এরিক ইজ “বেই”, লাভ ইজ “ব্লাইন্ড”

::::: জুহায়ের সাদমান খান :::::

এরিক বাইয়ি। হোসে মোরিনহোর প্রথম সাইনিং হিসাবে যখন সে যোগ দিল, আমি সহ অনেকেরই মনে এই এক প্রশ্ন ছিল। তার উপর দাম £৩০ মিলিয়ন। এরপর ইউটিউব ঘেটেঘুটে যা দেখলাম মোটামুটি ভাল ডিফেন্ডার, লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের হয়ে মেসি-রোনালদোকে মানবিক পর্যায়ে যতটুকু আটকানো সম্ভব ততটুকু আটকিয়েছে। কিন্তু লোকমুখে যা শুনেছি তা হল ইউটিউব ভিডিওর উপর ভিত্তি করে লিভারপুল স্টুয়ার্ট ডাউনিংকে কিনেছিল, সুতরাং ইউটিউব ভিডিওকে খুব একটা পাত্তা দিই না আমি। কাটছাট করে মারুয়ান ফেলেইনিকেও জিদান বানানো যায় (এবং চুল কাটার কথা বলছি না)।

Eric-Bailly-Man-United

যাই হোক, উইগানের বিরুদ্ধে প্রাক-মৌসুম খেলায় বাইয়িকে প্রথম দেখি। ভদ্র ভাষায় বললে উইল গ্রিগের আগুনের উপর হালকা মুতে দিল ছেলেটা। আফ্রিকান ডিফেন্ডার হিসাবে স্টেরিওটিপিকেল না (সোজা কথায়, কামলা না, খেলতেও জানে)। দেখে বোঝা গেল ছেলেটার জিনিস আছে, ডেইলি ব্লিন্ডকে চাইলে বসায় দিতে পারবে এই ছেলে (তখনও কিন্তু ব্লিন্ডের প্রস্থান নিয়ে ব্যাপক শোরগোল, কারণ সে “ভ্যান গালের শিষ্য/এন্টি-মোরিনহো”)। যা হোক, প্রথম দর্শনের কথা বললাম। এতদিনে সে ৪টা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে ফেলেছে, প্রত্যেক ম্যাচেই দারুণ পারফর্ম করেছে। শিল্ড ম্যাচে লেস্টারের সাথে জেমি ভার্ডি এবং আহমেদ মুসার পেইসের সাথে যেভাবে পাল্লা দিয়ে মোটামুটি তাদের পকেটে রেখেছিল সে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেই ম্যাচ দিয়েই আসলে অধিকাংশ ইউনাইটেড ফ্যান ছেলেটার কোয়ালিটি কনফার্মেশন পেয়েছে। যোগ্যভাবেই ম্যান অফ দা ম্যাচ পেয়েছিল সেদিন। তার প্রথম কম্পিটিটিভ ম্যাচেই। তার প্রথম লিগ ম্যাচেও সে ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়। বোর্নমাউথের সাথে অত্যন্ত সলিড এক পারফর্মেন্স দিয়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ড ডেব্যুতে অবশ্য সেটা তার ভাগ্যে জুটেনি কারণ সাউদ্যাম্পটন বলার মত কিছুই করতে পারেনি সেদিন। কিন্তু এই সপ্তাহে হাল সিটির সাথে ফার্গি টাইমের জয়ে আবারও ইউনাইটেডের ম্যান অফ দা ম্যাচ হয় এরিক বাইয়ি। হাল যেভাবে ইউনাইটেডের হাই প্রেসিংয়ের বিপক্ষে হাল ধরেছিল, তাতে ডিফেন্সে এরিক বাইয়ি একটা ঢালের মত কাজ করে। হাল একটু কাউন্টারে উঠতে চাইলেই লম্বা লম্বা পা ফেলে বোল্টগতিতে মাঝমাঠে এসে বল কেড়ে নিচ্ছিল এই আইভোরিয়ান। এবং শুধুই তা না, বল কেড়ে এরপর সে দ্রুত এবং ঠান্ডা মাথায় সামনে পাসও দিচ্ছিল।

ইউনাইটেড ডিফেন্সে নতুন ভরসা - বাইয়ি/ব্লিন্ড
ইউনাইটেড ডিফেন্সে নতুন ভরসা – বাইয়ি/ব্লিন্ড

