুরস্কার এক হাজার ডলার। ১৮ রানে টেন্ডুলকারকে ব্যাট-প্যাড ক্যাচ বানিয়ে হাজার ডলার জিতেছিলেন বাঁহাতি পেসার আসিম সাঈদ।

১১..
৩৯তম জন্মদিনে কোথায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে অবসর কাটাবেন, আরাম-আয়েশ করবেন, তা নয়, সনাৎ জয়াসুরিয়া কচুকাটা করলেন বাংলাদেশ বোলারদের। ২০০৮ এশিয়া কাপে করাচিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন ৫৫ বলে!

image_20130402113841

এবং টুয়েলফ ম্যান ( কিংবা একটি ফাও)

১২.
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেসার জাহিদ শাহর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলতে কেবল দুটো ওয়ানডে, দুটোই ২০০৮ এশিয়া কাপে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই দুই ম্যাচেই ১০ ওভার বোলিং করে ৩ উইকেট করে নিয়েছিলেন ঠিক ৪৯ রান দিয়ে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 + 6 =