এবারই হবে লঙ্কা-জয়? প্রত্যাশার বেলুন এবং বাস্তবতা

আমাদের ছেলে বিজয় সিংহ, লঙ্কা করিয়া জয়,
সিংহল নামে রেখে গেলো তার, শ্যৈর্যের পরিচয়।
ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই বিখ্যাত কবিতাটি মনে পড়ছে, কারন এই লেখা যখন আপনারা পড়বেন, ততক্ষণে বাংলার বাঘ আর লঙ্কার সিংহ দের প্রথম টেস্ট লড়াই শেষ হয়ে গেছে এবং আমাদের সাথে তাদের আসল পার্থক্য যে পেশাদারিত্বে, সেটা প্রমাণ করে লঙ্কান রা জিতে গেছে ২৫০ এরও বেশি রানে। তা দুই দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হতেই পারে। কিন্তু এবারের শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমের লেখা পড়ে থাকলে আপনার একটি পশ্চিমবঙ্গীয় নির্বাচনী স্লোগান মাথায় আসতে বাধ্য,
“ এবার না হলে নেভার”
এটা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী স্লোগান, সে অনেক আগের কথা। কিন্তু এবার যেভাবে আশার বেলুন ফুলানো হয়েছে, তাতে আমার শুধু এই কথাটি মনে হচ্ছে। তবে আমাদের সংবাদমাধ্যমের কথা বেশি না বলাই ভালো। এদের মতো ক্রিকেটবোদ্ধা এদেশে আর কেউ নেই। এরা আশার বেলুন ফুলাতে যেমন পারঙ্গম, তেমনি সেই বেলুন ফুটো করতেও পারঙ্গম।
এত কথা কেন হচ্ছে এবার লঙ্কা-জয় নিয়ে? কারণ, এই দলটি একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এখন। ব্যাটিঙে সেই বিখ্যাত জুটি জয়া-সাঙ্গা অতীত হয়েছে ২০১৫ সালেই। বল হাতেও মালিঙ্গা আগের ফর্মে নেই, আছেন শুধু হেরাথ, তিনিই আবার অধিনায়ক। তাই এই দুর্বল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের ‘লঙ্কা-বধ কাব্য’ রচনায় সবার এত আগ্রহ।
বললেই কি জেতা হয়ে যায়? না। জিততে হয় মাঠে খেলে। শ্রীলঙ্কান কোচ হাথুরু কিন্তু সরাসরি জয়ের কথা না বলে সুযোগের কথা বলছেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার যে করতে পারবে, সেই জিতবে। এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কান কোচিং স্টাফরা যদি আমাদের শক্তি আর লঙ্কার ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়, তবে আমাদেরও দুশ্চিন্তার কারণ আছে, সেটা হচ্ছে ফিল্ডিং। আমরা যদি আমাদের মাখন মাখা হাত নিয়ে খেলতে নামি, তাহলে এই লঙ্কা কেন, জিম্বাবুয়ের সাথেও জয় কঠিন হবে। আরও আছে ধৈর্যের অভাব। টেস্ট ব্যাটিং যে ধৈর্যের পরীক্ষা- সেটা ভারত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ দেখে বুঝেছেন তো? আমাদের ব্যাটসম্যানদের আবার ঐ বস্তুটি একদমই কম। লং অন দেখেও স্পিনারকে উড়িয়ে মেরে বীরশ্রেষ্ঠ সাজতে গিয়ে একেকজন নিজেরাই উড়ে যান আর বলেন, “আমি তো এমনই”!
এই লঙ্কাতেই উইকেটকিপার হিসেবে অভিষেক হয়ে হয়েছিলো মুশফিকের। আবার এই লঙ্কাতেই তার উইকেটকিপার হিসাবে খেলার সমাপ্তি হচ্ছে। উত্তরাধিকার দিয়ে যাচ্ছেন লিটন দাসের হাতে, সেই লিটন কতটুকু কি করতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে মুশফিক কে শুধু ব্যাটসম্যান হিসাবে খেলানোর সিদ্ধান্তটি শতভাগ সঠিক আমার মতে। আশা করি ২০১৩ তে যেমন দ্বিশতক হাঁকিয়েছিলেন, এবারো তেমন কিছু করবেন।
জয় আসতে পারে, যদি ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই আমরা শতভাগ দিতে পারি। বল হাতে মিরাজ-সাকিব-মুস্তাফিজ ত্রয়ী আমাদের ত্রিফলা। সাথে আছেন তরুণ গতি-তারকা তাসকিন। খেয়াল রাখতে হবে ভ্যাঁপসা গরম এবং প্রতিকূল কন্ডিশনে ইনজুরি-মুক্ত থাকার দিকে।
আসলে টেস্ট খেলা শিখতে হবে। বড় ইনিংস খেলা, শট না খেলে টিকে থাকা, হাস্যকর ভুলে শেষ হয়ে না আসা- এসব শিখতে হবে। ক্যাচ ফেলা যাবে না। এমন মাখন মাখা হাত আর শিশুসুলভ ব্যাটিং করলে লঙ্কা জয় নয়, লঙ্কার ঝালের তেজ টের পেতে হবে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + 12 =