এভারটন : নতুন ইপিএল জায়ান্ট – ১

::::: আদনান আল রাহীন :::::

  •  নতুন ইনভেস্টমেন্ট

খুব বেশিদিন হয়নি, মৌসুমের শুরুতেই এভারটনের মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার ঘোষণা দেন এভারটন চেয়ারম্যান বিল কেনরাইট। অনেকেই হয়ত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিবেন এ আবার নতুন কি ঘটনা, এত মাতামাতির কি আছে? এর আগেও কিউপিআর, কার্ডিফ সিটি আর ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সেও ত নতুন ইনভেস্টমেন্ট এসেছিল, এই দলগুলো এখন তো রেলিগেশনে!

আসলে এভারটন মাস্টারপ্ল্যান নিয়েই নেমেছে। ব্যাপারটা এত সহজে উড়িয়ে দেয়ার মত না। ইপিএলের নতুন জায়ান্ট হওয়ার জন্যই এসেছে নীল মার্সিসাইডাররা। পুরাতন জায়ান্টদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে লিভারপুলের প্রতিবেশিরা। সবিস্তরে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হবে। আজ শুধু মালিকানা নিয়েই আলোকপাত করি…

ফরহাদ মশিরি, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ইরানিয়ান ধনকুবের এভারটনে ইনভেস্টমেন্ট করেছেন। এভারটনের ৪৯.৯% শেয়ারের অধিকারী তিনি। ফোর্বস এর মতে ১.৩ বিলিয়ন পাউন্ড সম্পদের অধিকারী তিনি। ৬১ বছর বয়সী এই ইরানিয়ান ইউকে এবং রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় স্টিল ও এনার্জি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। চার্টার অ্যাকাউন্টেড হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এই ভদ্রলোক। ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে Deloitte কাজ করেন তিনি। সেখানেই পরিচয় রাশিয়ান ধনকুবের আলিশার উসমানোভের সাথে। সেই সময় মশিরির প্রধান কাজ ছিল উসমানোভের অ্যাকাউন্টগুলো দেখভাল করা। দক্ষ ও বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে মশিরিকে নিজের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট ও বিজনেস পার্টনার করে নেন উসমানোভ। এছাড়াও Metalloinvest এর ৫% শেয়ারও দিয়ে দেন ইরানিয়ান চ্যার্টার অ্যাকাউন্টেডকে। এখান থেকেই সম্পদের ও সপ্নের পরিসীমা শুরু মশিরির। এরপর একসাথে বেশ কয়েকটি প্রজেক্টে একসাথে কাজ করেছেন এই দুই বন্ধু। ২০০৭ সালে একসাথে ইনভেস্ট করেন লন্ডনের সেরা আর্সেনালে। আর্সেনাল থেকেই ফুটবল নিয়ে ধীরে ধীরে নোলেজ পেতে থাকেন তিনি, প্যাশোনেট হতে থাকেন। কিন্তু এই মৌসুমেই উসমানোভের কাছে নিজের অধীনে থাকা আর্সেনালের সকল শেয়ার বিক্রি করে দেন। লক্ষ্য এভারটনে নতুন কিছু করে দেখানো, এভারটনকে সাফল্য এনে দেয়া যা অনেকবছর ধরে পায়নি টফিসরা। কিন্তু আসলেই কি এই কারণই? নাকি অন্য কোন কিছু আছে? চলুন দেখে নেই একবার।

চেয়ারম্যান বিল কেনরাইটের সাথে ফরহাদ মশিরি
চেয়ারম্যান বিল কেনরাইটের সাথে ফরহাদ মশিরি

আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে Stan Kroenke, যারা আর্সেনালের ৬৭.০২% শেয়ারের মালিক। অন্যদিকে উসমানোভ ও মশিরি একত্রে ৩০.০৪% শেয়ার হোল্ড করেন। যার দরুন আর্সেনাল বোর্ডে খুব একটা ইনফ্লুয়েন্স নেই উসমানোভ ও মশিরির। তাই উচ্চাভিলাষী মশিরি নিজেকে নতুনভাবে চিনাতে চান নিজেকে। আর্সেনালের নিজের সকল শেয়ার উসমানোভের কাছে বিক্রি করে দিয়ে নিজে এভারটনের ৪৯.৯% শেয়ার কিনে নেন তিনি। যেখানে এভারটনের শেয়ারের মার্কেট প্রাইস ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড সেখানে ২০০ মিলিয়ন ইনভেস্ট করছেন এই ইরানিয়ান। পরিকল্পনায় আছে নতুন স্টেডিয়াম (যা পরবর্তী পর্বে আসছে বিস্তারিত) এবং একাডেমিসহ আরো অনেক কিছু। আগে থেকে নতুন ইনভেস্টমেন্ট এর খোঁজে থাকা এভারটন মনের মত ইনভেস্টরও খুঁজে পেল। একযুগ ধরে নতুন ইনভেস্টমেন্ট খুজছিলেন কেনরাইট। এভারটনের জন্য নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে না থাকার কোথাও বলেছেন তিনি। কিন্তু ফ্যানদের প্রেশারে থাকা কেনরাইট আরো কয়েকদিন চেয়ারম্যান হিসেবেই থাকবেন, স্বল্পমেয়াদী হলেও। তবে প্রাক্তন ম্যানেজার রোবার্তো মার্তিনেজ কেনরাইটের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। মার্তিনেজের মতে আরো ১০-১৫ বছর তাঁর চেয়ারম্যান থাকা উচিত, ইনভেস্টমেন্ট আসুক বা না আসুক, প্রয়োজনে নাকি সারাজীবনের জন্য! এভারটনের মালিকানা পাওয়ার পরপরই মশিরি বলেন, “এভারটনের শেয়ারহোল্ডার হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। বর্তমানে ইপিএলে যেরকম লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে সেটি আগে কখনই ছিল না। বিল কেনরাইট (এভারটন চেয়ারম্যান) আমাকে বুঝিয়েছে এভারটনিয়ান হওয়ার মুল্য। আনন্দের সাথে আমি তাঁর সাথে কাজ করতে মুখিয়ে আছি আর এভারটনকে সাফল্য এনে দিতে আমি তাঁকে সাহায্য করব।” একটা মজার তথ্য দেই, মাঠে লিভারপুলের সাথে এগিয়ে না থাকলেও এই জায়গায় এগিয়ে আছে এভারটন। মশিরির সম্পত্তির পরিমাণ যে লিভারপুলের মালিক জন ডব্লিউ হেনরি’র চেয়ে বেশি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × one =