এখনো মৌসুম মাত্র শুরু হল, তবে এরই মধ্যে এরিক বাইয়ির যেই বৈশিষ্ট্য বেশি ভাল লেগেছে তা হল তার হার না মানা এগ্রেসিভ মেন্টালিটি। মোরিনহোর জোনাল মার্কিং ট্যাক্টিক ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য পার্ফেক্ট একজন ডিফেন্ডার সে। নিজের উপর দারুণ আত্মবিশ্বাস। সামনে এসে ট্যাকেল করতে ভয় পায় না। এবং এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সময়েই সে সফল হয়েছে। এবং সে বল পায়ে ভাল খেলে, আর ধামধুম ক্লিয়ারেন্স করে না, কোথায় ভাল অপশন আছে তা যাচাই করে পাস দিয়ে এটাক শুরু করতে সাহায্য করে। হয়তবা র‍্যাশনেসের কারণে সে ভবিষ্যতে ভুল করে বসবে, অস্বাভাবিক কিছু না, তবে আর্লি সাইনস আর দেয়ার। সময় যেতে যেতে আরও পরিপক্ব হবে সে, বয়স তো মাত্র ২২। এই অল্প সময়েই তার ইম্প্যাক্ট এতই বিশাল যে সে ক্লাবের ভাইস ক্যাপ্টেন ক্রিস স্মলিংকে অদূর ভবিষ্যতের জন্য বসিয়ে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ডিফেন্সিভ পার্টনার ডেইলি ব্লিন্ডের কথা না বললেই নয়। অপর প্রান্তে যেমন রাহুল দ্রাবিড়কে রেখে সব আলো কেড়ে নিত শচীন-সৌরভ, তেমনি গত মৌসুমে স্মলিং এবং এই মৌসুমে বাইয়ি ডেইলি ব্লিন্ডকে এক পাশে রেখে সব আলো কেড়ে নিচ্ছে। ব্লিন্ড “ভ্যান গালের শিষ্য” এবং টিপিকেল মোরিনহো ডিফেন্ডার না হওয়া সত্ত্বেও যে এখনো টিমশিটে প্রথম নামগুলোর একজন তার কারণ তার অসাধারণ “প্লে রিডিং” ক্ষমতা এবং অবশ্যই তার পাসিং। আপনি ডেইলি ব্লিন্ডকে কখনোই কোন স্লাইডিং ট্যাকেল করতে দেখবেন না (না মানে মাঝেমাঝে তো অবশ্যই দেখবেন, কিন্তু অনেক কম) কারণ সে আগে থেকেই জানে স্ট্রাইকার/বল কোনদিকে যাবে এবং সে সেইভাবেই নিজেকে পোজিশনিং করে রাখে। আর ন্যাচারেলি মিডফিল্ডার এবং অনেকদিন ধরে লেফট ব্যাকে খেলার সুবাদে তার পাসিং এবিলিটিও দারুণ, যেটা এটাকিং এ একটা নতুন মাত্রা যোগ করে। আমার মতে স্কোয়াডের সবচেয়ে ইন্টিলিজেন্ট প্লেয়ার এই ডেইলি ব্লিন্ড। সামনে ইব্রা-পগবা-র‍্যাশফোর্ড-রুনি-মাতা-মার্শিয়াল-মিখিতারিয়ান তো আছেই, এর বাইরে এখন পর্যন্ত এই মৌসুমে এই বাইয়ি-ব্লিন্ড পার্টনারশিপ অনেক আশা দিচ্ছে সমর্থকদের।

Hull City v Manchester United - Premier League

১০ তারিখে ম্যানচেস্টার ডার্বি। পেপ গার্ডিওলার প্রতিভাবান এবং ইন-ফর্ম সিটি আক্রমণভাগকে কিভাবে সামাল দেয় এই জুটি তা এই সিজানের গতিমাত্রা ঠিক করে দিবে অনেকটুকুই। এই পরীক্ষায় উতরানো মানে তাদের আত্মবিশ্বাসের জন্য বিশাল কিছু। তবে এখন পর্যন্ত ডিফেন্সের উপর যে একটা ভরসা তৈরি হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে বলাই যায় – “Eric is bae, love is Blind”.

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen − one =