এভাবেই কচুকাটা করবেন সাহিবজাদা!

আলহামদুলিল্লাহ। সাহিবজাদা সাহেবকে অবসরে পাঠানোর চক্রান্ত শক্ত হাতে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। নূরানী চেহারা, তরতাজা-আকর্ষণীয় দেহপল্লবের টগবগে এক যুবক, ক্যারিয়ার সূর্য যার মধ্যগগণে, তাকেই কিনা অবসরে পাঠানোর আয়োজন করেছিল পিসিবির নব্য মাতব্বর ইনজামাম গং! শেষ পর্যন্ত বোর্ড প্রধানকে অস্ত্রোপচারের টেবিলে এবং বোর্ডের নির্বাহী কমিটির প্রধানকে ছুটিতে পাঠিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও সাহিবজাদার শাণিত তরবারির মতো ধারালো ব্যক্তিত্বের কাছে কচুকাটা হয়েছিল আরও একদল ষড়যন্ত্রকারী। ক্রিকেট বিশ্বের স্থাবর-অস্থাবর তাবত বোলারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে, নিজে বুকে পাষাণ বেধে সাহিবজাদা ঘোষণা দিয়েছিলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন।

এই ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত হয়ে বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত পিসিবির হিংসুটে চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান ঘোষণা করেছিলেন, “সে একজন পাঠান, আমিও এক পাঠান। দুই পাঠানের মধ্যে কোনো কথা হলে সেটার নড়চড় হয় না।” কথার নড়চড় না হলেও সাহিবজাদা নড়েচড়ে বসলেন। বুড়ো পাঠানের মন্তব্যে যে পাঠার গন্ধ! সাহিবজাদার পাঠান সত্ত্বা জেগে উঠল আবার। শরীরের চেয়েও বিশাল তার মন। পারিপার্শ্বিকতার চাপে অবসর নেওয়ার ঘৃণ্য কাজ তিনি এক জীবনে অসংখ্যবার করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ঠিকই বিপুল বিক্রমে অবসর ভেঙে খান খান করে শহীদ খান হয়ে উঠেছেন ‘গাজী!’ এবারও, ক্যারিয়ারে অযুতবারের মতো, অবসরের ঘোষণাকেই পাঠিয়ে দিলেন অবসরে। সাব্বাশ পাঠান!

কিন্তু মাংস ব্যবসায়ী ইনজামাম কী আর এই ঘোষণার মর্ম বুঝতে পারেন! চাপাতি দিয়ে হাড্ডি-মাংস কাটা যার কাজ, সেই ইনজামাম নির্মম চাপাতিঘাতে জর্জরিত করল সাহিবজাদার এই সাহসী ও মহান ঘোষণাকে। আন্তর্জতিক ক্রিকেট বঞ্চিত হলো সাহিবজাদার পবিত্র পদচারণা থেকে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জুড়ে ডুকরে কাঁদলো তার ভক্তকুল।

সম্প্রতি নিজ দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে সাহিবজাদা একটি মাত্র ম্যাচই খেলতে পেরেছিলেন। কারণ, ফিটনেস সমস্যা। ভাবছেন, তার ফিটনেস নেই? আপনার মুখে ছাই। সাহিবজাদার ফিটনেসের লায়েক কোনো ক্রিকেটার নেই তার দেশে। কার সঙ্গে খেলবেন? তার মতো ক্রিকেটারকে ধারণ করার ক্ষমতাও নেই সামান্য একটি লিগের। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থেই সাহিবজাদা এই টুর্নামেন্ট খেলেননি।

কে নিবে অবসর? আমি?
কে নিবে অবসর? আমি?

তারপরও ইনজামাম গংদের চক্রান্ত থেমে ছিল না। তারা পরিকল্পনা করল, আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সাহিবজাদাকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেওয়ার, যাতে মাঠে খেলে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারেন। কিন্তু তথাকথিত এই সম্মান যে আসলে একটা মুলি বাঁশ এবং পাকিস্তান ক্রিকেট, তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়ার নীল নকশার অংশ, সেটা সাহিবজাদার তীক্ষ্ন রাডারে ধরা পড়েছে। সাহিবজাদার সকল পূণ্যের প্রভাবে এবং ভক্তকুলের প্রার্থনায় ষড়যন্ত্রের পেছনে কলকাঠি নাড়া বোর্ড প্রধানকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। সাহিবজাদার অবসর নাটক ভেস্তে গেছে। এভাবেই আরও একবার সাহিবজাদার নাতিদীর্ঘ ক্যারিয়ার দীর্ঘ হওয়ার উপলক্ষ্য সৃষ্টি হয়েছে।

ধৈর্যশীল ও চিন্তাশীল একজন ক্রিকেটারের ছোঁয়ায় প্রতি মুহূর্তেই নতুন প্রাণ পাবে ক্রিকেট। আরও সমদ্ধ হবে শূন্যের ভান্ডার। মাত্র কদিন পরই তার ক্যারিয়ারের বয়স হবে ২০ বছর। মোটে! আরও ২০ বছর পরও ২৬ বছর বয়সে ক্রিকেটকে রাঙাতেই থাকবেন সাহিবজাদা। ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে কচুকাটা করবেন…কচুকাটা করবেন…কচুকাটা করবেন…. বোলারদের? নাহ, অবসরে পাঠানোর ষড়যন্ত্রকারীদের!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 − 2 =