এমন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচই কি আমরা চেয়েছিলাম?

যেসব ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফ্যান সকাল ৬টাই ঘুম থেকে না উঠতে পেরে খেলা মিসের শোকে কাতর, তাদের আমি বলতে পারি, দুঃখ পাবেন না, খুব বেশি কিছু মিস করেননি আপনি।

এত বেঠিক পাস ও বাজে খেলা দেখার পর আমার অনুভূতি, এর আগের দিন বৃষ্টির মধ্যে খেলা হলে বরং পুরো ম্যাচটা জমত বেশি। ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে এমন একটি বোরিং ম্যাচ কেউ দেখতে চায় না।

গোল্লাছুটে দেখুন হাইলাইটসঃ ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা

Posted by গোল্লাছুট ডটকম :: Gollachhut.com on Friday, November 13, 2015

যাই হোক, এইবার খেলার প্রসঙ্গে আসি। আর্জেন্টিনার হোম ম্যাচ হলেও অনেকের মতে ব্রাজিল ছিল ফেভারিট। মেসি নেই, আগুয়েরো নেই। নিয়মিত রাইট ব্যাক জাবালেতাও অনুপস্থিত। তাই অনেকের প্রশ্ন ছিল, উইঙ্গে নেইমার, উইলিয়ান ও ডগ্লাস কস্তাদের গতির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা কি ব্যবস্থা নিবে?

আর্জেন্টিনার উত্তরঃ কড়া প্রেসিং।

হাই ডিফেন্সিভ লাইন খেলানোর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা নিজেদের ডিফেন্স ও মিডফিল্ডকে খুবই কাছাকাছি রেখেছিল। উদ্দেশ্যঃ ব্রাজিলের অ্যাটাক গঠন হবার সাথে সাথে প্রেসিং করে বল ছিনিয়ে নেওয়া।

অদ্ভুত হলেও ব্রাজিল নয়, বরং আর্জেন্টিনার উইং প্লে এই ম্যাচে অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল। ডিফেন্সের দুর্বল লিঙ্ক রঙ্কাগ্লিয়াকে কিছু ক্ষেত্রে বেশ নার্ভাস লাগলেও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে তিনি অভারলেপ করে বেশ ভালো সাহায্য করেছেন। অন্য উইঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে বেশ ভালো ফর্মে থাকা মার্কোস রোহো ও লাভেজ্জির পার্টনারশিপ জমেছিল বেশ।

এই উইং প্লে থেকেই আর্জেন্টিনার গোলটি আসে। বানেগা বল জিতে ডি মারিয়াকে পাস দেন। ডি মারিয়া ব্রাজিল ডিফেন্স লাইনের পিছনে ডান ফ্লেঙ্কে চলে আসা হিগুইয়েনকে পাস দেন। আর ডান উইং থেকেই হিগুইয়েনের একটি ভালো লো ক্রসে লাভেজ্জি গোল করেন, খেলা শুরু হবার ৩৪ মিনিটে।

লাভেজ্জির গোল
লাভেজ্জির গোল

প্রথম হাফে ব্রাজিলকে চিনাই যাচ্ছিল না। তাদের আদৌ কোন গেমপ্লেন আছে বলে মনে হচ্ছিল না। ব্যান কাটিয়ে ফিরা নেইমার ভুগছিলেন। উইলিয়ান রোহো- লাভেজ্জিকে ঠেকাতে বার বার পিছে ট্র্যাক ব্যাক করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। ব্রাজিল লিগে নিজের প্লেমেকিং স্কিল দিয়ে নাম কুড়ানো লুকাস লিমা এখনো ব্রাজিলের সেট-আপের সাথে আতস্থ হননি বুঝাই যাচ্ছিল। ২ ডিফেন্সিভ মিড গুস্তাভো ও এলিয়াসের থেকেও তেমন কোন সাহায্য পাননি।

খেলাটি আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় হাফের শুরুতেই শেষ করে দিতে পারত বানেগার শটটি বারপোস্টে না লাগলে। এই অর্ধে আগের মত আর্জেন্টিনার ডমিনেশন চলতে থাকলেও ব্রাজিল আস্তে আস্তে উন্নতি দেখাতে থাকে। টাটা মারটিনোর আর্জেন্টিনার একটি খুব নিয়মিত ব্যাপার হচ্ছে, ৫৫-৬০ মিনিটের পরে গিয়ে সব খেলোয়াররা যেন বেসিক ফুটবল ভুলে যান। এই ম্যাচও ব্যাতিক্রম ছিল না।

Getty Images

যে সাবস্টিটুশন ২য় হাফের শুরুতেই করা উচিত ছিল, ৫৭ মিনিটে এসে দুঙ্গা তা অবশেষে করেন। পুরো ম্যাচে অদৃশ্য সেন্টার ফরওয়ার্ড রিকারডো অলিভেরাকে উঠিয়ে নামান বায়ার্ন মিউনিখের ডগ্লাস কস্তাকে।

কস্তার ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে শুধু ১ মিনিট সময় লেগেছে। নেইমার অসাধারণ ভিশনের পরিচয় দেখিয়ে দানি আল্ভেসের কাছে বল পাঠান, যিনি ক্রস করেন ফার পোস্টে থাকা ডগ্লাস কস্তাকে। বায়ার্ন স্টারের ফ্রি হেডার বারে লাগলেও রিবাউন্ড থেকে গোল করেন লুকাস লিমা।

গোলের পর লুকাস লিমা
গোলের পর লুকাস লিমা

ক্লান্ত লাভেজ্জি দানি আল্ভেসকে ট্র্যাক করতে অসক্ষম ছিলেন। লুকাস লিমাকে মার্ক করতে পারেননি কোন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।

এই গোলের পর ম্যাচে ব্রাজিল যেন হঠাৎ নিজেদের ফিরে পায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা খেলোয়ারদের মাঝে কম্বিনেশন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে পড়ে। উইলিয়ানের এক অসাধারণ সলো রানের পর নেওয়া শট থেকে ডিফ্লেশনের কারণে গোল বঞ্চিত হয় ব্রাজিল।

খেলার শেষের দিকে গিয়ে ২ দলের কম্বিনেশনের পুরোপুরি “মায়েরে বাপ” অবস্থা হয়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাস্যকরভাবে ২টি ইয়েলো কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডেভিড লুইজ, যা পুরো খেলার অবস্থাটা অনেকাংশে তুলে ধরে।

এই ট্যাকল করেই ২য় ইয়েলো কার্ড পান ডেভিড লুইজ
এই ট্যাকল করেই ২য় ইয়েলো কার্ড পান ডেভিড লুইজ

১০ ম্যানের দলে পরিণত হওয়া ব্রাজিল আর কোন ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। ইঞ্জুরি সময়ে সেন্টার ব্যাক গিলকে উইলিয়ানের বদলে দুঙ্গা নামান লিড ধরে রাখার জন্য। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

লুইজ মিস করবেন পেরুর বিপক্ষে সহজ হোম ম্যাচ, বর্তমানে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের ৪র্থ অবস্থানে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে, বারাঙ্কুইল্লার মারাত্মক গরমে। ৩ ম্যাচ শেষে এখনো জয়শূন্য আর্জেন্টিনা। মাত্র ২ পয়েন্ট পেয়ে তারা এখন পয়েন্ট তালিকার ৯ম অবস্থানে, একমাত্র ভেনেজুয়েলা তাদের নিচে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × five =