এত প্রতিক্রিয়াশীল কেন আমরা!

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলগুলি প্রায় প্রতি মৌসুমেই টি-টোয়েন্টির জার্সি চেঞ্জ করে। অদ্ভূত সব কালার, ডিজাইন প্রায়ই দেখা যায়। ওয়ানডের জার্সিও চেঞ্জ হয় অনেক সময়। সেই চেঞ্জ মানে শুধু ডিজাইন চেঞ্জ না, রঙসহ আমূল বদলে যায়। টি-টোয়েন্টি ফান ক্রিকেট, কালারফুল একটা ব্যাপার। জার্সিতেও তাই নানা বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হয়, কালারফুল করার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশে এই ধারা ছিল না। এখন চালু হলো। ক্ষতি কি!

লাল-সবুজ তো আছেই! লালটা বেশি, এই যা। হ্যাঁ, এই লাল অনেকের পছন্দ হতে না পারে। অন্যরকম লাল পছন্দ হতে পারে..হালকা-গাঢ়-মেরুন…। কিংবা ডিজাইন পছন্দ নাও হতে পারে। পছন্দ তো আপেক্ষিক। অনেকেরই আবার এটাই পছন্দ হবে। দুনিয়ার সবকিছুই তো এইরকম। আর এই টি-টোয়েন্টি জার্সি তো চিরন্তন না! পছন্দ-অপছন্দ অবশ্যই থাকবে। সেটা আমরা প্রকাশও করতে পারি। কিন্তু সেটা প্রকাশের একটা ধরণ তো আছে! ‘এই জার্সি যে বানাইছে তারে পিটানো উচিত’, ‘ক্ষ্যাত জার্সি’, ‘এই বাংলাদেশ চিনি না, এই জার্সি মানি না’, ‘কোন বলদ এই জার্সি পছন্দ করছে’…এই ধরণের কথায় নিউজফিড ভেসে যাচ্ছে।

তাহলে শুনুন বলি। আমাদের ক্রিকেটারদেরই পছন্দ এটা। অধিনায়ক হওয়ার পরই টি-টোয়েন্টিতে একটু ভিন্ন ও কালারফুল জার্সির ভাবনা মাশরাফির মাথায় এসেছে। এখন সেটা বাস্তবায়িতও করা গেল। অধিনায়কের যুক্তি, ‘টি-টোয়েন্টিতে একটু কালারফুল কিছুই থাকা উচিত। সবার মন তাতে প্রফুল্ল থাকবে। লাল রঙটায় একটু উৎফুল্ল মনোভাব, একটু উৎসবের আবহ, এসব বেশি হয়।” তাছাড়া, নতুনত্বের ছোঁয়া দলকে একটু চাঙা করে, এই ভাবনাও আছে অধিনায়কের।

অনেকের পছন্দ হয় নি। কিন্তু মাশরাফি জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররাই এই জার্সি পছন্দ করেছে। তারা এই জার্সিতেই ম্যাচ খেলতে চান। আর হ্যাঁ, পাশাপাশি সবুজ জার্সিও থাকবে। এবং লাল জার্সি আর সবুজ ট্রাউজারে খেলার একটা ভাবনাও আছে। শেষ পর্যন্ত এটিই হতে পারে।

যাই হোক, মূল কথা হলো, ভালো লাগা-খারাপ লাগা থাকবেই। তাই বলে সেটির প্রকাশে এরকম বিস্ফোরণ কেন? পছন্দ-অপছন্দের প্রকাশটা সিম্পল রাখা যায় না? স্রেফ টি-টোয়েন্টি জার্সিই তো!

সব কিছু নিয়েই আমরা এত বেশি প্রতিক্রিয়াশীল, মাঝে মধ্যে মনে হয়, আমরা বেঁচে আছি কিভাবে! প্রতিদিনই কয়েকবার করে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার কথা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 5 =