এভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করে লাভ হচ্ছে কিছু আদৌ?

এভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করে লাভ হচ্ছে কিছু আদৌ?

টিটোয়েন্টি আর টেস্ট রেখে ওয়ানডে আসলে অফ করে দেওয়া উচিত এইভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাইলে ।

সাউথ আফ্রিকার প্রথম আসর থেকে শুরু করে ভারতে হয়ে যাওয়া শেষ আসরটা- টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিনিসটায় বিনোদনের কমতি থাকে না কখনোই । এমনেও আস্তে আস্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপটে আস্তে উপমহাদেশের বাইরের প্লেয়ারেরা ন্যাশনাল টিমের চুক্তিতেই ঢুকবে না এটা এখনই বলে দেওয়া যায়। তার চেয়ে ফুটবলের মত ফ্যাঞ্চাইজি লিগ গুলার সাথে ন্যাশনাল টিমের শিডিউল এলাইনড থাকুক দুই পক্ষেরই লাভ । অনেক ভালো ভালো প্লেয়ার রিসেন্টলি দেখেছি আর্লি রিটায়ারমেন্টে যাচ্ছে। এমনেও ন্যাশনাল টিমের খেলাগুলোর রেজাল্ট এখন আস্তে আস্তে এতো প্রেডিক্টেবল হয়ে যাচ্ছে হোম কন্ডিশন আর বাইরের আরো কিছু ফ্যাক্টর মিলিয়ে যে ক্রিকেটটাকে মাঝে মাঝে স্পোর্টসই মনে হয় না । এশেজের মত টেস্ট সিরিজ নিয়ে যত উত্তেজনা সিরিজ শুরুর আগেই । ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা শুরু হলে দেখা যায় হোম টিমটা আরামসে জিতে যাচ্ছে । এর চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বেঁচে থাকুক আর দুই বছর পর পর একটা করে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়ে যাক আর কিছুর দরকার নাই ।

২০০৭ এর ওপেনিং ইন্সটলমেন্টটায় কী ছিলো না ? একটার পর একটা সারপ্রাইজ ! ফুটবল বিশ্বকাপের মজাই হলো এই টুর্নামেন্টের সারপ্রাইজ এন্ট্রিগুলো । কখনো সেনেগালের মত একটা ফুটবল দল, আবার কখনো হুট আলোর বাইরে থাকা এনার ভ্যালেন্সিয়ার মত ফরোয়ার্ড। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা সেই সারপ্রাইজ এন্ট্রির জায়গাটা রাখে বলেই ফরম্যাটটা ভালো লাগে আমার । কার্লোস ব্রাফেটরা হুট করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে বলেই ক্রিকেটের একমাত্র এক্সাইটিং টুর্নামেন্ট মনে হয় আমার এই টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপটাকে। আলোর বাইরে থাকা লেন্ডল সিমন্স হুট করে একদিন সেমিতে নেমে ভারতের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্রিকেটকে খেয়ে দিচ্ছে এর চেয়ে মজা আর হয় না । এই মজার জায়গা এই লিগ সিস্টেমের ওয়ার্ল্ড কাপে কি আছে ?

২০১৯ এর ক্রিকেট বিশ্বকাপটার ফিকচার হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডের ড্রপ-ইন পিচের কথা মাথায় রেখে উইনার প্রেডিক্ট করেন … দেখবেন ৭০% মিলে যাবে । কারণ একটা আফগানিস্তান ভারতের সাথে খেলতে নামার আগে জানে যে এই একটা ম্যাচ ভালো খেলেও তার কোন লাভ হচ্ছে না । পরের রাউন্ডে যেতে হলে ৮ ঘন্টা ধরে চলা একটা ম্যাচ জিতে হচ্ছে না , দুইটা ম্যাচ জিতে হচ্ছে না । জিততে হবে ৩টা বড় ম্যাচ এবং তার পরেই আসবে পরের রাউন্ডে উঠার সম্ভাবনা । কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপের ম্যাচে আইসল্যান্ডের প্লেয়ারেরা মেসির বিপক্ষে নামার আগে জানবে ওপাশটায় সর্বকালের সেরাদের একজন থাকলেও ৯০ মিনিটের জন্য ভালো খেলতে পারলেই ইতিহাসে ঢুকে যাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে । এই যে ৯০ মিনিটের অনেক কিছু বদলে দিতে পারার ক্ষমতাটাই ফুটবল বিশ্বকাপকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে । আর ৮ ঘন্টা ভালো খেলতে পারলেই অনেক কিছু বদলে যাবে… ২০০৭ এর ক্যারিবিয়ান ওয়ার্ল্ড কাপে এই ফরম্যাটে আইসিসি চলে এলেও আবার ফিরে যায় মান্ধাতা ফিকচারে । তিনটে ৮ ঘন্টা করে ম্যাচ জিততে হবে এটা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ছোটদের স্বপ্নকে মাথাচাড়া দিয়ে মেরে ফেলে আর ৯০ মিনিটেই বদলে যাবে এটা ফুটবল বিশ্বকাপের ছোটদের ১২০% দিতে চার্জড আপ করে ।

১০ দলের একটা লিগ হচ্ছে সত্যি বলতে। এইটার নাম ওয়ার্ল্ড কাপ কোন আক্কেলে রাখলেন ? ১০ দলের লিগ শেষ দুইটা সেমিফাইনাল আর একটা ফাইনাল জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে স্রেফ একটা ট্রফি দেওয়ার জন্যে । এর বাইরে আর কিছু না ।

২০১৮ বিশ্বকাপে পানামা ফুটবলের সবচেয়ে বড় লিগগুলোর একটার আয়োজক দেশ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগ পর্যন্ত থাকবে নিজেদের স্বপ্নের সমান বড় । আর ২০১৯ বিশ্বকাপে আফগানিস্তান আইপিএল আয়োজক ভারতের বিপক্ষে নামার আগে থাকবে আইপিএলের নিলামে ভালো দামে বিক্রি হবার আশার সমান বড় ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

12 + fourteen =