এমিরেটসে বিধ্বস্ত লিভারপুল

সুয়ারেজ-স্টারিজে সওয়ার হয়ে গতবার তাও পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ খেলার স্বাদ পেয়েছিল লিভারপুল। এবার সুয়ারেজও নেই, স্টারিজও বিভিন্ন ইনজুরিতে অধিকাংশ সময়েই থাকছেন মাঠের বাইরে। সুয়ারেজ বেচা টাকা দিয়ে যা আনা হয়েছে ক্লাবে তার সাথে যদি আইফোন বেচে একটি ক্যালকুলেটর, একটি নোকিয়া ১০০০ ফোন, একটি টেবিল ফ্যান, একটি হাতঘড়ি, একটি ক্যাসেট প্লেয়ার কেনার তুলনা দেওয়া হয়, তাহলে বোধকরি বাতুলতা হবেনা। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। সামনের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্ন বিবর্ণ থেকে বিবর্ণতর হচ্ছে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির। আজকেও এমিরেটসে গিয়ে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে এসেছে তারা। আর্সেনালের হয়ে গোল করেছেন বেয়েরিন, ওজিল, স্যানচেজ ও জিরু। লিভারপুলের হয়ে সান্ত্বনাসূচক পেনাল্টি গোলটি অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসনের।

hi-res-1c6e035bc1db7f8b1bf4c2eaf7cdae53_crop_north

৪-১-৪-১ ছকে দল সাজান আর্সেনালের কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। কলম্বিয়ান গোলকিপার ডেভিড ওসপিনিয়ার সামনে স্প্যানিশ রাইটব্যাক হেক্টর বেয়েরিন, জার্মান সেন্টারব্যাক পার মার্টেস্যাকার ও ফ্রেঞ্চ সেন্টারব্যাক লরাঁ কসিয়েলনি, আর লেফটব্যাক হিসেবে ছিলেন আরেক স্প্যানিশ – নাচো মনরেয়াল। সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে শুরু করেন ফ্র্যান্সিস কক্যুইলান। অ্যাটাকিং মিডে অ্যারন র‍্যামসি-স্যান্টি কাজোরলার সাথে দুই উইঙ্গে ছিলেন অ্যালেক্সিস স্যানচেজ আর মেসুট ওজিল, স্ট্রাইকে একা শুরু করেন অলিভিয়ের জিরু।

ওদিকে লিভারপুল কোচ ব্রেন্ডান রজার্স দলকে সাজান যথারীতি ৩-৫-২ ছকে। বেলজিয়ান গোলকিপার সিমোন মিনিওলেইয়ের সামনে তিনজন সেন্টারব্যাক হিসেবে শুরু করেন ফ্রেঞ্চ মামাদু সাখো, আইভোরিয়ান সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার কোলো ট্যুরে ও জার্মান তরুণ এমরে চ্যান। দুই উইংব্যাক ছিলেন লাজার মার্কোভিচ ও আলবার্তো মোরেনো, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলেছেন লুকাস লেইভা, জর্ডান হেন্ডারসন ও জ্যো অ্যালেন। সামনে দুই স্ট্রাইকার ছিলেন রাহিম স্টার্লিং ও ফিলিপ ক্যুটিনিও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার জন্য নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড খেলতে পারেননি। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ডিফেন্ডার মার্টিন স্কার্টেল ও খেলতে পারেননি।

নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই যথেষ্ট আক্রমণাত্মকভাবে খেলা শুরু করে আর্সেনাল। প্রথম তিন মিনিটের মধ্যেই দু-দুটি দুর্দান্ত সুযোগ পায় আর্সেনাল, কিন্তু লিভারপুল গোলকীপার সিমোন মিনিওলেইয়ের দৃঢ়তায় গোল হয়নি কোন। আস্তে আস্তে ম্যাচে ফিরে আসতে লিভারপুল। দুটি ডালভাত সুযোগ মিস করেন রাহিম স্টার্লিং, ফলে প্রথমার্ধের মাঝের সময়টুকু ভালো খেলেও এগিয়ে যেতে পারেনি লিভারপুল। যেটার মাশুল কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা দিয়েছে ভালোভাবেই।

৩৫ থেকে ৪৫, এই এগারো মিনিটের মধ্যে মোটামুটি স্রোতের বিপরীতেই তিনটি গোল খেয়ে বসে লিভারপুল। প্রথম গোলটি করেন বার্সেলোনা থেকে আসা তরুণ রাইটব্যাক হেক্টর বেয়েরিন। ডানপ্রান্ত থেকে উঠে এসে বামদিকে কাট-ইন করে বাম পায়ের দর্শনীয় বাঁকানো এক শটে গোলকিপার মিনিওলেই কে পরাস্ত করেন তিনি।

