এরকম বৌ-পাগলা ছেলে হয়েই থাকুক সে!

গতবছরের কথা,তখন সাকিব তার অফিসিয়াল পেইজটায় প্রচুর পার্সোনাল ছবি আপলোড দিতো, আজকাল তো একদম কমিয়েই দিয়েছে। বা বলা উচিৎ, কমাতে বাধ্য করা হয়েছে। তো, সেইসব ছবির বেশিরভাগ ছবিই ছিলো তার স্ত্রী শিশিরের সাথে … তারা হয়তো সি-বীচে গিয়েছে। বা সকালে একসাথে নাস্তা করছে এইটাইপের ছবি। ছবি গুলোতে এই কিউট কাপলটার ভালোবাসাটা এমন ভাবে গ্লেজ করতো, তাদের ভেতর বোঝাপড়াটা এত-সুন্দর করে ফুটে উঠতো, নূন্যতম রোমান্টিকতা যার ভেতর আছে, তারই মন ভালো হয়ে যাবে এক পলক দেখলে। আর ছবিগুলো যাস্ট ক্লোজ আপে তোলা ফেসের সেলফি, আর কিছু না। তবুও এই ছবিগুলোর নিচে কমেন্টে প্রচন্ড বিবমিষা নিয়ে তাকাতে হতো। একদল সাকিবকে “বউ পাগলা” বলে গালি দিচ্ছে, আরেকদল এই পবিত্র ছবিগুলোতেই অশ্লীলতা খুঁজে পেয়ে সাকিবের বউকে বলছে বোরখার ভেতর ভরতে। আমি এক প্রকার অসুস্থ কৌতূহল নিয়ে খুঁজতাম সেগুলোর ভেতর আমার ফ্রেন্ডলিস্টের কেউ আছে কিনা। আর এই খোঁজা খুঁজি করতে গিয়েই যারা ঐসব অসুস্থ টাইপের কমেন্ট করছে, তাদের সমস্যাটা বুঝতে শুরু করলাম। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এসব কমেন্ট করা বেশির ভাগ আইডি গুলার মধ্যে মিল আছে, এরা হয় প্রবাসী শ্রমিক টাইপ বা গ্রামে গঞ্জে বসে ফেসবুক চালানো অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত আম-জনতা। উইথ ডিউ রেসপেক্ট টু দেম- স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে রোমান্টিকতার কোন ধারণা তাদের ভেতর নাই। তাদের কাছে বউ হলো সম্পত্তির মত, যে বাচ্চা জন্মদিবে, তাদের পালবে, রান্নাঘরে থাকবে, ঘরদোর পরিষ্কার করবে, শ্বশুর শ্বাশুরির সেবাটেবা করবে। বিয়া করা মানে ঐ মেয়ের মালিক টাইপ কিছু হয়ে যাওয়া, তার সাথে আবার প্রেম পিড়িতির কি আছে? সুতরাং, সাকিবের শিশিরের সাথে বন্ধু-সুলভ এর সেলফি তাদের কাছে অস্বাভাবিক লাগাটাই স্বাভাবিক,সাকিব আমাদের জেনারেশনের ছেলে, সে আধুনিক প্রযুক্তি ইউজ করে, সে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার লক্ষ-হাজার ফ্যানের সাথে তার পার্সোনাল লাইফের আনন্দ-উল্লাস-সুন্দর টাইমটুকু ভাগাভাগি করে নিতে চায় আমাদের মতই- এটা এদেশের অনেক অশিক্ষিত, মান্ধাতা আমলের মন-মানসিকতার মানুষের কাছে দৃষ্টি কটুই লাগবে, একটা হাজ-ব্যান্ড ওয়াইফ কাপল এর মধ্যে ডোমিনেশন এর সম্পর্ক নাই, এটা কেমন কথা!! সাকিব তো “বউ-পাগলা” হবেই তাদের চোখে!! অথচ সারা দুনিয়ার মানুষ মাথায় করে নাচে এরকম তারকা-মহাতারকা আছেন যাদের ছেলের মায়ের পরিচয় কেউ জানে না, যাদের গার্ল ফ্রেন্ড দুইদিন পরে পরে চেঞ্জ হয়, সেসব নিয়ে কোনদিন তাদের কোন ছবিতে কাউকে লিখতে দেখিনাই, অথচ সাকিবের যত আনন্দ উচ্ছ্বাস সব তার বিয়ে করা বৌ এর সাথেই,তাতেও সে কিজানি বিশাল অপরাধ করে ফেলেছে!!

maxresdefault
.
তো, এই “বৌ-পাগলা” সাকিব তার সন্তান-সম্ভবা বৌকে রেখে খেলার জন্য দেশে ফিরে এসেছেন। তাও কি? সেই “সাকিব কে নষ্ট করে দেওয়া” মেয়েটাই জোর করে তার স্বামীকে দেশে পাঠিয়েছে, অথচ সে আর কিছুদিনের মাঝেই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ তম অভিজ্ঞতাটির মধ্য দিয়ে যাবে। প্রথম সন্তান হচ্ছে- একটা ছেলের লাইফে এর চেয়ে বড় কোন ঘটনা আছে কিনা জানা নেই, ভালোবাসার মানুষটিকে হাজার মাইল দূরে রেখে তাও সাকিব এলো, ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারলেও বল হাতে তুলে নিলো পাঁচটা উইকেট। আর প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বলেই এটার কৃতীত্ব বেশি কারণ আমরা দেখছি ফেভারিট টিমটাই চাপে থাকে, বাংলাদেশেরও “জিততেই হবে” এই চাপ নিয়েই মাঠে নেমেছিলো আজ। নিয়মিত দুই বোলার বাইরে রেখেও সাকিব একাই সব নিজ হাতে তুলে নিলেন চাপ টাপ সব কই পালালো। তাও এদেশের কিছু মানুষের চোখে সাকিব হবে বউ পাগলা, স্বার্থপর খেলোয়ার। থাকুক, এরকম বৌ-পাগলা ছেলে হয়েই থাকুক সে। প্রতিটি মেয়ের কপালে এরকম বৌ পাগলা ছেলেই জুটুক যে প্রয়োজনে ছুটে যাবে দেশের ডাকে, তার ভালোবাসাটুকু সাথে নিয়েই।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

sixteen − 14 =