এগোবে কিভাবে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন?

শুনলাম,মাবিয়াকে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং জাতীয় হকি দলের বিশ্বমানের বিদেশী কোচের ব্যয়ভার গ্রহণ করছে বিসিবি।

অসাধারণ এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ। বিসিবিকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মন থেকেই। 🙂

কিন্তু একই সাথে এটা কিন্তু আমাদের মুদ্রার উল্টোপিঠটাও দেখিয়ে দিল। একদিকে ক্রিকেটের উত্তরোত্তর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলা, একের পর এক স্পন্সরের আনাগোনা। অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য খেলাগুলোর অসম্ভব দৈন্যদশা।

কারণ একশ’টা দেখানো যায়, কিন্তু কোনোটাই জাস্টিফাইড হয় না। কারণ তাঁদের সাথে আমরা অন্যায় করি। শুধু আমরা আমজনতাই না, বরং ফেডারেশনগুলোর দায় এতে সবচেয়ে বেশি।

প্রায় সবগুলো ফেডারেশনে উচ্চ পর্যায়ের পদে বসে আছে অর্থলোভী অযোগ্য নামমাত্র কিছু ‘সংগঠক’, যাদের খেলার মানোন্নয়ন থেকে নিজের মানোন্নয়ন বেশি প্রাধান্য পায়।

প্রায় সবগুলো ফেশারেশনেই বিদেশে ট্যুর থাকলে খেলোয়াড়দের চেয়ে অফিসিয়ালস বেশি যায়। কখনো কখনো খেলোয়াড়দের সাথে কোচ আর ফিজিও যায় না, অথচ অফিসিয়ালদের যেতেই হবে! ক্যান ইউ বিলিভ দ্যাট?

মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন নেই, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন নেই, নিয়মিতভাবে নতুন মুখ উঠে আসে না। সত্যিকারের সংগঠকেরা এগিয়ে আসেন না, এগিয়ে এলেও ক্ষমতালোভী সিন্ডিকেটের জন্য কিছু করতে পারেন না। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নজরকাড়া কোনো পারফরম্যান্স হয় না, আর হলেও দুইদিন পর সবাই ভুলে যায়। ফলে স্পন্সরশীপ পায় না ফেডারেশন, খেলোয়াড়দের কথা তো বাদই দিলাম!

সংগঠকদের একতরফা ধুলাম, সমর্থকদের কথাও বলা হলো। কিন্তু এদেরই কি সব দোষ? খেলোয়াড়েরা কি কিছুই করেন না? তাঁরা সাধু-সন্ত গোছের?

নোপ! ফুটবলারদের কথাই ধরেন। কতজন আছে, যারা পরিপূর্ণভাবে পেশাদার? প্রায়ই শোনা যায়, খ্যাপ খেলতে গিয়ে অমুক ফুটবলার ইনজুরিতে। আশ্চর্য!

কাউন্টার অ্যাটাক আসবে আমার বিরুদ্ধে এইবার, আরে ভাই টাকাই তো পায় না ওরা। টাকার জন্য যায় খ্যাপ খেলতে। হুম, তো? টাকা তো এম্নেই আসে না, তাই না? গিভ এন্ড টেইক। আপনি দেশের জন্য পারফর্ম না করলে, নিজের সবটুকু উজাড় করে না দিতে পারলে টাকাটা কি উড়ে আসে?

ড্যাম ইট, পুরোটা লেখায় শুধু টাকা, টাকা আর টাকা। কী করার আছে? পুরো দুনিয়া এই একটা জিনিসের উপরেই তো চলছে।

তো এখন বলেন, এগোবে কিভাবে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 − six =