CBv3uSvW0AAYw3O

গোলের পর বেয়েরিন
গোলের পর বেয়েরিন

গোল খেয়ে ধাতস্থ হতে না হতেই আবার তিন মিনিটের মধ্যে গোল খেয়ে বসে লিভারপুল। ডি-বক্সের একটু বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিকটাকে দুর্দান্তভাবে কাজে লাগান জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল।

ওজিলের দর্শনীয় ফ্রি-কিক
ওজিলের দর্শনীয় ফ্রি-কিক

CBwGIzaXIAA7Xss

এরপরের গোলটি এই মৌসুমে বার্সেলোনা থেকে আর্সেনালে আসা সুপারস্টার অ্যালেক্সিস স্যানচেজের। দুরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান তিনগুণ করেন তিনি। ৩-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

CBv61aBUgAAKuH5

CBv4JPvUAAA_Td9

বিরতির পর মোটামুটি নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে খেলা শুরু করে লিভারপুল। লাজার মার্কোভিচকে উঠিয়ে নিয়ে কোচ মাঠে নামান ইনজুরিফেরত স্ট্রাইকার ড্যানিয়েল স্টারিজকে। ওদিকে আর্সেন ওয়েঙ্গারও তিন গোলে এগিয়ে থাকার জন্য খানিক আয়েশী মনোভাব দেখান, অ্যারন র‍্যামসিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান ম্যাথিউ ফ্ল্যামিনি ও লরাঁ কসিয়েলনি কে তুলে নিয়ে মাঠে নামান এই শীতে ভিয়ারিয়াল থেকে দলে আসা ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল পলিস্তাকে।

ম্যাচে মোটামুটি ভালো খেললেও ফলাফলের জায়গাটা খাঁ খাঁ-ই থেকে গেছে লিভারপুলের। সুযোগ সৃষ্টি করা সত্বেও পরিপূর্ণতা আনতে পারেননি স্টার্লিং-স্টারিজরা। ৭৬ মিনিটে বেয়েরিনের ফাউলের দরুণ পেনাল্টি পায় লিভারপুল। সান্ত্বনার গোলটি করেন হেন্ডারসন।

গোলের পর হেন্ডারসন
গোলের পর হেন্ডারসন

কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় পড়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে গিয়ে লিভারপুলের হতাশার ষোলকলা পূর্ণ করেন এমরে চ্যান।

CBwGwqcUEAEd-k0

অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি গোল করে কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফরাসী স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরু। ২০০৮ সালে ইমান্যুয়েল আদেবায়োরের পর আর্সেনালের হয়ে এই প্রথম কোন স্ট্রাইকার টানা ছয় প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে গোল পেলেন।

ছয়ে ছয় জিরুর
ছয়ে ছয় জিরুর

লিভারপুল ম্যানেজমেন্টের সাথে সপ্তাহভর বেতন নিয়ে দরকষাকষি করতে থাকা তরুণ ইংলিশ উইঙ্গার রাহিম স্টার্লিং আসল কাজ করার সময় ডুব মেরেছেন। মাঠে মিস করেছেন সহজ থেকে সহজতম সব সুযোগ।

এভাবে খেললে কে তোমাকে সপ্তাহ প্রতি লাখ পাউন্ড দেবে বাছাধন?
এভাবে খেললে কে তোমাকে সপ্তাহ প্রতি লাখ পাউন্ড দেবে বাছাধন?

ওদিকে ম্যাথিউ ডেবিউশির ইনজুরি ও ক্যালাম চেইম্বার্সের অফ ফর্মে থাকার সুযোগ দু’হাত ভরে নিচ্ছেন আর্সেনালের তরুণ রাইটব্যাক হেক্টর বেয়েরিন। বেয়েরিন ও কক্যুইলান – নিঃসন্দেহে আর্সেনালের এই মৌসুমের সবচে’ বড় আবিষ্কার।

ফলাফল যা হবার তাই-ই। ২০১১ সালের সেই টটেনহ্যাম ম্যাচের পর এই প্রথম লিভারপুলের ৪ গোল হজম করা। সাথে চ্যাম্পিয়নস লিগ স্বপ্নেরও ‘প্রায়’ সমাধি!

কমেন্টস

কমেন্টস

4 thoughts on “এমিরেটসে বিধ্বস্ত লিভারপুল

  1. “ওদিকে আর্সেন ওয়েঙ্গারও তিন গোলে এগিয়ে থাকার জন্য খানিক আয়েশী মনোভাব দেখান, অ্যারন র‍্যামসিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান ম্যাথিউ ফ্ল্যামিনি ও লরাঁ কসিয়েলনি কে তুলে নিয়ে মাঠে নামান এই শীতে ভিয়ারিয়াল থেকে দলে আসা ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল পলিস্তাকে।”
    কথাটা বোধহয় খানিকটা ভুলই। বরং ইনজুরীজনিত কারণে দুজনকেই তুলে নেয়া হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

four × 3 =