এফসি নুর্নবার্গ : ফিরে পাবে কি সেই গৌরবের দিন আর?

এফসি নুর্নবার্গ : ফিরে পাবে কি সেই গৌরবের দিন আর?

এফসি নুর্নবার্গ। একটা সময়ে জার্মানিতে রাজত্ব করা দলটির অধঃপতনের কাহিনী বেশ দুঃখজনক বটে। সাফল্যের বিচারে জার্মানির দ্বিতীয় সেরা দল হয়েও আজ তেমন পরিচিতি পায়নি দলটি। এমনকি আমরা অনেকেই এই হারানো পরাশক্তির ব্যাপারে অবগত নয়। তাই চলুন বুন্দেসলিগার আরেকটি ঐতিহ্য বহনকারী দলের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেই।

১৯০০ সালের ৪ই মে একটি পানশালায় ১৮ জন যুবক মিলিত হয়ে একটি রাগবি দল গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাগবি দ্বারা বেশ সফলতা পায় নুর্নবার্গ এবং এরপর তারা ফুটবলের প্রতি বেশি নজর দেয়। অতএব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর স্থাপিত হল ফুটবল ক্লাব নুর্নবার্গ। নুরেম্বার্গ, বাভারিয়ায় অবস্থিত এই ক্লাবটির বর্তমান হোম ভেনু ম্যাক্স মরলন স্টাডিয়ন(ধারণহ্মমতা ৫০০০০ হাজার)। ক্লাব ইতিহাসের শুরুতে তারা দক্ষিণ জার্মান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে এবং ১৯১৬ সালে তাদের প্রথম শিরোপা জয় করে। মাত্র ৪ বছর পরেই স্বাদ পায় নিজেদের প্রথম জার্মান চ্যাম্পিয়নশিপের। ডের রুহরাইশদের রয়েছে একটি লজ্জাজনক রেকর্ড; বুন্দেসলিগা থেকে তারাই সবচেয়ে বেশি বার রেলিগেটেড হয়েছে (৮)। দলটির হোম কিট কালার কালো-লাল ও এওয়ে কিট কালার সাদা-লাল।

১৯১৯ সনে মাঠের ভেতর ও বাহিরে তাদের নৈপুণ্য ও গ্ল্যামর দেখে তাদেরকে ”ডের ক্লাব” এর ডাকনাম দেয়া হয়। বুন্দেসলিগা চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত ডের ক্লাব এর যত সব সাফল্য। ১৯২৭ সাল থেকে খেলার গতি বাড়ায় ও এই সময়ের মধ্যে অন্যান্য শক্তিশালী দলের উত্থান হওয়ায় (যেমন শালকে ০৪) তাদের আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওবেরলিগা সাডের মতন অন্যান্য স্টেট লেভেলের শিরোপার স্বাদ পায় তারা। ১৯৬৩ সালে ১৬ দলের নতুন জার্মান প্রথম বিভাগীয় লিগ, বুন্দেসলিগার জন্য নুর্নবার্গকে নির্বাচন করা হয়। প্রথম কয়েক মৌসুম মোটামুটি পারফর্ম করে পার করে নুর্নবার্গ। তবে ৫ বছরের মধ্যেই তারা তাদের প্রথম ও একমাত্র বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতে নেয়। কিন্তু এরপর দলের ম্যানেজার দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের হটিয়ে পরের মৌসুমের জন্য ৯ জন নতুন, তরুণ খেলোয়াড় নেয়ায় তাদেরকে দ্বিতীয় বিভাগে অবনমিত করা হয়!

এরপর ৯ বছর লেগে যায় দলটিকে প্রথম বিভাগে ফিরে আসতে। কিন্তু পরের সময়গুলো ও তাদের সুখকর ছিলনা। ১৯৮৮ পঞ্চম স্থানে লিগ শেষ করা ছাড়া তারা রেলিগেশনের আশেপাশে লিগ শেষ করেছে এবং বেশ ক বার রেলিগেটেডও হয়েছে। ১৯৯০ সালে, বুন্দেসলিগা ২ এ থাকাকালীন, অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগে ক্লাবটি যার ফলে তাদের কাছে থেকে ৬ পয়েন্ট মাইনাস করা হয় এবং ফলাফল বুন্দেসলিগা ৩ এ অবনতি। তবে ১৯৯৯ সালে নুর্নবার্গ এর সাথে ঘটে যায় তাদের সবচেয়ে ও বুন্দেসলিগা ইতিহাসের অন্যতম দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা। শেষ ম্যাচ ডেতে ১২তম অবস্থানে থাকা কালো-লাল জার্সিধারীরা রেলিগেশন শঙ্কায়
থাকা ফ্রাঙ্কফুর্টের চেয়ে ৩ পয়েন্ট ও ৫ গোল এর ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ঘরের মাঠে দুর্বল ফ্রেইবুর্গের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয় বাভারিয়ান দলটি ও শক্তিশালী কাইজারস্লটার্নকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেই ফ্রাঙ্কফুর্ট। ফ্রাঙ্কফুর্টের চেয়ে কেবল কম গোল করায় তাদের পড়তে হয় আবারও সেই হতাশাজনক রেলিগেশন ফাঁদে।

এফসি নুর্নবার্গ : ফিরে পাবে কি সেই গৌরবের দিন আর?

শত্রুতা – নুর্নবার্গ এর সবচেয়ে বড় রাইভাল বাভারিয়ার আরেকটি দল, গ্রেউথার ফুর্ত। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই দুই দল একে অপরের সবচেয়ে বেশি বার মুখোমুখি হয়েছে (২৫৮) এবং আগেরকার সময়ে সবচেয়ে সফল দুটি দল ছিল। নুর্নবার্গ এর আরেক রাইভাল, বাভারিয়ান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। মূলত দুই দলের একই প্রদেশে অবস্থান ও জার্মানি সবচেয়ে সফল দুটি দল হওয়ায় এই বৈরিতার যথাযথ কারণ।

রেকর্ড ও ট্রফির লিস্টঃ

>৬০ বছর ধরে রেকর্ড মিয়েস্তারের খেতাব(সবচেয়ে বেশিবার বুন্দেস্লিগা জেতার খেতাব; ১৯৮৭ সেই খেতাব বায়ার্ন এর দখলে)

> ৯* জার্মান চ্যাম্পিয়ন, ৪* বুন্দেস্লিগা ২ চ্যাম্পিয়ন, ৪* ডিএফবি কাপ চ্যাম্পিয়ন, একবার উয়েফা ইন্টারটোটো কাপ বিজয়ী।

ক্লাব ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কিছু খেলোয়াড় – আন্দ্রেয়াস কপকে, ম্যাক্স মরলক, স্টেফান কিসলিং

লেখা – নাঈম আহমেদ

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 − twelve =