এবার লক্ষ্য ব্যালন ডি অর!

ব্যর্থতা তত্‍ক্ষণাত বিষাদের কাব্য করলেও তা ভবিষ্যত সাফল্যের পরোক্ষ উপাদান ।
ফ্রান্সের মনাকোয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব যেন কথাটির যথার্থতা প্রমাণ করলো বেশ ঢাকঢোল পিঁটিয়ে ।
গতবার এই মঞ্চেই ভগ্ন হৃদয়ে ফিরতে হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানোকে ।
লিও মেসির কাছে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর সেই রাতে তাকে বিচার করা হয়েছিল মাত্র ২ ভোটে ।
মঞ্চে হতাশায় ভেঙ্গে পড়া রোনালদো সেদিন হার মেনেছিলেন ঠিকই । তবে তা চিরতরে নয় ।
শূন্য থেকে শুরু করা এই মহাতারকা
সেদিনের রাতটিকে হয়ত ইচ্ছে করেই ভুলে থাকতে চাননি । কেননা, এটিই যে হতে পারে তার সাফল্যের পরোক্ষ উপাদান ।
দৃঢ় প্রত্যেয়ী আর কঠোর পরিশ্রমী রোনালদো আজ আবার দাঁড়িয়েছিলেন মনাকোর সেই রঙ্গিন মঞ্চে ।
তবে এবার ভগ্ন হৃদয়ে নয়, মগ্ন পরিশ্রমে জৌলুস লগ্নে শ্রেষ্ঠত্ব জিতলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ মহাতারকা ।
ইউরোপের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার অর্জনে রোনালদো বেছে নিয়েছিলেন ইউরোপকেই ।
চলতি বছরেই তার ক্লাব জিতেছে রেকর্ড ১১তম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা । ক্লাবের হয়ে এটি তার ২য় ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব ।
টুর্নামেন্টে সিআর সেভেন ছিলেন এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা । পেনাল্টি শুট আউটে তার পা থেকেই জয়সূচক গোল পায় শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ক্লাবটি ।
তবে গল্প যেন তখনও বাকি, বাকি শ্রেষ্ঠত্বের পাদচূড়ায় ওঠার মহাকাব্য ।
২০০৪ এর সেই ব্যর্থতার অশ্রু মুছে রোনালদোর পর্তুগাল প্যারিস জয় করলো ।
প্রথমবারের মত ইউরো কাপ জিতলো রোনালদো ও তার দেশ পর্তুগাল । সেদিনের ফাইনালে প্রতিপক্ষ পায়েটের আঘাত রোনালদোকে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠছাড়া করেছিল বটে । তবে ১২০ মিনিট শ্রেষ্ঠত্ব লড়াই শেষে রঙ হারানো প্যারিস আবারও ফিরে পেয়েছিল তার রঙ । ততক্ষণে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা উঠে গিয়েছিল পর্তুগাল নামে ।
সুখ অশ্রুতে ভেসে যাওয়া রোনালদো ছিলেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোল সংগ্রাহক ।
রোনালদোর অমরত্বের মুকুটে যোগ হওয়া ইউরো পালকটিই সে রাতে ইঙ্গিত দিয়েছিল ব্যক্তিগত ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ফিরছে ক্রিশ্চিয়ানোর শিরে । প্যারিস রজনীর সেই ইঙ্গিত আজ পূর্ণতা দিল একই ভূখণ্ডের মনাকোয় এক জাঁকজমক মজলিসে ।
ক্লাব সতীর্থ গ্যারেথ বেল ও নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের এ্যান্টোনিও গ্রিজম্যানকে হারিয়ে রোনালদো পেলেন যৌথভাবে সর্বোচ্চ ‘উয়েফা বেস্ট প্লেয়ার’ এর খেতাব ।
পুরস্কার নিতে ওঠা রোনালদোর চোখে মুখে উত্তেজনার কমতি অবশ্য খানিকটা কমই ছিল । পশ্চাতের হেতু সবারই জানা । পরিস্কারভাবেই এবারের যোগ্য দাবীদার ছিলেন পর্তুগীজ যুবরাজ । কিন্তু অর্জনের আবেগ লুকাতে পারেননি ইউরোপের নতুন রাজা ।
স্বভাবসূলভ এক চিলতে হাসির কান ছড়ানোর দৃশ্য যেন বলে দেয়-
‘পরিশ্রম শ্রেষ্ঠত্বের জনক’ ।
আর এই জনকের রুপদাতা রোনালদো রেখে গেলেন ব্যর্থতায় হাল ছাড়াদের জন্য আরেকটি দিব্য শিক্ষা ।
ব্যর্থতার কাছে হারতে হবে হয়ত । কিন্তু তাতে অভ্যস্ত কিংবা খেই হারিয়ে না ফেলাই যেন ক্রিশ্চিয়ানোর আজকের শ্রেষ্ঠত্বের শিক্ষা বার্তা ।

দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হলো । খুশি, কিন্তু এখনই কি তৃপ্ত রিয়াল মাদ্রিদ কমাণ্ডার ?
হয়ত না !
আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও যে বিশ্ব শ্রেষ্ঠত্ব তথা ব্যালন ডি’অর অর্জন বাকি । হারানো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে এবার তাই হয়ত রোনালদোর দ্বিগীজ্বয়ী অশ্বরথ ছুটছে জানুয়ারীর সেই আড়ম্বর মহরণে ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen − 6 =